নাটোরে শেষ সময়ে  জমে উঠেছে  কোরবানির পশুর হাট

প্রকাশিত

দেলোয়ার হোসেন লাইফ, নাটোর প্রতিনিধি –
ঈদুল আজহা উপলক্ষে কোরবানির পশুর হাট জমে উঠেছে নাটোরে। গবাদি পশুর দাম আয়ত্তের মধ্যে হওয়ায় ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়েই খুশি।
গবাদি পশুর মালিকদের দাবি, সামনের কয়েকদিনেও যদি ভারত থেকে পশু আমদানি না হয়, তবে তারা লাভবান হতে পারবেন তারা।
সদর উপজেলার ছাতনী ইউনিয়নের ফকিরপাড়ার খামারি দুলাল মোল্লা  চ্যানেল সিক্স কে জানান , তিনি আসন্ন ঈদকে টার্গেট করে ৬টি ষাঁড় পালন করেছিলেন। ইতোমধ্যেই তিনটি বিক্রি করা হয়েছে। দামও সন্তোষজনক।
সদর উপজেলার দিঘাপতিয়া এলাকার আলহাজ রুস্তম আলী জানান, তিনিসহ তার অপর ছয় বন্ধু কোরবানির জন্য একটি ষাঁড় কিনেছেন। প্রায় সাড়ে তিনমণ থেকে চারমণ মাংস হবে। দাম ৭২ হাজার টাকা। দাম সন্তোষজনক বলেও জানান তিনি।
অপরদিকে দিঘাপতিয়া বাজার এলাকার গৃহিণী সুন্দরী বেগম জানান, আসন্ন কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে তিনি একটি খাসি কিনেছেন। খাসিটির দাম সাড়ে ৫ হাজার টাকা। অথচ একই রকমের খাসি অন্য বছর ৯ থেকে ১০ হাজার টাকায় কিনতে হতো।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. বেলাল হোসেন জানান, আসন্ন ঈদে নাটোরে কোরবানি পশুর চাহিদা এক লাখ ৭২ হাজার। কিন্তু স্থানীয়ভাবে এক হাজার ২৩৮ জন খামারি এবছর ৩ লাখ ৯০ হাজার গবাদি পশু পালন করেছেন। এর বাইরেও ব্যক্তি পর্যায়ে অনেকে গবাদি পশু পালন করে হাটে বিক্রি করছেন।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘জেলার ২২টি হাটে গবাদি পশু বিক্রি হচ্ছে। এসব হাটে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা, উপজেলা সহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ছাড়াও মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা মেডিক্যাল টিম স্থাপন করে পশু তদারকি করছেন। তারা অসুস্থ গবাদি পশু চিহ্নিতকরণ ও প্রাথমিক চিকিৎসা দান, গর্ভ পরীক্ষাসহ ভারতীয় বা অসুস্থ পশু হাটে আসছে কিনা তা মনিটরিং করছেন।
তিনি আরও জানান, এখনও স্থানীয় হাটগুলোতে ভারতীয় গবাদি পশু পাওয়া যায়নি। আর সামনের কয়েকদিনে তা আসবে বলেও মনে হয় না। তাহলে স্থানীয় খামারি ও ব্যক্তি পর্যায়ে গবাদি পশু পালনকারী কৃষকরা যেমন ভাল দাম পাবেন, তেমনি স্থানীয় অধিবাসীরা স্বাস্থ্যসম্মত ও মানসম্মত পশু কোরবানি দিতে পারবেন।