চকরিয়ায় গ্রামবাসীর কাছ থেকে সোয়া কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে আত্নগোপনে প্রবাসীর স্ত্রী বেবী আক্তার

প্রকাশিত

চকরিয়া-কক্সবাজার প্রতিনিধি-

কক্সবাজারের চকরিয়ায় অধিক মোনাফার প্রলোভনে ফেলে গ্রামবাসীর কাছ থেকে প্রায় সোয়া কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে বেবী আক্তার (৩০) নামে এক প্রবাসীর স্ত্রী আত্নগোপনে চলে গেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় বেশ কয়েকজন ভোক্তভোগী গ্রামবাসী প্রতারনার অভিযোগ এনে বেবী আক্তারের বিরুদ্ধে চকরিয়া সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত ও চকরিয়া থানায় একাধিক এজহার দায়ের করেছেন। উপজেলার কাকারা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বটতলী আলীমিয়া সিকদারপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত বেবী আক্তার ওই এলাকার সৌদি প্রবাসী নুরুল আবছারের স্ত্রী।

কাকারা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বটতলী আলীমিয়া সিকদারপাড়া এলাকার মিনহাজ উদ্দিনের স্ত্রী মেহেরুন্নেছা বেগম, কামাল হোসেনের স্ত্রী ইয়াসমিন আক্তার, নাসির উদ্দিনের স্ত্রী বেবি আক্তারসহ প্রতারণার শিকার আরও বেশ কয়েকজন নারী বলেন, একই এলাকার সৌদি প্রবাসী নুরুল আবছারের স্ত্রী বেবী আক্তার অধিক মোনাফার প্রলোভনে ফেলে টাকা হাওলাত নেয়ার কথা বলে এলাকার অন্তত ২৫জন নারীর কাছ থেকে প্রায় ১ কোটি ২৬ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। টাকা হাওলাত নেয়ার সময় বেবী আক্তার ওইসব নারীদের ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়া টাকা সুদে আসলে পরিশোধসহ প্রতি সপ্তাহে একশত টাকা করে মাসিক চারশত টাকা অতিরিক্ত মোনাফা দেয়ার কথা বলে প্রতারণার মাধ্যমে এসব টাকা হাতিয়ে নেয়। ভোক্তভোগীরা আরও বলেন, বেবী আক্তারের এ প্রতারনার সাথে তার নিকট আত্নীয় উপজেলার লক্ষ্যারচর ইউনিয়নের ছিকলঘাট এলাকার মৃত শামশুল আলমের পুত্র স্থানীয় ইউপি সদস্য চৌধূরী কবিরও জড়িত রয়েছেন।

 

 

প্রবাসীর স্ত্রী বেবী আক্তারের হাতে প্রতারণার শিকার কাকারা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বটতলী আলীমিয়া সিকদারপাড়া এলাকার কামাল হোসেনের স্ত্রী ইয়াসমিন আক্তার বলেন, প্রতারক বেবী আক্তার আমার দূ:সম্পর্কের আত্নীয় হয়। এ সুবাদে প্রায় সময় তিনি আমাদের বাড়িতে আসা যাওয়া করতেন। এক সময় বেবী আক্তার তার প্রবাসী স্বামীর জন্য টাকার প্রয়োজনের কথা বলে আমার কাছ থেকে কিছু টাকা হাওলাত চান। এসময় আমি অপরগতার কথা জানালে বেবী আক্তার সুদে আসলে সপ্তাহিক কিস্তি পরিশোধসহ প্রতিমাসে অতিরিক্ত চারশত টাকা লাভ দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে আমাকে স্থাণীয় গ্রামীন ব্যাংকের কাছ থেকে টাকা নিয়ে দেয়ার কথা বলেন। তখন তার সরল বিশ্বাসে রাজি হয়ে আমি গ্রামীন ব্যাংকের কাছ থেকে ৪ লাখ ২০ হাজার টাকা উত্তোলন করে দিই। প্রতিশ্রুতি মতো কয়েকমাস ব্যাংকের সপ্তাহিক কিস্তি পরিশোধসহ প্রতিমাসে আমাকে লভ্যাংশের চারশত টাকা পরিশোধ করেন বেবী আক্তার। পরবর্তীতে আরও লভ্যাংশের প্রলোভন দেখিয়ে বেবী আক্তার পুনরায় ৫ লাখ টাকা ধার চাইলে তাতে আমি অস্বীকৃতি জানাই। এসময় বেবী আক্তারের প্রবাসী স্বামী নুরুল আবছার সৌদি আরব থেকে ফোন করে তার স্ত্রীর ধার নেওয়া সমুদয় টাকা তিনি পরিশোধ করবেন বলে প্রতিশ্রতি দিলে আবারো স্থানীয় গ্রামীণ ব্যাংক থেকে ৫ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে বেবী আক্তারের হাতে তুলে দেন। পরবর্তীতে বেবী আক্তার বিশ্বাস জন্মাইবার জন্য ইসলামী ব্যাংক চিরিংগা শাখার ১২ লাখ টাকার একটি চেকও প্রদান করেন।

