ফেনীর আলোচিত নুসরাত হত্যামামলায় আত্নপক্ষ সমর্থন করে আদালতে নিজেদের নির্দোষ বলে দাবী আসামীদের

প্রকাশিত

ফেনী প্রতিনিধিঃ ফেনীর আলোচিত মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যামামলায় আত্মপক্ষ সমর্থন করে আদালতে নিজেদের নির্দোষ দাবি করছেন আসামিরা।০৯ সেপ্টেম্বর (সোমবার) দুপুরে ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতে ফৌজধারী কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় আত্মপক্ষ সমর্থন করেন আসামিরা।মামলায় অভিযুক্ত ১৬ আসামির উপস্থিতিতে আদালতের কার্যক্রম শুরু হলে,হত্যামামলার বাদী নুসরাতের ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান ও তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআই পরিদর্শক শাহ আলমকে ফের জেরা করেন,আসামি হাফেজ আব্দুল কাদের ও আইনজীবী গিয়াস উদ্দিন নান্নু।এই সময় আদালতের বিচারক মামুনুর রশিদ ৩৪২ ধারায় দেওয়া আসামিদের জবানবন্দী পরীক্ষা নীরিক্ষা করে তাদেরকে জিজ্ঞাসা বাদের জন্য পিপি হাফেজ আহামেদকে আদেশ দেন।প্রথমে পিপি মামলার প্রধান আসামী সিরাজ উদ দৌলার বক্তব্য জানতে চান।জবাবে সিরাজ জানান,সে কারাগারে থাকাকালীন তার সাথে কোন আসামী সাক্ষাত করেনি এবং কি সে কাউকে হত্যার নির্দেশ দেয়নি।পিবিআই তাকে বৈদ্যুতিক শট দিয়ে ও তার উপর শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে,তার কাছ থেকে স্বীকারোক্তি আদায় করেছিল।সিরাজ নিজেকে নির্দোষ দাবী করে,নুসরাত হত্যাকান্ডে সে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করবে না জানিয়ে আদালতে লিখিত বক্তব্য পেশ করেন।

এরপর পিপি আসামি নুর উদ্দিনের অপরাধ বর্ননা করে,তার বক্তব্য জানতে চাইলে,সে বলেন তাকে গ্রেপ্তারের পর তার কাছথেকে জোরপূূর্বক স্বীকারোক্তি আদায়ের জন্য তাকে ঢাকা পিবিআই সদর দপ্তরে নিয়ে গিয়ে তার উপর দুই দিন ধরে শারীরিক নির্যাতন চালিয়েছিল পিবিআই।এ সময় পিবিআই হত্যাকান্ডে জড়িত থাকার বিষয় জোরপূর্বক আমার স্বীকারোক্তি আদায় করতে আমার উপর নানান দরণের শারিরীক নির্যাতন চালিয়েও যখন ব্যর্থ হয়,তখন আমাকে চোখ বেঁধে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে গিয়ে ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়েছিল।আসামী নুর উদ্দিন ও নিজেকে নির্দোষ দাবি করে সাফাই সাক্ষী দিবেনা জানিয়ে আদালতে লিখিত বক্তব্য জমা দিয়ে ন্যায় বিচার প্রার্থনা করেন।

 

 

এই ভাবে পিপি হাফেজ আহামেদ আসামী শাহাদাত হোসেনসহ মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যাকান্ডে জড়িত থাকার প্রমাণ পেয়ে,ফেনী আদালতে পিবিআই এর দায়ের করা অভিযোগ পত্রে অভিযুুক্ত সকল আসামীকে ধারাবাহিকভাবে তাদের দোষ গুলি তুলেধরে,তাদের মধ্যে যারা হত্যাকান্ডে জড়িত ছিল বলে পিবিআই এর কাছে যে জবানবন্দি দিয়েছিল,তা সত্যবলে আদালতের কাছে স্বীকার করতে বলেন।এই সময় হত্যাকান্ডে অভিযুক্ত আসামীদের মধ্যে ওই সময়ে যারা নুসরাত হত্যকান্ডের ঘটনায় নিজেদের জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে,পিবিআই এর কাছে জবানবন্দি প্রদান করেছিল,সেই সকল আসামীদের মধ্যে সবাই ৯ সেপ্টেম্বর আদালতের সামনে ওই সময়ে হত্যার সাথে জড়িত বলে তাদের দেওয়া জবানবন্দির কথা অস্বীকার করেন।তারা আদালতকে বলেন,ওই সময় আমরা হত্যাকান্ডে জড়িত বলে যে,জবানবন্দি দিয়েছিলাম তা শুধুমাত্র নিজেদেরকে জানে বাঁচিয়ে রাখতে মিথ্যা জবানবন্দি দিয়েছিলাম।কারণ ওই সময়ে পিবিআই আমাদেরকে গ্রেপ্তার করার পর আদালতের মাধ্যমে বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ডে নিয়ে,হত্যার ঘটনায় জড়িত ছিলাম বলে তাদের শিখিয়ে দেওয়া জবানবন্দি আদালতে বিচারকের কাছে স্বীকার করার জন্য আমাদের উপর পিবিআই দপায় দপায় যে অমানুষিক নির্যাতন চালাচ্ছিল তাতে মনে হচ্ছিল হয়তো আর বাঁচবো না।ওই সময়ে পিবিআই আমাদেরকে ক্রসফায়ারে মেরে পেলার ভয়ে দেখিয়ে,হত্যাকান্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে জোরপূর্বক বিচারকের কাছে মিথ্যা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদানে বাদ্য করেছিল।নুসরাত হত্যাকান্ডে অভিযুক্ত আসামীদের মধ্যে ইতিমধ্যে অনেকে হত্যায় জড়িত বলে,আদালতে বিচারকের কাছে স্বেচ্ছায় দায় স্বীকার করে জবানবন্দি প্রদান করলেও বর্তমানে সকল আসামী তা অস্বীকার করে,আত্নপক্ষ সমর্থনে নিজেরা নিজেদেরকে নির্দোষ দাবী করে আদালতে লিখিত বক্তব্য জমা দিয়েছেন।

উল্লেখ্য গত ৬ এপ্রিল সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসায়  পরীক্ষা দিতে কেন্দ্রে গেলে,নুসরাতকে মাদ্রাসার ছাদে ডেকে নিয়ে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছিল।এর আগে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজউদ্দৌলার বিরুদ্ধে করা যৌন হয়রানির মামলা প্রত্যাহারের জন্য নুসরাতসহ তার পরিবারের সদস্যদের উপর চাপ সৃষ্টি করে যাচ্ছিল হত্যাকারীরা।রাফির পরিবারের ভাষ্যে,২৭ মার্চ মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজউদ্দৌলা নুসরাতকে তার কক্ষে ডেকে নিয়ে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন।ওই ঘটনায় নুসরাতের পরিবার অধ্যক্ষ সিরাজের বিরুদ্ধে মামলা করায় নুসরাতকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করাহয়।