সরাইলে কলেজ ছাত্র ইকরাম হত্যার রহস্য উন্মোচন ৩ জন গ্রেপ্তার

প্রকাশিত

সরাইল, প্রতিনিধি -ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরাইলে কলেজ ছাত্র ইকরাম হোসেন (১৬) হত্যার রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ। ইকরাম হত্যার ঘটনায় দুইজনকে জিজ্ঞাসা বাদের  জন্য আটক করেছিল থানা পুলিশ। আটককৃতরা হলো প্রতিবেশী নাজমা বেগম (৪০)ও তার ভাই সাবেক ইউপি সদস্য নাজিম উদ্দীন(৫৫)।

 

 

পরে সরাইল সদর উপজেলার বড্ডাপাড়া গ্রামের মজনু মিয়ার ছেলে ইমরানুল হাসান সাদী(১৯) কে আটক করে পুলিশ।
 সাদীকে জিজ্ঞাসা বাদ করলে আসল রহস্য বেরিয়ে আসে। সোমবার আদালতের কাছে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি দেয় সাদী । রবিউল্লাহ’র ছেলে  শিমূল মিয়া (২৮)ও সোহাগ মিয়া(২৪),  এবং ইমরানুল হাসান সাদী মিলে  ইকরাম কে হত্যা করে বলে  যানায় সাদী । সকাল হয়ে যাওয়ার ফলে মরদেহটি তরিঘড়ি করে খাটের নিচে ফেলে চলে যায় তারা। আর এর মধ্যেই বেড়িয়ে আসে ইকরাম হত্যার   আসল রহস্য।
এই ঘটনায় ৫ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরো ৫/৬ জনকে অজ্ঞাত আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করে নিহতের পিতা মোঃ শহিদুল ইসলাম।
উল্লেখ্য গতকাল রোববার কালিকচ্ছ বার জিবি পাড়া খালাত বোন লাভলী বেগমের বাড়ির খাটের নিচ থেকে উদ্ধার করে কলেজ ছাত্র ইকরাম হোসেন(১৬) এর বস্তাবন্দি মরদেহ।  ইকরাম তার খালাত বোন লাভলী বেগমের     বাড়িতে থেকেই পড়াশোনা করতো। সে সরাইল সরকারি কলেজের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলো।
নিহতের পরিবার সূত্রে জানাযায়,  বছর পূর্বে ইকরামের খালাতো বোনের  মেয়ে সুমাইয়াকে ইভটিজিং করতো মোঃ শিমুল মিয়া  ।  ইকরাম তাতে বাধা দিয়েছিলো, একটা সময় এই বিষয়ে সুমাইয়ার পরিবার তৎকালীন  উপজেলা নির্বাহী  কর্মকর্তা উম্মে ইসরাত বরাবর প্রতিকার চেয়ে আবেদন করে। তখন শিমূল মিয়াকে    নির্বাহী কর্মকর্তা ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ৮ মাসের সাজা প্রদান করে জেল হাজতে প্রেরণ করে। ৩ মাস পরেই শিমুল সাজা ভোগ করে বেরিয়ে আসে। এসে ইকরাম এবং তার বাবা শহিদুল ইসলাম  কে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। এরপর থেকে ইকরাম কে মেরে ফেলার সুযোগ খুজতে শুরু করে শিমুল। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গত রোববার রাতে কোন এক সময়  ইকরাম কে মেরে ফেলে খুনীরা। আর শিমূল কে সকল বিষয়ে সাহায্য করতো নাজমা বেগম ও তার ভাই নাজিম উদ্দীন। আর ইকরাম হত্যার সাথে তারা জড়িত বলে জানায় নিহতের পিতা। ইকরাম কে হারিয়ে নিহতের পরিবারে শোকের ছায়া নেমে আসে।  ছেলেকে হারিয়ে তার মা বাবা বার বার মূর্ছা যাচ্ছিলেন।
চাঞ্চল্যকর এই হত্যার রহস্য খুজতে গিয়ে এটি বেরিয়ে এসেছে। কলেজ ছাত্র ইকরাম হত্যার, একদিন না পেরোতেই রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ।
এই বিষয়ে সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাহাদাত হোসেন ঈদের দিন বিকেলে সাংবাদিকদের বলেন, আটককৃত ইমরানুল হাসান সাদী আদালতের কাছে স্বীকার করে হত্যার কথা। এই হত্যাকান্ডের  সাথে  নাজমা বেগম ও তার ভাই সাবেক ইউপি সদস্য নাজিম উদ্দীনের সম্পৃক্ততা রয়েছে। তাদের  ৩ জনকে আটক করে জেল হাজতে  প্রেরণ করা হয়। হত্যাকাণ্ডের অপর দুই আসামী শিমূল মিয়া ও সোহাগ মিয়া  পলাতক রয়েছে, তাদের  গ্রেফতারে তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।