বেবী আক্তারের হাতে প্রতারণার শিকার কাকারা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বটতলী আলীমিয়া সিকদারপাড়া এলাকার মিনহাজ উদ্দিনের স্ত্রী মেহেরুন্নেছা বেগম একই কায়দায় বেবী আক্তার আমার কাছ থেকে ৩০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। এছাড়া মুক্তার কাছ থেকে ১২ লাখ, মিনুর কাছ থেকে ১২ লাখ, পিয়ারুর কাছ থেকে ৪ লাখ, নুরুল আমিনের কাছ থেকে ২ লাখ, বেবি আক্তারের কাছ থেকে ৪ লাখ, কাউসারের কাছ থেকে ১ লাখ, মনোয়ারার কাছ থেকে ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা, নুর আয়শার কাছ থেকে ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা, জন্নাতুল ফেরসাউসের কাছ থেকে ৩ লাখ ৫০ হাজার, সেলিনার কাছ থেকে ৬ লাখ টাকা, জোৎনার কাছ থেকে ৪ লাখ ৬০ হাজার টাকা, রাশেদা বেগম রাশুর কাছ থেকে ৭ লাখ টাকাসহ এলাকার ২৫জন সহজ সরল নারীর কাছ থেকে প্রায় ১ কোটি ২৬ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। এসময় তিনি পাওনাদারদের বিশ্বাস জন্মাইবার জন্য ইসলামী চিরিংগা শাখার বেশকিছু চেকও প্রদান করেন। ভোক্তভোগীরা আরও বলেন, প্রথমদিকে কয়েকমাস প্রতারক বেবী আক্তার ঋণ নেয়া এসব টাকার বিপরীতে সপ্তাহিক কিস্তিতে ব্যাংকে টাকা পরিশোধ করলেও পরবর্তীতে লাপাত্তা হয়ে যায়। ফলে ব্যাংকের টাকা পরিশোধের জন্য ঋণ গ্রহীতাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে চাপ সুষ্ঠি করতে থাকে ব্যাংকের কর্মকর্তারা। ঋণ পরিশোধ করতে না পেরে অনেক ঋণ গ্রহিতা এখন গা ঢাকা দিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে এখন অনেকের পরিবারে প্রতিনিয়ত ঝগড়া বিবাদের পাশাপাশি সংসার ভাঙ্গারও উপক্রম দেখা দিয়েছে।

প্রতারণার শিকার ভোক্তভোগীরা বলেন, ২৫জন নারীর কাছ থেকে সোয়া কোটি টাকা হাওলাত নিয়ে প্রতারক বেবী আক্তার পরিশোধের ভয়ে আত্নগোপনে চলে যাওয়ার পর তার নিকট আত্নীয় উপজেলার লক্ষ্যারচর ইউনিয়নের ছিকলঘাট এলাকার মৃত শামশুল আলমের পুত্র স্থানীয় ইউপি সদস্য চৌধূরী কবিরের ইন্ধনে বেবী আক্তারের শাশুড়ী মোস্তফা বেগমকে দিয়ে টাকা হাওলাত প্রদানকারীদের বিরুদ্ধে উল্টো থানা ও আদালতে সাজানো অপহরণ মামলা দায়ের করেছেন। যা এখন থানা পুলিশের তদন্তনাধীন রয়েছে।

প্রতারণার শিকার ভোক্তভোগী মেহেরুন্নেছা বেগম বলেন, প্রতারণার মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে বেবী আক্তারসহ তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে আরও বেশ কয়েকটি মামলার প্রস্তুতি চলছে। ভোক্তভোগীরা অবিলম্বে প্রতারক বেবী আক্তারকে খোঁজে বের করার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।