জগন্নাথপুরে চুরির দায়ে রিকশা চালককে শিকলে বেধে পিটিয়ে হত্যা, নির্যাতনকারী গ্রেফতার

প্রকাশিত

জগন্নাথপুর প্রতিনিধি-
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে রিকশা চুরির দায়ে জামিল হোসেন (২৪) নামের এক রিকশা চালকে টানা ৩ দিন লোহার শিকলে বেধে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। সে নেত্রকোনা জেলার খালিয়াজুরি থানার আছাদপুর (নোয়াপাড়া) গ্রামের মৃত মফিজ আলীর ছেলে। সে দীর্ঘদিন ধরে জগন্নাথপুর পৌর এলাকার হাবিবনগর গ্রামের আবদুস সামাদের কলোনীতে বসবাস করতো। এ ঘটনায় নির্যাতনকারী ব্যক্তি সেকেল মিয়াকে (৪০) গ্রেফতার করেছে থানা পুলিশ। সে উপজেলার পাইলগাঁও ইউনিয়নের পাইলগাঁও গ্রামের এখলাছ মিয়ার ছেলে। ঘটনাটি ঘটেছে জগন্নাথপুর পৌর এলাকার হাবিবনগর গ্রামের ছিলিমপুর স্ট্রেট মার্কেটের নির্যাতনকারী সেকেল মিয়ার গ্যারেজে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানাযায়, হাবিবনগর গ্রামের ছিলিমপুর স্ট্রেট মার্কেটে সেকেল মিয়ার একটি গ্যারেজ রয়েছে। সেকেল মিয়ার একটি রিকশা চুরি হয়। এ চুরির দায় পড়ে রিকশা চালক জামিল হোসেনের ঘাড়ে। যে কারণে চুরি হওয়া রিকশার টাকার জন্য রিকশা চালক জামিল হোসেনকে টানা ৩ দিন গ্যারেজে লোহার শিকল দিয়ে বেধে অমানুষিক ভাবে মারপিট করে গ্যারেজ মালিক সেকেল মিয়া। এক পর্যায়ে নির্যাতনের শিকার জামিল হোসেন অসুস্থ্য হয়ে পড়লে ১৬ আগষ্ট শুক্রবার তাকে জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করলেও তাকে ওসমানীতে নিয়ে যাওয়া হয়নি। এরপর ঘটনার প্রায় ২ ঘন্টা পর হতভাগ্য রিকশা চালক জামিল হোসেনের মৃত্যু হয়।
খবর পেয়ে ১৭ আগষ্ট শনিবার সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মিজানুর রহমান পিপিএম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এছাড়া জগন্নাথপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী, ওসি (তদন্ত) নব গোপাল দাশ, থানার এসআই লুৎফুর রহমান ও এসআই রাজিব রহমানের নেতৃত্বে পুলিশ দল অভিযান চালিয়ে নির্যাতনকারী সেকেল মিয়াকে গ্রেফতার করেন এবং রিকশা চালক জামিল হোসেনের মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়। এ ব্যাপারে জগন্নাথপুর থানার এসআই লুৎফুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।