স্কুলছাত্রীকে শ্লীলতাহানি ও অপহরণচেষ্টায় নিহত ২

প্রকাশিত

সনজতি কর্মকার, চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি-
চুয়াডাঙ্গাঃ চুয়াডাঙ্গায় এক স্কুলছাত্রীকে শ্লীলতাহানি ও অপহরণচেষ্টাকালে অপহরণকারীর ছুরিকাঘাতে স্কুলছাত্রীর মামা হাসান নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় নিহত হাসানের পিতা হামিদুল ও স্কুলছাত্রী সুমাইয়া (১৪) আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।

এ সময় এলাকাবাসী ঘটনাস্থল থেকে অপহরণচেষ্টাকারী আকবর আলীকে আটক করে এবং পরবর্তীতে গণপিটুনিতে আকবর ঘটনাস্থলেই নিহত হন। নিহত আকবার আলী চুয়াডাঙ্গার দর্শনা বড় মদনা গ্রামর আবুল কাশেমের ছেলে।

শনিবার ভোরে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার আমিরপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার আমিরপুর গ্রামের পঙ্গু হামিদুল ইসলামের বাড়িতে শনিবার ভোরে আকবর আলী নামে এক ব্যক্তি ঢোকে।

এরপর স্কুল পড়ুয়া নাতনির ঘরে ঢুকে তাকে শ্লীলতাহানি ও অপহরণের চেষ্টা চালায়। স্কুলছাত্রীর আত্মচিৎকারে পরিবারের সদস্যরা প্রতিরোধ করতে গেলে আকবর আলীর ছুরিকাঘাতে ঘটনাস্থলেই নিহত হয় গৃহকর্তার ছেলে হাসান আলী (২৬)। গুরুতর আহত হয় ওই স্কুলছাত্রীসহ তার পঙ্গু নানা হামিদুল ইসলাম।

গ্রামবাসী টের পেয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলে হামলাকারী আকবর আলীকে আটক করে গণপিটুনি দিলে ঘটনাস্থলেই তারও মৃত্যু হয়।

 

 

খবর পেয়ে চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কানাই লাল সরকার, মো. কলিমুল্লাহসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে ছুটে যান।

তারা গুররুতর আহত গৃহকর্তা হামিদুল ইসলাম ও তার স্কুল পড়ুয়া নাতনিকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। সকাল ৮টার দিকে নিহত হাসান ও গণপিটুনিতে নিহত আকবর আলীর লাশের সুরতহাল রিপোর্ট সংগ্রহ শেষে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয় সদর হাসপাতালে।

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক আবু এহসান মো. ওয়াহেদ রাজু জানান, উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতের কারণে হামিদুল ইসলামের শরীরে অসংখ্য ক্ষত হয়েছে।

তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে রাজশাহী রেফার্ড করা হয়েছে। আহত স্কুলছাত্রীকেও প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বাড়িতে পাঠানো হয়েছে।

চুয়াডাঙ্গা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবু জিহাদ ফকরুল আলম খাঁন জানান, স্কুলছাত্রীকে শ্লীলতাহানি ও অপহরণের জন্যই মূলত ওই বাড়িতে হানা দেয় আকবর আলী।

স্থানীয় গ্রামবাসী এমনটিই তথ্য দিচ্ছেন। আমরা প্রকৃৃত ঘটনা অনুসন্ধানে কাজ করছি।