দূর্নীতি আমার সহোদর ভাই-

প্রকাশিত

রাজীব সরকার-দূর্নীতি, এমন একটি শব্দ যা নীতি বিবর্জিত কাজকেই বুঝায়। অথচ দিনদিন আমরা নীতি, নৈতিকতা বিরোধী এই কাজটিতেই বেশি পারদর্শি হয়ে উঠছি। অল্প সময়ে, অল্প পরিশ্রমে লোক ঠকিয়ে, দেশের বারোটা বাজিয়ে কিভাবে নিজেকে কোটিপতি বানানো যাবে এই একই মানসিকতা বজায় রেখে চলার চেষ্ঠায় মত্ত রয়েছি আমরা। এর একটা বড় কারণ হচ্ছে, বাংলাদেশ দূর্নীতির দিক থেকে এক উর্বর ভূমি। এদেশে ঘুষের প্রতিযোগীতা চলে। যে বেশি ঘুষ দিতে পারবে সে তত বড়, রাষ্ট্রীয় সকল সুযোগ সুবিধা তার জন্য পরিস্কার। আর যে পারবে না সেতো কোনও মানুষই না, সামাজিক ভাবে নিয়মিত বঞ্ছনার শিকার হতে হয় তাকে। পরিবারও ছাড় দেয়না তাকে অধিকাংশ সময়। এমন পরিস্থিতিতে নীতি ঠিক রেখে কোন রকম খেয়ে পড়ে বাঁচতে কেইবা চায়। তাই সব মিলিয়ে আমাদের সহোদর ভাইয়ের মত অবস্থান নিয়েছে দূর্নীতি। কোন কোন ক্ষেত্রে তার চেয়েও বেশি। ভাই ছেড়ে গেলেও ছেড়ে যায় না তিন অক্ষরে গঠিত এই ছোট্ট শব্দটি।

দার্শনিক, ধর্মতাত্ত্বিক, নৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে দূর্নীতি মানে কোন আদর্শের নৈতিক বা আধ্যাত্মিক অসাধুতা বা বিচ্যুতিকে নির্দেশ করে। বৃহৎ পরিসরে ঘুষ প্রদান, সম্পত্তি আত্মসাৎ এবং সরকারী ও রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে ব্যক্তিগত স্বার্থ চরিতার্থ করাও দুর্নীতির অন্তর্ভুক্ত। প্রধানত অতিরিক্ত ভোগবাদী মানসিকতা ও নৈতিক মুল্যবোধের অভাব ও অবমুল্যায়ন দুর্নীতির পেছনে দায়ী, পাশাপাশি দরিদ্রতাও ক্ষেত্রবিশেষে দুর্নীতির প্রভাবক হিসেবে কাজ করে। বাংলাদেশে সব শ্রেণির ব্যাক্তির ঘুষ গ্রহণের নজির রয়েছে। তবে উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে ঘুষ গ্রহণের নজির বেশি, যার কারণ স্ব‌ল্প সময়ের ব্যাবধানে জীবনযাত্রার মান মধ্যবিত্ত হতে বিলাসবহুল পর্যায়ে উন্নীতকরণের মানসিকতা। এছাড়াও মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তগণ তাদের জীবনযাত্রার মানউন্নয়নে ঘুষ গ্রহণ করে। (উইকিপিডিয়া)

দুর্নীতি হল বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় একটি চলমান সমস্যা। এই সমস্যাটি বিভিন্ন সময়ে মাত্রাতিরিক্ত পর্যায়ে গিয়ে শীর্ষ স্থান দখল করে আন্তর্জাতিক বিশ্বে আমাদের সোনার বাংলাকে কলংকিত করেছিল। ২০০৫ সালে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল কর্তৃক প্রকাশিত তালিকায় পৃথিবীর তৎকালীন সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ হিসেবে শীর্ষ স্থান লাভ করে। এরপর থেকে দূর্নীতিতে বাংলাদেশের অবস্থান পিছিয়ে যেতে থাকে। দুর্নীতির ধারণা সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ২০০৬ সালে ৩য়, ২০০৭ সালে ৭ম, ২০০৮ সালে ১০ম, ২০০৯ সালে ১৩তম, ২০১০ সালে ১২তম, ২০১১ সালে ১৩তম, ২০১২ সালে ১৩তম, ২০১৩ সালে ১৬তম, ২০১৪ সালে ১৪তম, ২০১৫ সালে ১৩তম, ২০১৬ সালে ১৫তম, ২০১৭ সালে ১৭তম। সংস্থাটির দেয়া তথ্য অনুসারে ২০১৮ সালে ১৩তম অবস্থানে উঠে আসে বাংলাদেশ। উপরোক্ত পরিসংখ্যান থেকে এটা স্পষ্ট যে, ১৭২টি দেশের মধ্যে দূর্নীতিতে আমাদের অবস্থান অত্যন্ত সুদৃঢ়। দুর্নীতির সাথে আমাদের প্রেম এতটাই বেশি যে ২০০৫ সাল থেকে আমাদের অবস্থান বিশএর মধ্যেই। অপরদিকে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক লিগ টেবিল অনুযায়ী, ২০১৯ সালে ৪১-তম অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। গত বছর যেখানে আমাদের অবস্থান ছিল ৪৩ তম। তবুও মনটাকে এই ভেবে স্বান্তনা দিতে পারি যে, আমরা শীর্ষ স্থান থেকে সরে এসে একটু দুরে অবস্থান নিতে পেরেছি।

