জগন্নাথপুরে কৃষকরা ব্যাপক উৎসাহে সরকারের কাছে ধান বিক্রি করলেও চাল ব্যবসায়ীরা হতাশ

প্রকাশিত

জগন্নাথপুর প্রতিনিধি-
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর খাদ্য গোদামে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে উচ্চ মূল্যে ধান বিক্রি করছেন কৃষকরা। তবে চাল বিক্রি করতে না পেরে মিল ব্যবসায়ীদের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে।
২৮ আগষ্ট বুধবার সরজমিনে দেখা যায়, জগন্নাথপুর উপজেলা খাদ্য গোদামে ধান বিক্রির জন্য কৃষকরা দীর্ঘ লাইন দিয়েছেন। গোদামের ভেতর ও বাইরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে ধানের বস্তা। সিরিয়াল অনুযায়ী চলছে ধান বিক্রি।
এ সময় খাদ্য গোদামে ধান বিক্রি করতে আসা উপজেলার তেঘরিয়া গ্রামের নুর আলম, হাসিমাবাদ গ্রামের সুমন মিয়া, শ্রীরামসি গ্রামের আবদুল কাদির, বনগাঁও গ্রামের নুরুল ইসলাম সহ কৃষকরা বলেন, সরকারের কাছে আমরা উচ্চ মূল্যে ধান বিক্রি করতে পেরে খুবই আনন্দিত। এ জন্য কৃষি বান্ধব সরকারকে অভিনন্দন জানাচ্ছি। এক প্রশ্নের জবাবে তারা বলেন, খাদ্য গোদামে ধান বিক্রি করতে কাউকে কোন প্রকার ঘুষ দিতে হয় না।
তবে মেসার্স নিউ একতা রাইস মিলের মালিক ছমির উদ্দিন সুমন বলেন, সরকারি নির্দেশনায় কৃষকদের কাছ থেকে ধান ও মিল ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাল কেনার কথা রয়েছে। অথচ কর্তৃপক্ষ কৃষকদের বেশি প্রাধান্য দিয়ে ধান কিনলেও আমাদের কাছ থেকে চাল কেনা বন্ধ রাখায় আমরা হতাশ হয়েছি।
এ ব্যাপারে জগন্নাথপুর উপজেলা ভারপ্রাপ্ত খাদ্য গোদাম কর্মকর্তা (ওসিএলএসডি) আবদুল হান্নান কামাল বলেন, ৩১ আগষ্ট পর্যন্ত কৃষকদের কাছ থেকে ধান কেনা হবে। লক্ষ্যমাত্রার আর মাত্র ৫১৯ মেট্রিকটন ধান বাকি রয়েছে। তিনি আরো বলেন, এখন আমাদের গোদামে জায়গা সংকট নেই। জগন্নাথপুর ও রাণীগঞ্জ গোদামে পর্যাপ্ত জায়গা রয়েছে। এছাড়া আমাদের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে চাল সংগ্রহ বন্ধ রেখে শুধু কৃষকদের কাছ থেকে ধান কেনা হচ্ছে। তবে সময় বাড়ানো হলে মিল ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাল সংগ্রহ করা হবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কিছু লোক আমাদেরকে অযথা বিরক্ত করছে। প্রয়োজনে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এছাড়া আমাদের কার্যক্রম তদারকি করতে ২ গোদামে ২ জন তদারকি অফিসার নিযুক্ত আছেন। তারা সার্বক্ষনিক আমাদের কার্যক্রম তদারকি করছেন। #