আলফাডাঙ্গায় প্রসূতির মৃত্যু মেয়রের মধ্যস্থতায় ক্লিনিক মালিককে ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা জরিমানা

প্রকাশিত

বোয়ালমারী প্রতিনিধি- ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা সদরে অবস্থিত পপুলার প্রাইভেট হসপিটাল এন্ড ডিজিটাল ডায়াগনিষ্টিক সেন্টারে গত সোমবার (০৯.০৯.১৯) সকাল সাড়ে আটটার সময় সিজারের পর মিম (২০) নামের এক প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ক্লিনিক মালিক বায়োজিত মোল্যাকে ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
প্রসূতির বাবা আলফাডাঙ্গা পৌরসভার হিদাডাঙ্গা গ্রামের মো. আকু মোল্যা বলেন, সোমবার সকাল ৮টার দিকে আমার মেয়ে মিমের প্রসাব বেদনা উঠলে তাকে পপুলার প্রাইভেট হসপিটাল এন্ড ডিজিটাল ডায়াগনিষ্টিক সেন্টারে ভর্তি করি। সাড়ে আটটার দিকে তাকে সিজার করেন ক্লিনিকের ডা. আসলামুজ্জামান কামাল। অপারেশনের পর থেকে মেয়ের সঙ্গে আমাদের কাউকে দেখা করতে দেয়নি ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ। বেলা ১টার দিকে কর্তৃপক্ষ আমাকে বলে রোগিকে ফরিদপুর নিয়ে যেতে হবে। আমি একটি মাইক্রোবাস ঠিক করে আমার মেয়েকে নিয়ে ফরিদপুর রওনা দেই। এই সময় আমার সাথে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ একজন লোক দেন। মাঝকান্দি পৌঁছালে সঙ্গের লোকটি টালবাহানা দেখিয়ে গাড়ি থামিয়ে নেমে পালিয়ে যায়। তখন আমরা বুঝতে পারি মিম মারা গেছে। তার মৃত্যু নিশ্চিত হতে পেরে মাঝকান্দি থেকে ফিরে আসি। মারা যাওয়ার ঘটনা জানাজানি হলে রাত ৮টার দিকে আলফাডাঙ্গা পৌর মেয়র মোঃ সাইফুর রহমান সাইফারের কার্যালয়ে তিনি এক শালিস বৈঠক বসিয়ে মৃত্যুর ক্ষতিপূরণ হিসেবে হসপিটাল কর্তৃপক্ষকে ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন। জরিমানার ৫০ হাজার টাকা আজ (১২.০৯.১৯) বৃহস্পতিবার ও ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা আগামি ২২ সেপ্টেম্বরে দেওয়ার কথা রয়েছে।
প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনায় সিজার করা গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী নিরাময় ক্লিনিকের মালিক ডা. আসলামুজ্জামান কামাল বলেন, আমি ৯টার দিকে সিজার করে যখন চলে আসি তখন রোগী সুস্থ্য ছিল। পরে আমাকে ফোনে জানানো হয়, রোগীর রক্তের চাপ কমে যাচ্ছে, সেই মূহুর্তে মোবাইল ফোনে ক্লিনিকের নিজস্ব চিকিৎসকে চিকিৎসাজানিত কিছু পরামর্শ দেই। তিনি আরো বলেন, আমি রাশিয়া থেকে ডিগ্রি নিয়ে এসেছি। আমার কাগজপত্র ফরিদপুর সিভিল সার্জন অফিসে জমা দেওয়া আছে।
এ ব্যাপারে পপুলার প্রাইভেট হসপিটাল এন্ড ডিজিটাল ডায়াগনিষ্টিক সেন্টারে মালিক বায়োজিদ মোল্যার কাছে জানতে চাইলে তিনি মোবাইল ফোনে বলেন, বিষয়টি নিয়ে পৌর মেয়র সাইফুর রহমান দায়িত্ব নিয়েছেন তিনি বসে আপোশ-মিমাংসা করে দেবেন।
পৌর মেয়র সাইফুর রহমান সাইফার বলেন, এটি একটা দূঘর্টনা। আমরা স্থানীয় ভাবে ঐ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে ক্ষতিপূরণ বাবদ ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকায় মিমাংসা করে দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য গত ৫ সেপ্টেম্বর আলফাডাঙ্গা সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বিভিন্ন অব্যবস্থপনা ও অনিয়মের কারণে পপুলার প্রাইভেট হসপিটাল এন্ড ডিজিটাল ডায়াগনিষ্টিক সেন্টারকে ২০হাজার টাকা জরিমানা করেন। এছাড়াও ক্লিনিকটি প্রতিষ্ঠার পর থেকে ৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯ পর্যন্তু ৬জন রোগী বিভিন্ন চিকিৎসা নিতে এসে অবহেলায় মৃত্যুবরণ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।