সমস্ত পরিসংখ্যান ঘেটে দেখার পর এবার আসা যাক মূল প্রসঙ্গে। আর মাত্র দুই বছর পর পূর্ণ হতে যাচ্ছে আমাদের স্বাধীনতার ৫০তম রজতজয়ন্তী। ৩০লক্ষ শহীদের রক্ত আর দুই লক্ষ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে অর্জিত আমাদের এই স্বাধীনতা। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হচ্ছে স্বাধীন হওয়ার পর থেকেই দুর্নীতির সাথে আমাদের সখ্যতা যেন সহোদর ভাইয়ের মত। ছাড়ি ছাড়ি করলেও কখনো ছেড়ে যায় না। লেগেই থাকে আস্টেপৃষ্টে। শুনেছি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব তাঁর সাড়ে তিন বছর ক্ষমতায় থেকে ঐসময়কার পরিস্থিতি নিয়ে তার বক্তব্যে বলেছিলেন ‘সবাই পায় সোনার খনি আর আমি পেয়েছি চোরের খনি। দেশে সাত কোটি মানুষ, সাড়ে সাত কোটি কম্বল আনলাম। আমার কম্বল গেল কই?’। জাতির জনকের এই কথায় এটাতো স্পষ্ট যে, দূর্নীতির চর্চা আমাদের জন্মলগ্ন থেকেই। স্বাধীনতা অর্জনের পর থেকে আজ অবধি সব সময়, প্রতিটা ক্ষেত্রেই আমরা দুর্নীতির চাদরে আচ্ছাদিত অবস্থায় বসবাস করছি। যে যেখানে আছি সেখানে থেকেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে স্লোগান দিয়ে আবার এই দুর্নীতিরই গোলামী করছি। নিজের আঁখের গোছানোর চিন্তায় ব্যস্ত থাকছি।

 

 

