গাজীপুরে প্রেমের টানে অকালে প্রাণ হারাল তরুণী

প্রকাশিত

মোঃ আলমগীর কবীর. গাজীপুর অফিস-
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের বাসন থানাধীন ভোগড়া বাইপাস এলাকায় ফেলু মিয়ার বাড়ির বাড়াটিয়া সিমা আক্তার (১৭) পিতা- লেবু মিয়া, গ্রাম- মেষ্টা, ডাকঘর- শানের হাট, থানা- পীরগঞ্জ, রংপুর।
জানা যায় সিমা আক্তার (১৭) ভোগড়া বাইপাস এলাকায় চৌধুরী বাড়ী সংলগ্ন ইউরো জিন্স লিমিটেড নামক প্রতিষ্ঠানে ফিনিশিং হেলপার হিসাবে দীর্ঘদিন যাবৎ চাকুরী করে আসছে। একই অফিসে আশিক (২৪) পিতা- আছিব রাজ্জাক, সাং- সাঘাটা, থানা- সাঘাটা, জেলা- গাইবান্ধা, এ/পি- আলমগীর এর বাড়ীর ভাড়াটিয়া, পেয়ারা বাগান, গাজীপুর, চাকুরী করে আসছিল। একই অফিসের চাকুরীর সুবাদে একে অপরের পরিচয় জানতে গিয়ে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। দীর্ঘদিন যাবৎ তারা প্রেমের সম্পর্ক চালিয়ে যায়। তাদের ভালবাসার সূত্রে প্রেমিকা সিমা আক্তার (১৭) তার প্রেমিককে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। বিয়ের প্রস্তাবে আসিক বলেন সে অবিবাহিত। কিন্তু পরবর্তীতে সিমার আত্মীয় স্বজন খোঁজ নিয়ে জানতে পায় (আসিক (২৪), প্রেমিক), বিবাহিত। বর্তমানে তার স্ত্রী গর্ভবতী। গত ০৭/০৯/২০১৯ ইং তারিখ শনিবার সন্ধায় আসিক তার প্রেমিকা সিমা আক্তারের সাথে গোপনে দেখা করতে আসে, বাইপাস এলাকায়। আসিকের গতিবিধি সন্দেহ জনক মনে হলে স্থানীয় জনতা তাকে ধরে ফেলে। পরে খবর পেয়ে সিমার বড় বোনের স্বামী আয়নাল ও তার সহযোগী আমিনুল ইসলাম আসিককে জিজ্ঞাসাবাদ করে। আসিক স্বীকার করে সে সিমা কে দীর্ঘদিন থেকে ভালবাসে। আসিকের গতিবিধি সন্দেহ প্রবণ মনে হলে আয়নাল এবং আমিনুল তাকে মার-ধর করে বাসন থানা পুলিশকে খবর দেয়। খবর পেয়ে বাসন থানা পুলিশের উপ-পুলিশ পরিদর্শক মোঃ সেলিম ঘটনাস্থলে যায় এবং আসিক কে উদ্ধার করে নিয়ে আসে। পরের দিন আসিকের স্ত্রী ও আত্মীয়-স্বজন খবর পেয়ে বাসন থানায় আসেন এবং তাকে ছাড়িয়ে নিয়ে যায়। ঐ দিন বিষয়টি জানাজানি হলে সিমা (১৭) তার অফিসে গিয়ে অর্ধ বেলা ডেউটি করিয়া লোকলজ্জার ভয়ে বাসায় ফিরিয়া আসে।
এমতাবস্থায় ভাড়াটিয়া বাসার পরিচিত লোকজনের নানামুখী কথাবার্তায় সে বিব্রতবোধ করে, এদিকে সিমার বড় বোন ও তার স্বামী আয়নাল সহ আমিনুল বিভিন্ন উসকানি মূলক কথাবার্তা বলে। যার ফলে সিমার মানসিক অবস্থা দূর্বল হয়ে পড়ে। ০৮/০৯/২০১৯ ইং তারিখে সিদ্ধান্তহীনতায় কোন রকমে রাত্রি পার করে।
০৯/০৯/২০১৯ ইং তারিখে সকালে অফিসে যাওয়ার প্রাক্কালে ঐ একই রকম গুনজন শুনতে পেরে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে বাসায় ফিরিয়া আসে এবং তার ভাড়াকৃত রুমের দরজা আটকিয়ে পরিহিত ওড়না পেচিয়ে আড়ার সঙ্গে ঝুলে পড়ে। এর কিছু সময় পরে পাশের ভাড়াটিয়া জামাল মিয়া জানালার ফাঁক দিয়ে দেখতে পায়, শূণ্যে পাঁ ঝুলছে। এই দৃশ্য দেখে চিৎকার চেঁচামেচি করিলে আশপাশের লোকজন জড়ো হতে থাকে। পরে উৎসুক জনতা বাসন থানা পুলিশের উপ-পুলিশ পরিদর্শক জনাব- সাখাওয়াত ইমতিয়াজকে ফোন দিলে সঙ্গী ও ফোর্স সহ ঘটনাস্থলে এসে ঝুলন্ত লাশ নামিয়ে সুরতহাল রিপোর্ট করেন। সুরতহাল রির্পোর্ট শেষে লাশ ময়না তদন্তের জন্য শহীদ তাজ উদ্দিন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। উক্ত ঘটনার বরাত দিয়ে বাসন থানায় একটি ইউডি মামলা রুজ্জ করা হয়। মামালা নং- ২৬, তারিখ- ০৯-০৯-২০১৯ ইং