সিরাজগঞ্জে একই রাতে দুই স্কুল ছাত্রীকে বাল্যবিবাহ থেকে রক্ষা করলেন এসিল্যান্ড

প্রকাশিত

সোহাগ হাসান জয়,সিরাজগঞ্জ-
সিরাজগঞ্জ সদরে একই রাতে দুই স্কুল ছাত্রীকে বাল্যবিবাহ থেকে রক্ষা করেছেন সদরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আনিসুর রহমান। মঙ্গলবার রাতে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বাগবাটি ইউনিয়নের পিপুলবাড়ীয়া গ্রামে দশম শ্রেণীর ছাত্রী মোছাঃ রেশমা খাতুন (১৫) এবং রতনকান্দি ইউনিয়নের ফুলবয়ড়া গ্রামে অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী মোছাঃ লিপি খাতুন (১৪) এর বাল্যবিবাহ বন্ধ করা হয়।
আদালত সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সিরাজগঞ্জ সদরের পিপুলবাড়ীয়া গ্রামে সংগীয় ফোর্স নিয়ে কনের বাড়ীতে উপস্থিত হন ভ্রাম্যমাণ আদালত। তখন কনের বাড়ীতে কনে সিরাজগঞ্জ সদরের পিপুলবাড়ীয়া আঃ রশিদ এর মেয়ে রেশমা খাতুন (১৫) এর সাথে বর একই উপজেলার একডালা গ্রামের আঃ সাত্তার এর পুত্র রোকনুজ্জামান (২৫) এর বিয়ের আয়োজন চলছিল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে কাজী পালিয়ে যায়। কনে স্থানীয় উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর ছাত্রী। কনে অপ্রাপ্তবয়স্ক। এরপর ভ্রাম্যমাণ আদালত বাল্যবিবাহ বন্ধ করে কনের বাবা আঃ রশিদকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন এবং কনের বাবার কাছ থেকে কনে প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত বিয়ে দিবে না বলে মুচলেকা নেন।
অপরদিকে রতনকান্দি ইউনিয়নের ফুলবয়ড়া গ্রামে বাল্যবিবাহ বন্ধে অভিযান চালান ভ্রাম্যমাণ আদালত। তখন কনের বাড়ীতে কনে ফুলবয়ড়া গ্রামের হেলাল উদ্দিন এর কন্যা লিপি খাতুন (১৪) এর সাথে বর একই উপজেলার চরপাড়া গ্রামের মোঃ ছোহরাব আলী এর পুত্র মোঃ সামিদুল ইসলাম (২৫) এর বিয়ের আয়োজন চলছিল। কনে স্থানীয় উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী। এরপর ভ্রাম্যমাণ আদালত বাল্যবিবাহ বন্ধ করে কনের বাবা হেলাল উদ্দিনকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন। পরে কনের বাবার কাছ থেকে কনে প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত বিবাহ দিবেন না বলে মুচলেকা নেয়া হয়। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন পৌর ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মোঃ নজরুল ইসলাম ও আনসার ব্যাটালিয়নের সদস্যবৃন্দ।