কাউখলীতে বিদ্যালয়ের জমিদাতার হাতে শিক্ষিকা লাঞ্ছিত

প্রকাশিত

পিরোজপুর প্রতিনিধি : পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার ৪৭ নং মধ্য শিয়ালকাঠী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জমিদাতা মোহাম্মদ ইউনুস মোল্লার গত কয়েক দিন ধরে স্কুলের শিক্ষকদের ওপর অযাচিত খবরদারিতে অতিষ্ঠ বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। স্কুলে এসে প্রধান শিক্ষকের চেয়ারে বসে টেবিলের উপর পা তুলে শিক্ষকদের নানা প্রকার আদেশ নির্দেশ করতে থাকেন। এতে শিক্ষকরা বাধা দিলে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সামনে শিক্ষকদের মারতে তেরে যান।
জানাগেছে, বিদ্যালয়ের জমি দাতা সদস্য আমেরিকা প্রবাসী মোঃ ইউনুস মোল্লা কয়েকদিন আগে বাড়িতে আসেন। বাড়িতে এসে গত ২ সেপ্টেম্বর তিনি বিদ্যালয় এসে শিক্ষক হাজিরা খাতায় উল্টাপাল্টা মন্তব্য লেখেন এবং শিক্ষকদের ধমকদিয়ে তিনি বলেন, আমি স্কুলের জমিদাতা সদস্য। এই স্কুল আমার, আমার বাপ দাদার। আমি যেভাবে যা বলব শিক্ষকদের তা শুনতে হবে।
গত বৃহস্পতিবার দুপুর ১২ টার পরে বিদ্যালয়ের দাতা সদস্য মোহাম্মদ ইউনুস মোল্লা স্কুলে এসে প্রধান শিক্ষকের চেয়ারে বসে টেবিলের উপর পা তুলে শিক্ষকদের নানা রকম আদেশ নির্দেশ করতে থাকেন। এতে শিক্ষকদের সাথে বাক-বিতান্ডা হলে বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (প্রাক্তন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক) সাবিনা ইয়াসমিনকে জুতা নিয়ে মারতে ওঠেন। এতে ওই বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের মনে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।
সহকারী শিক্ষিকা সাবিনা ইয়াসমিন জানান, জমিদাতা ইউনুস মোল্লা বিদ্যালয়ে এসে স্কুলের স্টিল আলমিরার চাবি চাইলে তিনি চাবি দিতে অস্বীকৃতি জানান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে নানা রকম অশ্লীল মন্তব্য করেন এবং পায়ের জুতা খুলে শিক্ষক ছাত্র-ছাত্রীদের সামনেই আমাকে মারতে উদ্যত্ব হন।
বিদ্যালযয়ের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আফরোজা আক্তার ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, এ ঘটনার বিচার দাবি করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিতভাবে অভিযোগ দায়ের করা হবে। এছাড়া বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা শিক্ষকদের এ অপমানের বিচার চেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন।
উপজেলা শিক্ষা অফিসার আব্দুল হাকিম জানান, উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ ছাড়া শিক্ষক হাজিরা খাতায় অন্য কেউ মন্তব্য লেখার অধিকার রাখেন না। শিক্ষিকার লাঞ্ছিতের ঘটনায় কোন লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে।