ফরিদপুরে সংঘর্ষ : কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতাসহ ৩ জন আটক , ৩৬ রাউন্ড গুলিসহ অস্ত্র উদ্ধার

প্রকাশিত

মাহবুব হোসেন পিয়াল,ফরিদপুর প্রতিনিধি-

ফরিদপুরের নগরকান্দায় আওয়ামী লীগের দুই পক্ষে সংঘর্ষের সময় গুলিতে দুইজন নিহত এবং ১৪ জন আহত হওয়ার ঘটনায় যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হানিফ মিয়া হৃদয় ও তার দুই সহযোগী আব্দুস সাত্তার ও তাপসকে আটক করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি শর্টগান, ৩৬ রাউন্ড গুলি ও গাড়ি উদ্ধার করা হয়।

শনিবার (১০ আগস্ট) রাত ১০টার দিকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার পাচ্চর এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।

ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মো. আলীমুজ্জামান (বিপিএম) বলেন, ‘ঘটনার পর থেকেই পুলিশের একাধিক টিম তাদের আটকে অভিযান চালায়। রাত ১০টার দিকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের মাদারীপুরের শিবচর থানা পুলিশের সহযোগিতায় পাচ্চর এলাকা থেকে যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হানিফ মিয়া হৃদয় ও তার দুই সহযোগী আব্দুস সাত্তার ও তাপসকে আটক করা হয়। এ ব্যাপারে মামলার প্রস্তুতি চলছে।’

শনিবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ফরিদপুরের নগরকান্দায় আ.লীগের দুই পক্ষে সংঘর্ষের সময় গুলিতে দুইজন নিহত এবং ১৪ জন আহত হন। নগরকান্দা উপজেলার কাইচাইল ইউনিয়নের কাইচাইল মধ্যপাড়া দারুল উলুম মাদরাসার নিকট এ ঘটনা ঘটে।

ওই ইউনিয়নে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কবির হোসেন ঠান্ডুর সঙ্গে তার চাচাতো ভাই যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হানিফ মিয়া হৃদয়ের বিরোধ চলে আসছিল। এ বিরোধকে কেন্দ্র করে প্রায়ই ওই দুই পক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটত। এর জের ধরে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় নিহত দুইজন ইউপি চেয়ারম্যানের সমর্থক। তারা হলেন ইউপি চেয়ারম্যানের চাচা মৃত আবু বক্করের ছেলে রওশন আলী মিয়া (৫২) ও তার ভাতিজা রায়হান মিয়ার ছেলে তুহিন মিয়া (২৫)।

গুলিতে আহতদের প্রথমে নগরকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। কর্তব্যরত চিকিৎসক সাতজনকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আসার পর জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুইজনকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় আহত রায়হান উদ্দিন মিয়া (৬৫), আনিস মীর (২০), গোলাম রসুল বিপ্লব (৩০), গোলাম মওলা (৩০), আবুল কালামকে (৩৫) ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অপরদিকে আনিস মিয়া (২৪), ফারুক মাতুব্বর (৪০), চুন্নু মিয়া (৪৮), সুমন মিয়া (২৮) ও বাবলু মিয়াকে নগরকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।