১৯৫৭ সালে অ্যান্টি করাপশন অ্যাক্ট প্রণয়ন করা হয় এবং এর আওতায় দুর্নীতি দমন ব্যুরো গঠিত হয়। দেশে দুর্নীতি এবং দুর্নীতিমূলক কার্য প্রতিরোধের লক্ষ্যে “দুর্নীতি দমন কমিশন আইন-২০০৪” এর আলোকে ২০০৪ সালের ২১ নভেম্বর স্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশন প্রতিষ্ঠিত হয়। কিন্তু আফসোস, গৃহীত পদক্ষেপেও দুর হয়নি দুর্নীতি। আমরা আজ মিডিয়ার বদৌলতে জানতে পারছি এই কমিশনের বিভিন্ন কর্মকর্তা ঘুষ গ্রহন বা দুর্নীতির কারনে আটক হচ্ছেন, জেল খাটছেন। পুলিশ ঠিকমত তার কর্তব্য পালন করছে না। রাস্তায় রিক্সা আটকিয়ে ১০টাকা ঘুষ নিতেও ছাড়ছে না। পকেটে মাদক ঢুকিয়ে দিয়ে বলির পাঠা বানানো হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। সরকারের যে খাত মানুষ গড়ায় সেই শিক্ষাখাতও আজ মারাত্মকভাবে দূর্নীতির শিকার। প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের আনুষাঙ্গীক জিনিসপত্রসহ বিভিন্নভাবে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দিচ্ছে সরকার। কিন্তু সে অর্থের কতটুকু কাজ হচ্ছে তা খুজে বের করার জন্যে বিশেষভাবে দক্ষ হওয়ারও দরকার নেই। একটু মাথা খাটালেই বের করে ফেলতে পারবে যে কেউ। আবার সরকারি বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার মান নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে অনেকের ভিতরেই। এখাতের সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হচ্ছে, সরকার দুর্নীতি বন্ধে নানা উদ্যোগ নিয়েও এখনো জাল সার্টিফিকেট তৈরী ও বিক্রী রোধ করতে পারছে না। যেকারনে অযোগ্যরা অর্থের বিনিময়ে সার্টিফিকেট ক্রয় করে তা দেখিয়ে যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন দফতরে কাজ করে যাচ্ছেন। চিকিৎসা খাতের অবস্থাতো আরও লজ্জাজনক। হাসপাতাল আছে, কাগজেপত্রে ডাক্তারও আছে কিন্তু কর্তব্য পালন করছেন কেবল মাত্র তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীরা এমন রেকর্ডও অহরহ। যে হাসপাতালে ১৫জন ডাক্তার কর্তব্য পালন করার কথা সেখানে কর্তব্য পালন করছেন ৫জন। বাকী দশজনই অনুপস্থিত। নার্স, আয়া, ওয়ার্ডবয়সহ অন্যান্য কর্মচারীরা চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন রোগীদের। আর ডাক্তাররা অনুপস্থিত থাকলেও বেতন উঠানো কিন্তু থেমে থাকছে না। হাসপাতালের ডিউটির সময় ডিউটি বাদ দিয়ে বিভিন্ন নার্সিং হোম, ডায়াগনোস্টিক সেন্টার বা প্রাইভেট হাসপাতালে সময় দিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছেন লক্ষ লক্ষ টাকা। এমনও রেকর্ড রয়েছে বড় বড় হাসপাতালে মৃত (মারা যাওয়ার কথা গোপন রেখে) মানুষকে নিবীড় পরিচর্যা কেন্দ্রে রেখে চিকিৎসা দিয়ে সুস্থ্য করে দেয়ার কথা বলে আদায় করে নিচ্ছে অজ¯্র টাকা। সরকারি হাসপাতালগুলোতে ঔষধের পর্যাপ্ত সাপ্লাই থাকার পরও তা রোগীদের মধ্যে বিতরণ না করে বিভিন্ন ঔষধের দোকানে বিক্রী করে দেয়া হচ্ছে। সাময়িক কিছু সুযোগ সুবিধা নিয়ে কর্মকর্তারা ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে এমন সুবিধাই প্রদান করছে যে রাস্তা, ঘাট, সরকারি ভবনসহ বিভিন্ন সংস্কার কাজ শেষ হওয়ার পূর্বেই তা ভেঙে পরছে। আবার কোথাও কোথাও বরাদ্দ আসা সত্ত্বেও কোন কাজ না করেই বিল ভাউচারের মাধ্যমে উঠিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে প্রাক্কলিত অর্থটুকুও। আর কিছুদিন আগে ঘটে যাওয়া বালিশ কান্ড সম্পর্কে কম বেশি ধারনাতো আমাদের সবারই রয়েছে। কিন্তু সবচেয়ে বেশি ভয়ঙ্কর রুপ নিয়েছে নিয়োগ বাণিজ্য। ঘুষ দাও, চাকুরি নাও নীতিতে চলছে এই সোনার বাংলা। নিয়োগ বাণিজ্যের নেপথ্যে থাকছেন বড় বড় আমলারা এবং এমপি বা মন্ত্রীদের স্ত্রী, পুত্র, কন্যা বা আত্মীয় পরিজন। যার দরুন মেধাবীরা সঠিক জায়গায়তো নিয়োগ পাচ্ছেনই না উল্টো অযোগ্যরা যত্রতত্র তাদের দুর্নীতির পশরা সাজিয়ে বসেছেন। কোথায় নেই এই দুর্নীতি? সমাজের সর্বনি¤œ প্রতিষ্ঠান পরিবার থেকে শুরু করে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ স্থানগুলোও আজ দুর্নীতির আচ্ছাদনে আচ্ছাদিত। তবে সাম্প্রতিক সময়ে পুলিশের কয়েকটা নিয়োগ দেশকে ঘুষমুক্ত করার আভাস দিয়েছে। যদি এর ধারাবাহিকতা বজায় থাকে তাহলে আমার বিশ্বাস এই দেশ একসময় দূর্নীতিমুক্ত হবেই।

একটু খেয়াল করলেই দেখতে পারবেন আপনার আশপাশে এমন লোক রয়েছেন যিনি রাতারাতি আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়ে গেছেন। এবার ভাবতে পারেন ঐব্যক্তির হঠাৎ এমন উন্নতির নেপথ্যে কি? উনি কি আলাদিনের আশ্চর্য প্রদীপ তার হাতে পেয়ে গেছেন? মোটেও তা নয়। সঠিক রাস্তায় থেকে রাতারাতি এত সম্পদের মালিক বনে যাওয়া আদৌ সম্ভব কি না তা নিজেকে দিয়ে যাচাই করলেই বুঝতে পারবেন। তবুও বলছি, উনার এই হঠাৎ ফকিন্নিপতী থেকে কোটিপতি বনে যাওয়ার মূল কারন হচ্ছে তিনি নীতিটাকে বিক্রী করে দূর্নীতি কিনেছেন।

