সিভিল সার্জনের বন্ধের নির্দেশ উপেক্ষা করে চলছে সৈয়দপুরের ডক্টরস হসপিটাল

প্রকাশিত

নীলফামারী প্রতিনিধি- নীলফামারীর সৈয়দপুরে ডক্টরস হসপিটাল অ্যান্ড কার্ডিকেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সব কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন সিভিল সার্জন। এর পরও নির্দেশ অমান্য করে হাসপাতালটির কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। কার্যক্রম বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসককে চিঠি দিয়েছে সিভিল সার্জন ডাঃ রণজিৎ কুমার বর্মণ।
সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা যায়, কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার সরমপুর শ্রীধরপুর গ্রামের বাসিন্দা এইচ এম নুরুন নবী চৌধুরী বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে চাকরিসূত্রে সৈয়দপুর ক্যান্ট বাজারে বসবাস করেন। ২০১৮ সালের ১০ নভেম্বর ডক্টরস হসপিটাল অ্যান্ড কার্ডিকেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে সার্জন ছাড়াই কর্তবরত নার্সরা তার মেয়ে মাহমুদা সুলতানা নামের রোগীর শরীরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কাটা-ছেঁড়া ও পেটে চাপ দিয়ে সন্তান প্রসবের চেষ্টা করে। রোগীর অবস্থার অবনতি ঘটলে পার্বতীপুরের ল্যাম্ব হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে একটি মৃত সন্তানের জন্ম হয়।
অভিযোগের সূত্র ধরে ২০১৮ সালের ৬ ডিসেম্বর স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মো: সাইফুল্লাহিল আজম স্বাক্ষরিত পত্রে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালককে তদন্তের নির্দেশ প্রদান করেন। মন্ত্রণালয়ের পত্রের আলোকে স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলো) অধ্যাপক ডাঃ মোঃ আলী খান চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি সিভিল সার্জনকে সভাপতি করে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেন এবং ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন জুনিয়র কনসালট্যান্ট গাইনি অ্যান্ড অবস ডাঃ শাহীন নওরোজী, কনসালট্যান্ট (শিশু) ডাঃ দীলিপ কুমার রায় ও আরএমও ডাঃ মোঃ আসাদ আলম সদর হাসপাতাল। ২২ জানুয়ারি ২০১৯ বাদি-বিবাদির উপস্থিতিতে তদন্ত অনুষ্ঠিত হয়। তদন্তে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় নীলফামারী সিভিল সার্জন ডাঃ রণজিৎ কুমার বর্মণ ২১ মে ২০১৯ স্বাক্ষরিত পত্রে ডক্টরস হসপিটাল অ্যান্ড কার্ডিকেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টার সাময়িক বন্ধ করার নির্দেশ প্রদান করেন।
তার সেই আদেশকে অমান্য করে হাসপাতালটি চালু থাকায় গত ১৪ আগস্ট জেলা প্রশাসককে হাসপাতালটি বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পত্র দিয়েছে সিভিল সার্জন। সৈয়দপুর ডক্টরস হসপিটাল অ্যান্ড কার্ডিকেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হোসেন তাহমিদ ইমাম বলেন, সন্তানটি আমাদের এখানে প্রসব হয়নি এবং মারা যায়নি। (ছবি আছ)