বড়াইগ্রামে গৃহবধুকে ধর্ষণ চেষ্টার বিচার জুতাপেটা

প্রকাশিত

নাটোর  প্রতিনিধি-
বড়াইগ্রামে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের এক গৃহবধুকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে অভিযুক্তকে সাতটি জুতার বাড়ি দিয়েই বিচার শেষ করা হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযুক্ত ভ্যানচালক বোরহান উদ্দীনের কাছ থেকে জরিমানা আদায় করা হলেও পুরো টাকাই প্রধানেরা ভাগ করে নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত বোরহান (৩৫) উপজেলার কুমরুল পূর্বপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুল জব্বারের ছেলে।
জানা যায়, গত ১১ আগষ্ট দুপুরে ভ্যানচালক বোরহান উদ্দিন কুমরুল গ্রামের এক ব্যাক্তির বাড়িতে বাজার থেকে কেনা চাল পৌঁছে দিতে যায়। এ সময় ঘরের ভেতরে ঘুমিয়ে থাকা গৃহবধুকে (৩২) একা পেয়ে তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। কিন্তু ঐ গৃহবধু ঘুম থেকে জেগে চিৎকার শুরু করলে বোরহান দ্রুত ভ্যান নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে বিষয়টি স্থানীয় গ্রাম প্রধানদের জানালে তারা থানায় যেতে নিষেধ করে গত মঙ্গলবার রাতে কুমরুল গ্রামের শ্রী লালুবাবুর বাড়িতে মিমাংসা বৈঠকে বসেন। সেখানে হিন্দু ধর্মীয় প্রধান বাবলু কুমারসহ গ্রাম প্রধান তাজেম উদ্দিন মোল্লা, টিপু মোল্লা, কাজল ও বোরহানের শ^শুর আকতার হোসেন উপস্থিত ছিলেন। সেখানে বিষয়টি বিস্তারিত শুনানীর পর লম্পট বোরহানকে সাতটি জুতার বাড়ি দিয়েই বিচার শেষ করা হয়। তবে সালিশে উপস্থিত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যাক্তি জানান, বিষয়টি মিমাংসার জন্য অভিযুক্ত বোরহানউদ্দীনের কাছ থেকে ৪০ হাজার টাকা আদায় করা হলেও ঐ গৃহবধুকে কোন টাকা দেয়া হয়নি। পুরো টাকাই প্রধানেরা ভাগাভাগি করে নিয়েছেন।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে গৃহবধুর স্বামী মোবাইলে জানান, গ্রামের প্রধানেরা বসে সব কিছু শুনে বোরহানকে জুতাপেটা করেছেন। তবে আমরা কোন টাকা পয়সা পাইনি।
সালিশে উপস্থিত গ্রাম প্রধান মোহাম্মদ কাজল হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলার স্বার্থে বিষয়টি মিমাংসা করা হয়েছে বলে স্বীকার করেন। তবে ধর্ষণ চেষ্টার বিচার সালিশে করা যায় কিনা এবং টাকা ভাগাভাগির বিষয়ে তিনি কোন সদুত্তর দিতে পারেননি।
বড়াইগ্রাম থানার ওসি দিলীপ কুমার দাস জানান, বিষয়টি জানা ছিল না। তাছাড়া ভিকটিমের পরিবারও কিছু জানায়নি। তবে আমি বিষয়টি খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নিচ্ছি।