হাওড়ের ‘বালিখলা বেড়িবাঁধ’, দর্শনার্থীদের এক নতুন আকর্ষন

প্রকাশিত

এ.এম.উবায়েদ, কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি-
কিশোরগঞ্জ হাওরসমৃদ্ধ জেলা। বর্ষাকালে হাওর হয়ে উঠে অপরুপ সুন্দর। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসছেন ভ্রমণপ্রিয় মানুষ। ‘বালিখলা বেড়িবাঁধ’ এখন হাওর জেলা কিশোরগঞ্জের নতুন আকর্ষন। ঈদের দিন থেকে ১৬ আগষ্ট শুক্রবার পর্যন্ত লক্ষাধিক দর্শনার্থী শুধুমাত্র করিমগঞ্জ উপজেলার বালিখলা ও হাসানপুর ব্রিজ ভ্রমনে এসেছেন।
করিমগঞ্জ উপজেলার বালিখলা ও হাসানপুর ব্রিজ এবার হাওর আনন্দে নতুনমাত্রা যোগ করেছে। বিশাল পিচঢালা সড়কের দুই ধারে হাজার হাজার জলযানের উপস্থিতি এক অপূর্ব দৃশ্যের সূচনা করেছে। ভোর হতেই শত শত মানুষ বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে বালিখলার সৌন্দর্য দেখতে ভিড় করছে। জলের কাছাকাছি আর ঢেউয়ের সান্নিধ্য, মন ভেজাতে বালিখলা বেড়িবাঁধে ছুটে আসেন হাজারো ভ্রমণপিপাসুরা। নীল আকাশ ও জলের এক অভূতপূর্ব বন্ধন তৈরি হয়েছে এই বালিখলা বেড়িবাঁধে। করিমগঞ্জ উপজেলার নতুন সম্ভাবনাময় পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে খুব দ্রুতই ভ্রমণপিপাসু মানুষের মন জয় করেছে এ জায়গাটি।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ ইউটিউব চ্যানেলে বালিখলা বেড়িবাঁধের বিভিন্ন সৌন্দর্য তুলে ধরেছেন অনেকেই। প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাওরের সৌন্দর্য উপভোগ করতে হাজার হাজার পর্যটক ভিড় জমাচ্ছেন।করিমগঞ্জের রৌহা থেকে বালিখলা বাজারে পৌঁছানোর যে রাস্তা তার দু’পাশের সৌন্দর্যই পর্যটকদের বেশি আকর্ষিত করে। মনে হয় সমুদ্রের মাঝে সরু রাস্তার দু’ধারে অথৈ জল রাশি। আর মাঝ হাওরে নৌকায় থাকা অবস্থায় দূর থেকে একেকটি গ্রামকে একেকটি দ্বীপ মনে হয়।
নতুন সম্ভাবনাময় পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে বালিখলা বেড়িবাঁধ দেশের মধ্যে পর্যটনে মডেল হিসেবে মানুষের মনে স্থান করে নিয়েছে। ভ্রমনপিপাসুরা এখানে এসে স্থানটিকে মিনি কক্সবাজার বলে অভিহিত করছেন।

 

 


বালিখলা বেড়িবাঁধে ঘুরতে আসা একজন দর্শনার্থী আব্দুর রব জানান, কিশোরগঞ্জে হাওরাঞ্চলে পর্যটনের সম্ভাবনার এক নব দিগন্তের সূচনা হয়েছে। শুধু সরকারি উদ্যোগে সেটিকে সজ্জিত করা গেলেই দেশ-বিদেশের পর্যটকদের ঢল নামবে হাওরাঞ্চলে। অন্যদিকে নতুন কর্মসংস্থানেরও সুযোগ সৃষ্টি হবে।
কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক সারওয়ার মুর্শেদ চৌধুরী বলেন, এবার সবাই যেন হাওরকেই ঈদ ভ্রমণের প্রধান কেন্দ্রস্থল হিসেবে বেছে নিয়েছেন। তিনি মনে করেন, হাওরকে নিয়ে পর্যটন শিল্প গড়ে তোলা সময়ের দাবি। তিনি এ ব্যাপারে পর্যটন করপোরেশন ও সংশ্নিষ্ট মন্ত্রণালয়ে কথা বলবেন এবং জেলার রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে আলাপ করে প্রয়োজনীয় প্রকল্প ও উদ্যোগ নেবেন।
বালিখলা বেড়িবাঁধে কিভাবে যাবেন: ঢাকা থেকে ট্রেন বা বাসযোগে কিশোরগঞ্জ জেলা সদরে পৌছাঁতে হবে। কিশোরগঞ্জ শহর থেকে বালিখলায় যাতায়াত খুব সহজ। শহরের একরামপুর থেকে সিএনজি বা অটোরিকশায় নিয়ামতপুরের রৌহায় যেতে হবে। ভাড়া জনপ্রতি ৪০/৫০ টাকা। নিয়ামতপুরের রৌহায় নেমে অটোরিকশায় বালিখলা বেড়িবাঁধে যেতে ২০ মিনিট সময় লাগবে। সবমিলিয়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে প্রায় ঘন্টাখানেক সময় লাগবে। সাথে করে শুকনো খাবার ও পানি নিতে পারেন।
কোথায় থাকবেন ও খাবেন: দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে যারা আসবেন, হাওর ভ্রমণ শেষে শহরের সার্কিট হাউস বা আবাসিক হোটেলে রাত্রিযাপন করতে পারবেন। কিশোরগঞ্জে শহরে বেশ কিছু ভালোমানের আবাসিক হোটেল রয়েছে।