নড়াইলের হিন্দু সম্প্রদায় যে গ্রামে শিক্ষা কি জিনিশ বোজেনা শিশুরা!

প্রকাশিত

নড়াইল জেলা প্রতিনিধি- নড়াইলের হিন্দু সম্প্রদায় দেশত্যাগের পর জে গ্রামে নেই কোন প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষার আলো কি জিনিশ বোজেনা শিশুরা: চলমান সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের নির্যাতন ইত্যাদি, দেশত্যাগের পর নড়াইলের বাড়ীভাঙ্গা গ্রামে নেই কোন প্রাথমিক বিদ্যালয়, এনজিও পরিচালিত স্কুল, মাদ্রাসা বা মাধ্যমিক বিদ্যালয় কোন কিছুই নেই। তাই অধিকাংশ শিশুরা লেখাপড়া থেকে বঞ্চিত হন। অনেক অভিভাবকের ইচ্ছার প্রেক্ষিতে শিশুরা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করলেও কষ্ট করে ২,৩ কিলোমিটার দুরে যেতে হয়। এই গ্রামের পূর্বদিতে নড়াইলের রায় গ্রাম সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দূরত্ব প্রায় ৪ কিলোমিটার, উত্তরে নড়াইলের হান্দলা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দূরত্ব ২ কিলোমিটার হলেও রাস্তাঘাটের বেহালদশায় ওই স্কুলে যাতায়াত করা কষ্টসাধ্য। পশ্চিমে নড়াইলের ব্রাহ্মণডাঙ্গা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দূরত্ব প্রায় আড়াই কিলোমিটার। আমাদের নড়াইল জেলা প্রতিনিধি উজ্জ্বল রায় জানান, প্রাথমিক বিদ্যালয় গুলি দূরত্বের কারনে শিশুরা স্কুলে যেতে অনীহা প্রকাশ করে। যার ফলে প্রাথমিকের গন্ডি থেকেই অধিকাংশ শিশুরা ঝড়ে পরে। এছাড়া অভিভাবকদের আপ্রাণ চেষ্টায় কিছু শিশুরা পড়াশোনা করলেও তাদের সংখ্যা খুব বেশি নয়। অবশ্য কিছু অভিভাবক তাদের সন্তানদের লেখাপড়ার সুবিধার্থে গ্রাম ছেড়ে নড়াইল শহরে বাসা ভাড়া করে বসবাস করছেন। তবে তাদের সংখ্যা হবে সর্বোচ্চ ১০জন। স্কুলের দূরত্ব বেশি হওয়ায় পড়াশোনা বাদ শিশুরা সময় কাটানোর জন্য মার্বেল খেলেন, কেউ লুডু খেলে। আর একটু বড় হলেই কেরামবোর্ড, তাস খেলা শুরু করে। বয়স বাড়ার সাথে সাথে সিগারেট, গাজা, ইয়াবা ইত্যাদি। বর্তমানে এই গ্রামের ১৪, ১৫ বছর বয়সীরা যুবকরা টাকার বিনিময়ে তাস খেলা, গাজা, ইয়াবা সেবন ও বিক্রির সাথে জড়িত। মাঝে মধ্যে চুরির ঘটনাও ঘটে চলেছে। জেলার বিভিন্ন এলাকায় বিচরণ করে। বিভিন্ন এলাকার উন্নয়নকর্মকান্ড দেখে খুব হতাশায় এই এলাকায় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপনের জন্য অন্তত ১৫ বছর ধরে চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছে। ব্যর্থতার মূল কারণ হলো স্কুলের জন্য ৩৩ শতক জমি কিনতে হবে। এই জমির বর্তমান বাজার দর প্রায় সাত লাখ টাকা। গ্রামবাসীর তেমন আর্থিক ও মানসিক সংগতি নেই এতোগুলি টাকা দেওয়ার। স্কুল প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে আগ্রহ না থাকলেও সামাজিক আর দলাদলিতে বেশ আগ্রহ রয়েছে গ্রামবাসীর। ২০১৪ সালের ২২ জুন এই গ্রামে কাইজ্যে হয় এবং একজন ঘোড়ারগাড়ি চালক নিহত হয়। ওই ঘটনার পর