নেত্রকোণায় স্বামীকে বেঁধে রেখে স্ত্রীকে গণধর্ষণ, গ্রেপ্তার ৪

প্রকাশিত

রাজীব সরকার, নেত্রকোণা প্রতিনিধি- ঈদের ছুটিতে ময়মনসিংহের ভালুকা থেকে নেত্রকোণার কলমাকান্দায় আত্মীয় বাড়িতে বেড়াতে আসার পথে খাবারের হোটেল কক্ষে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন এক গৃহবধূ (২১)।

শুক্রবার রাতে সদর উপজেলার রাজেন্দ্রপুর বিসিকশিল্প এলাকায় ওই হোটেলে পাশের কক্ষে স্বামীকে বেঁধে রেখে গৃহবধূকে ধর্ষণের এই ঘটনা ঘটে। ধর্ষণের অভিযোগে ওই হোটেলের ব্যবস্থাপকসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন, হোটেলের ব্যবস্থাপক মাহফুজুল ইসলাম ওরফে মামুন মিয়া (৩৫), মো. সাইদুর রহমান (৩০), জামান বাশার (২৭), রেজাউল করিম ওরফে পাবেল (২৮)। তাঁদের মধ্যে মামুন মিয়ার বাড়ি পূর্বধলার কৈলাটি গ্রামে। আর বাকি তিন জনের বাড়ি চল্লিশা রাজেন্দ্রপুর এলাকায়।

স্থানীয়বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ধর্ষণের শিকারওই গৃহবধূর গ্রামের বাড়ি কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার একটি গ্রামে। তিনি স্বামীর সঙ্গে ভালুকা সিডস্টোর এলাকায় থাাকেন। তার স্বামী সেখানে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকুরি করেন। ঈদের ছুটিতে  শুক্রবার বিকেলে তারা সেখান থেকে বাসে করে নেত্রকোণার কলমাকান্দায় এক আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়ানোর উদ্দেশ্যে রওনা হন। ওই দিন রাত সাতটার দিকে তারা চল্লিশা রাজেন্দ্রপুর বিসিকশিল্প এলাকায় নেমে পড়েন। এ সময় প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে ওই গৃহবধূকে স্বামী নিকটেই সারিন্দা নামে একটি ফাস্টফুড হোটেলে নিয়ে যান। নিরিবিলি পরিবেশে ওই হোটেলটির অবস্থান। পরে সেখানে ওই গৃহবধূ টয়লেট থেকে বের হলে তাকে হোটেলের ব্যবস্থাপকের সহাযোগিতায় এক কর্মচারী একটি কক্ষে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করেন। ওই কক্ষে তখন আরো পাঁচজন প্রবেশ করে ধর্ষণকরেন। এ সময় স্বামী অপর একটি কক্ষে অপেক্ষা করছিলেন। তিনি বিষয়টি টের পেয়ে প্রতিবাদ করতে চাইলে ওই যুবকেরা তাকে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে কক্ষে বেঁধে রাখে। পরে বিভিন্ন ভয়-ভীতি দেখিয়ে রাত একটার দিকে তাদেরকে ছেড়ে দেওয়া হয়। সেখান থেকে বেরিয়ে ওই গৃহবধূকে তার স্বামী নেত্রকোণা আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করে রেখে নেত্রকোণা মডেল থানায় যান এবং পুলিশকে বিষয়টি জানান। পুলিশ অভিযান চালিয়ে শনিবার ভোর পর্যন্ত হোটেলের ব্যবস্থাপকসহ চারজনকে আটক করে।

এঘটনায়ওই গৃহবধূ বাদী হয়ে শনিবার দুপুরের দিকে নেত্রকোণা মডেল থানায় ছয়জনকে আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। মামলার আসামিরা হলেন, হোটেলের ব্যবস্থাপক মাহফুজুল ইসলাম ওরফে মামুন মিয়া (৩৫), চল্লিশা রাজেন্দ্রপুর এলাকার মো.সাইদুর রহমান (৩০), জামান বাশার (২৭), রেজাউল করিমওরফে পাবেল (২৮), এনামুল হক (২৭), মো.জিহান (২৭) ও মো.রাসেল (৩০)।

এব্যাপারে নেত্রকোণা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.তাজুল ইসলাম বলেন, ‘এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। মামলার চারজন আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বাকি তিন আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। আশা করা যাচ্ছে শিগিরই তাদেরকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।’