এবার আসা যাক আমরা দুর্নীতি কেন করছি সে বিষয়ে। পাশের বাড়ির মিয়া ভাই একই চাকুরী করে অথচ দামী গাড়িতে চড়েন, পাঁচতলা বাড়িতে থাকেন। তাহলে আমি কেন পারছি না? খান সাহেবের বউ দুদিন পরপর মার্কেটে যান। শাড়ি, চুড়ি, গয়নাসহ কত্ত কি কিনে এনে আমাদের দেখান কিন্তু আমিতো পারছি না। সৈয়দ সাহেবতো আমার চেয়েও নিচের র‌্যাংকে কাজ করেন। কিন্তু তার লাইফস্টাইলতো বলিউডের হিরুদের মত। উনার ছেলে মেয়েরাও রাজধানীর বড় বড় স্কুল কলেজে পড়ে কিন্তু আমার বাচ্চারা পড়ে সরকারি কোন একটা বিদ্যালয়ে। দুর্নীতিবাজদের লাইফস্টাইল দেখে তাদের সমসাময়িক চলাফেরা ও সুবিধাভোগের লোভে পরে তৈরী হতে পারে দুর্নীতি করার মানসিকতা। তাছাড়া টাকা নাই যার, দাম নাই তার এমন সংস্কৃতি মারাত্মকভাবে আঘাত হেনেছে আমাদের সমাজ ব্যবস্থার উপর। অবৈধভাবে অর্জিত সম্পদের জোরে সমাজের অশিক্ষিত, মূর্খ ব্যক্তিটাও হয়ে যাচ্ছে বাবু আর সততার জেরে আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা ব্যক্তিটা হয়ে যাচ্ছে সমাজের হাসির পাত্র। আমাদের সমাজের এমন নৈতিকতা বিবর্জিত আচরণই অনেক সময় আমাদের ঠেলে দিচ্ছে দুর্নীতির দিকে। আমাদের এই দেশটাতে আইনের অভাব নেই কিন্তু আইনের সুষ্ঠু প্রয়োগ নিয়ে যথেষ্ট গাফিলতি রয়েছে। দুর্নীতি করে কোটি কোটি টাকা কামানো লোকটা ধরা পরেও ছাড়া পেয়ে যায় খুব অল্প সময়ের মধ্যেই। অর্জিত অর্থ সম্পদের কয়েক ভাগ খরচ করেই মিটিয়ে নিয়ে নিতে পারে সকল সমস্যা। বাকিটা থেকেই যায় দুর্নীতিবাজদের কাছে। কয়েকদিন পরে ঢাকা পরে যায় তাদের সব কুকীর্তি।

দুর্নীতির এই আগ্রাসন থেকে রেহাই পাওয়ার কোন উপায়ই কি খোলা নেই? এমনটাই ভাবনা আসে অনেক সময়। নিজে নিজে ভাবি। কিন্তু সঠিক কোন উত্তর মিলাতে পারি না। যতবার ভাবি ততবারই দুর্নীতি মুক্ত থাকার কিছু উপায় মাথায় আসে। সেগুলো হচ্ছে মানুষকে নৈতিক মূল্যবোধ সম্পর্কে ধারনা দেয়া। প্রতিটি মানুষকে দুর্নীতি মুক্ত রাখার জন্যে বাধ্যতামূলকভাবে মানবিক মূল্যবোধের উপর বিশেষ ট্রেনিং এর ব্যবস্থা করা যেতে পারে সরকারিভাবে। প্রতিটি স্কুল, কলেজসহ সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতি বিরোধী বিশেষ ক্লাসের ব্যবস্থা করা, ঘুষ দেয়ার প্রবনতা থেকে নিজেকে মুক্ত রাখার প্রতিজ্ঞা নেয়াসহ দুর্নীতি বিরোধী অবস্থান নিশ্চিত করতে আরও কিছু পদক্ষেপ গ্রহন করতে হবে। সেই সাথে মেধায় ও মননে গড়ে তুলতে হবে দুর্নীতি বিরোধী অবস্থান। এমন শিক্ষায় শিক্ষিত হতে হবে যে শিক্ষা দুর্নীতিতে উদ্ভুদ্ধ হওয়া তো দুরের কথা দুর্নীতি বিরোধী মনোভাব গঠন করবে। তাছাড়া প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্তাব্যক্তিদের স্বচ্ছ ভূমিকার কোন বিকল্প নেই। আমার বিশ্বাস কেবল মাত্র নৈতিকতা মুক্তি পেলেই দুর্নীতি পালিয়ে যাবে চিরতরে।