আরো বেশ কয়েকটি হামলা-মামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় লাখ লাখ টাকা নষ্ট হচ্ছে। কিন্তু ভাল কাজের ব্যাপারে কোন সহযোগিতার মনোভাব নেই বললেই চলে। ২০১৮ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে অনেক প্রার্থীর পদচারণা ছিল নড়াইলে। ওই সময়ে পত্র-পত্রিকায় এই গ্রামে প্রাথমিক বিদ্যালয় না থাকায় শিশুরা শিক্ষা হতে বঞ্চিত হচ্ছে এমন একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয় বিভিন্ন পত্রিকায়। এসব নিউজ দেখে একজন সম্ভাব্য প্রার্থী স্কুল প্রতিষ্ঠার আগ্রহ প্রকাশ করেন। তখন আমরা গ্রামবাসী স্বপ্ন দেখেছিলাম। অবহেলিত জনপদে একটি স্কুল প্রতিস্টিত হবে। কিন্তু নির্বাচনে ওই প্রার্থী বিশিষ্ট শিল্পপতি ও শিক্ষানুরাগী মনোনয়ন না পেয়ে তিনি হারিয়ে যান। তিনি গত এক বছরে আর এলাকায় আসেননি। কিন্তু এখনো স্বপ্ন দেখি একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপনের। ৭লাখ টাকা হলেই ৩৩ শতক জমি ক্রয় করা যাবে। সেখানেই সরকারীভাবে গড়ে উঠবে সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়। এই স্কুলে নড়াইলের বাড়িভাঙ্গা গ্রামসহ আশেপাশের গ্রামের দেড় শতাধিক কোমলমতি শিশু লেখাপড়ার সুযোগ পাবে। সমাজের অনেক শিক্ষানুরাগী, বিত্তবান ও দানশীল মানবদরদীদের সহযোগিতায় হয়তো এই গ্রামে একটি স্কুল প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। শেষ পর্যন্ত প্রয়োজনে ভিক্ষা করে হলেও গ্রামে স্কুল প্রতিষ্ঠা করতে চাই। গ্রামের নাম ‘ বাড়ীভাঙ্গা’। নামটি শুনলে হয়তো প্রশ্ন জাগতে পাওে বাড়ি কি ভেঙ্গে গেছে? গ্রামের নাম বললে অনেকেই এমন প্রশ্ন করে থাকে। গ্রামটির অবস্থান নড়াইলের নোয়াগ্রাম ইউনিয়নে। এ গ্রাম হতে শহরের দূরত্ব ১২ কিলোমিটার এবং শহরের দুরত্ব ১১ কিলোমিটার। উপজেলা শহর হতে পশ্চিমদিকে এবং নড়াইল জেলা শহর হতে উত্তর পূর্বদিকে। এই গ্রামের দক্ষিণ পাশ দিয়ে নড়াইলের নবগঙ্গা নদী প্রবাহিত। পশ্চিম পাশ দিয়ে বয়ে গেছে নড়াইলের বাড়িভাঙ্গা খাল। খালটি নড়াইলের নবগঙ্গা নদীর সাথে নড়াইলের ইছামতি বিলের সংযোগ ঘটিয়েছে। এই খালটিতে বর্ষা মৌসুমে প্রচুর দেশীয় প্রজাতির মাছ ধরা পড়ে। প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষার কি জিনিশ বোজেনা শিশুরা নদী ও খাল বেষ্টিত নড়াইলের বাড়ীভাঙ্গা গ্রামে হিন্দু সম্প্রদায় দেশত্যাগের পর বর্তমানে জে গ্রামে দেড়শতাধিক পরিবারের বসবাস। এই গ্রাম নিয়ে লিখতে গেলে হয়তো পাঠকরা আমাকে হেয় ভাবতে পারেন। কিন্তু বাস্তবতাকে তুলে ধরে সমস্যা সমাধাণের উদ্দেশ্যেই। এই গ্রামে নেই কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, খেলার মাঠ, রাস্তাঘাটেরও তেমন কোন উন্নয়ন ঘটেনি। যার কারনে দেশ এগিয়ে গেলেও নড়াইলের এই বাড়ীভাঙ্গা গ্রামসহ আশেপাশের বেশ কয়েকটি গ্রামের মানুষ লেখাপড়াসহ উন্নয়ন কর্মকান্ড থেকে অন্তত শত বছর পিছিয়ে আছে।