তিনডা পোলায় মোরে জিগায় না !

প্রকাশিত

এস.এম. আকাশ, পিরোজপুর –
বৃষ্টি পড়ছিলো দিনভর। মা বৃষ্টি মাথায় নিয়ে কাউখালি বন্দরে মানুষের কাছে হাত পাতছেন কিছু পাওয়ার আশায়। কেউ দিচ্ছেন আবার কেউ মাফ করেন বলে ফিরিয়ে দিচ্ছেন মাকে। ঈদের আনন্দ কাটতে না কারটেই এমন দৃশ্ব্য চোখে পড়লো কাউখালীতে। দৃশ্যটি মনে নাড়া দিলো। কাছে গিয়ে জানতে চাইলে বৃদ্ধা মা জানালো- মোর তিনডা পোলা। ওরা মোরে (মা) জিগায় না। বিয়া হইরা ওরা বৌ লইয়া থাহে। মুই এহোন বুড়া অইছি, বেরামে ধরছে। মুই খামু কি! হেরগাইয়া মুই রাস্তায় রাস্তায় আত পাতি। এভাবেই দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে কথাগুলো বললেন সত্তরউদ্ধ বৃদ্ধা মা মাছুমা বেগম। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধকালীন মৃত সাবুর আলীর স্ত্রী মাছুমার তিন ছেলে ও এক মেয়ে থাকা সত্বেও কাউখালী উপজেলার ৩নং সদর ইউনিয়নের মুক্তারকাঠী গ্রাম থেকে ভিক্ষার সন্ধানে এসেছেন মাছুমা বেগম।
এক ছেলে দিনমজুর ও দুই ছেলে রিক্সা চালিয়ে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে জীবকা নির্বাহ করলেও বৃদ্ধা মায়ের একমুঠো ভাত জোটেনা তাদের ঘরে। বয়স্ক ভাতার নামমাত্র টাকা আর সারাদিন মানুষের কাছে হাত পেতে প্রতিদিন আধাপেট খেয়ে প্রতিদিন ভোর হয় তার। নিজের মাথাগোজার ঠাই না থাকায় মেয়ের বাড়ির এককোনায় রাতকাটান মাছুমা।
বৃদ্ধা মা মাছুমা জানান, যুদ্ধে স্বামী মারা যাবার পর ছেলে মেয়ে নিয়ে অনেক কষ্ট করেছি। এখন ছেলে-মেয়ে বড় হয়েছে, বিয়ে করেছে, সন্তান হয়েছে। এখন আমাকে আর জিগ্যাস করেনা। পেটের দায়ে ভিক্ষা করে খাই। ছেলেদের সাথে দেখা হলেও কিছু বলেও না দেয়ও না।
কাউকালী প্রতিবন্ধী স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা ও কাউখালী উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি আব্দুল লতিফ খসরু জানান, সন্তান থাকতেও এই বৃদ্ধা মাকে বৃষ্টিতে ভিজে ভিক্ষা করতে দেখে শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় সামর্থ অনুযায়ী মাকে কিছু সহয়তা করলাম। আগামী দিনগুলোতে কিছু প্রয়োজন হলে বাসায় আসার জন্য বলেছি। তিনি বৃদ্ধা মায়ের সাহায্যের জন্য সমাজের বিত্ববান ব্যক্তিদের এগিয়ে আসার আহবান জানান।