জীবন সংগ্রামে কিশোর রাতুল

প্রকাশিত

মাহবুব হোসেন পিয়াল,ফরিদপুর-
ব্যস্ত ফরিদপুর শহরের আলীপুর বাণিজ্যিক এলাকায় সড়কের পাশে দাড়িয়েছিলাম। ত্রি-চক্র যান (রিক্সা) চালিয়ে কিশোর রাতুল (১৪) বলছিল, এই যাবেন ভাই যাবেন…. মিষ্টি একটি কণ্ঠ আমি বললাম চলো, যাত্রা শুরু হলো। প্রেস ক্লাবের সামনে এসে দাড়ালাম, ভাড়া দিতে গিয়ে দেখি একজন কিশোর বদনখানি মিষ্টি ভারি। দারিদ্রতার ছাঁপ চোখে মুখে, এতো অল্প বয়সে ঝুকিপূর্ণ এ পেশায় কেন? জানতে চাইলে, সে বলে গরীব মাইনষের ছেলে আর কি করবো কাজ করে খাই। প্রতিদিন দুই শত টাকায় ব্যাটারী চালিত রিক্সা ভাড়া নিয়ে শহরের চালাই। প্রতিদিন চার-পাঁচশত টাকা আয় হয়। এই টাকা মায়ের হাতে তুলে দেই, সংসারে একটু ভাল হয়। কাধে ঝুলানো ব্যাগ থেকে ক্যামেরা বের করে ছবি তুলতে গেলে একটু লজ্জা পেল তারপর কিছুক্ষণ নিরব নিস্তব্ধতা! কি যেন না বলা কথা রাতুলের চোখে মুখে। আমি একটু সহজ উপায়ে ওর পরিচয় জানতে চাইলাম প্রথমে বলতে চাইলো না পড়ে জানালো শহর তলির লক্ষীপুর চুনাঘাটা বেরি বাধ এলাকায় থাকে। সংসারে অন্য দুই ভাই রাজ মিস্ত্রির কাজ করে বাবা অসুস্থ্য মাঝে মধ্যে এটা সেটা করে। মা গৃহিনী সংসারে আরো দুটি বোন রয়েছে সে সবার ছোট। আদমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। কয়েক বছর আগে স্কুলে আর যাওয়া হয়নি। অভাব অনাটনের সংসারে মা বাবাকে একটু সাহায্য করার লক্ষে প্রায় ছয় সাত মাস ধরে সে রিক্সা চালিয়ে উপার্জন করছে। তার বয়সে অন্য সব শিশু কিশোর যখন স্কুলে যায় আর বিকাল হলে মাঠে আনন্দময় শৈশবে মেতে থাকে তখন তার মন খারাপ লাগে। কিন্তু খারাপ লাগলে কি হবে ক্ষুধা নামক শব্দের থাবায় জীবন দারিদ্রতায় স্বপ্ন ভাঙ্গা দহনে, কেঁদে ফেরে… তখন এই সমাজ কি সেখানে হাত বাড়ায়? ভালবাসার, মানবিকতার সম্প্রসারিত হাত যদি আমরা সত্যি সত্যি বাড়াতাম প্রতিটি এলাকায় মহাল্লায় ধন্যাঢ্য পরিবার ব্যক্তিরা যদি এই সব রাতুলদের পাশে দাড়াতো তাহলে এই সব অভাবি ঝড়ে পড়া শিশু কিশোররা বেঁচে থাকার, বেঁচে উঠার সংকল্প খুঁজে পেত।