ফেনীর সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ২১ জন চিকিৎসকের স্থলে আছেন মাত্র ৩ জন সমাধানে নেই কোন উদ্ব্যোগ

প্রকাশিত

সৈয়দ কামাল,ফেনী থেকেঃ ফেনীর উপকূলীয় উপজেলা সোনাগাজীর সাড়ে তিন লাখ মানুষের স্বাস্থ্যসেবায় একমাত্র ভরসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স।তদাপি দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসক,কর্মচারী ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সংকটে বর্তমানে এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি যেন নিজেই রোগাক্রান্ত।ফলে উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার বাসিন্দারা কাঙ্খিত চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠলেও এখন পর্যন্ত সমাধানে নেওয়া হয়নি কোন উদ্ব্যোগ।উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়,সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকের  ২১ টি পদ থাকলেও বর্তমানে এখানে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ৩ জন।অফিস সহকারীর ৫টি পদের মধ্যে কর্মরত আছেন মাত্র ২ জন।চতুর্থ শ্রেনীর কর্মচারীদের ৫ টি পদের বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ১ জন।সুইপারের ৫টি পদের মধ্যে ৪টি পদ দীর্ঘদিন ধরে রয়েছে শূণ্য।টেকনিশিয়ান থাকলেও দীর্ঘদিন এক্সরে মেশিনটি বিকল।গত প্রায় এক যুগেরও বেশি সময় জেনারেটরটি নষ্ট অবস্থায় পড়ে রয়েছে।এছাড়া আসবাবপত্র ও বিভিন্ন বিভাগে প্রয়োজনের তুলনায় যন্ত্রপাতির সংকটও রয়েছে অনেক।

 

 

উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ আরো জানায়,বর্তমানে হাসপাতালে যে তিনজন চিকিৎসক কর্মরত রয়েছেন তাদের মধ্যে একজন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা।তাকেও দাপ্তরিক কাজের পাশাপাশি রোগী দেখতে হয়।বাকী দুই জন মেডিকেল অফিসার দিয়ে চরম সংকটে চলছে হাসপাতালের চিকিৎসা কার্যক্রম।স্থানীয়দের সঙ্গে আলাপকালে জানাযায়, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি কাগজে কলমে ৫০ শয্যা বলা হলেও বাস্তবে ৩১ শয্যার জনবলও নেই এতে।চিকিৎসা সেবা মিলুক আর না মিলুক প্রতিদিন গড়ে ৭০ থেকে ৭৫ জন রোগী ডাক্তার দেখাতে এবং গুরুতর অবস্থায় ভর্তি হতে আসেন এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে।কিন্তু প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও বিভাগীয় চিকিৎসক না থাকায় অনেক রোগীকে সেবা না নিয়েই ফিরে যেতে হয় বাড়ীতে।উপজেলার চরচান্দিয়া ইউনিয়নের পূর্ব বড়ধলী গ্রাম থেকে চিকিৎসা নিতে আসা জামাল উদ্দিন নামে একজন রোগী জানান,তিনি দাঁতের ব্যাথা নিয়ে হাসপাতালে গিয়ে দাঁতের চিকিৎসক না থাকায় চিকিৎসা না পেয়ে ফিরে আসতে বাধ্য হয়েছেন।

সূজাপুর গ্রামের হাড ভাঙ্গা রোগী পেয়ারা বেগম চিকিৎসা সেবার জন্য স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স গিয়ে জানতে পারেন,হাসপাতালের এক্সরে মেশিনটি নষ্ট। সোনাগাজী উপজেলা সদরে ভাল কোনো এক্সরে মেশিন না থাকায় বাধ্য হয়ে তাকে জেলা শহরের যে কোন একটি বেসরকারি হাসপাতালে যেতে হচ্ছ। সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা নুরুল আলম হাসপাতালে চিকিৎসক-কর্মচারী ও যন্ত্রপাতি সংকটের সত্যতা স্বীকার করে বলেন,চিকিৎসক সংকট এবং এক্সরে মেশিনসহ বিভিন্ন বিভাগের যন্ত্রপাতি নষ্ট থাকার বিষয়টি একাধিক বার চিঠি দিয়ে ঊর্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।তিনি আরো জানান,২১ জন চিকিৎসকের মধ্যে মাত্র ৩ জন চিকিৎসক দিয়ে চরম সংকটের মধ্যেও রোগীদের সেবা দিতে সাধ্যমতো চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।