চ্যানেল সিক্স এ সংবাদ প্রকাশের পর অবশেষে মুক্ত হলেন শেকলে বাঁধা সাদেকুল

প্রকাশিত

নিজস্ব প্রতিবেদক,নওগাঁ-

উঠানের একপাশে গরু রাখার দুটি কক্ষের একটিতে রাখা হতো সাদেকুলকে। গ্রিলের দরজায় তালা দিয়ে বন্ধ করে রাখা হতো তাকে। রাত-দিন ওই ঘরের মধ্যে সাদেকুলের জীবন যাপন। খাবার দেয়া হতো গ্রিলের ফাঁক দিয়ে। মাঝেমধ্যে তার বড় ভাই বের করতেন গোসলের জন্য। ছোট্ট ঘরের মধ্যে বসে সাদেকুল নীরব দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকতেন বাইরের দিকে। গ্রামের সবাইকেই চিনতে পারতেন, তাই সামনের রাস্তা দিয়ে কেউ গেলেই ডেকে কথা বলতেন। বাইরে যাওয়ার জন্য তালা খুলে দেয়ার অনুরোধ করতেন। এই অবস্থায় ধীরে ধীরে সাদেকুলের মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে যেতে বসেছে, স্মৃতি শক্তিও।

অমানবিক এই দৃশ্য গ্রামবাসী দেখে আসছে প্রায় তিন বছর ধরে। কষ্ট পেয়েছেন; অনেকের মধ্যে ক্ষোভ জন্মেছে। অবশেষে সাদেকুরের এই বন্দীদশার অবসান ঘটলো বুধবার। সাদেকুলের বন্দীদশা নিয়ে “তিন বছর ধরে শিকলবন্দী সাদেকুল” শিরোনামে চ্যানেল সিক্স এ সংবাদ প্রকাশ হলে এতে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের দৃষ্টিগোচর হলে সাদেকুলকে উদ্ধারের উদ্যোগ নেয়া হয়।

দুপুরে রাণীনগর থানার ওসি জহুরুল ইসলাম ও সমাজসেবা কর্মকর্তা রেজোয়ানুল হক সাদেকুলকে বন্দীদশা থেকে মুক্ত করেন। এর আগে যুবক সাদেকুলের বন্দীদশা নিয়ে “তিন বছর ধরে শিকলবন্দী সাদেকুল” শিরোনামে চ্যানেল সিক্স এ সংবাদ প্রকাশ হয়। এতে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের দৃষ্টিগোচর হলে সাদেকুলকে উদ্ধারের উদ্যোগ নেয়া হয়।

সাদেকুলের মুক্তির পর গ্রামবাসী ও স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, মানবাধিকার কর্মিরা চ্যানেল সিক্স এর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

 

 

উদ্ধারের সময় সমাজসেবা কর্মকর্তা রেজোয়ানুল হক চ্যানেল সিক্সকে বলেন, পাগল বা মানসিক ভারসাম্যহীন হলেও কোনো মানুষকে এভাবে বন্দী করে রাখা অনুচিৎ। আইনত অপরাধ। সাদেকুলকে একটি ঘরের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বন্দী রাখায় ধীরে ধীরে সে আরো বেশি মানসীক ক্ষতির মুখে পড়েছে। তার পরিবারের লোকজন কাজটা ঠিক করেনি।

রাণীনগর থানার ওসি জহুরুল ইসলাম চ্যানেল সিক্সকে বলেন, উদ্ধারের পর সাদেকুলকে চিকিৎসা দেয়ার জন্য নওগাঁ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, নওগাঁ জেলার রাণীনগর উপজেলার ভবানীপুর মোবারক পাড়া গ্রামে সাদেকুল ইসলামকে তিন বছর ধরে কখনও শিকলবন্দী আবার কখনও গৃহবন্দী করে রাখা হয়েছে। পাগলামি করে মানুষের ক্ষতি করছে এমন অজুহাতে তাকে গৃহবন্দী করে রাখার অভিযোগ তার ভাই শেরেকুল ইসলামের বিরুদ্ধে।

পাশের ঘোষগ্রাম কফিলিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে ৮ম শ্রেণি পর্যন্ত পড়া লেখা করেছেন সাদেকুল। সেই সময় মানসিক রোগে আক্রান্ত হলে বিভিন্ন স্থানে তার চিকিৎসায় ছুটেছে পরিবার। পরবর্তীতে বাড়িতেই বন্দী রাখা হয়। সবশেষ বছর তিনেক আগে বাড়ির বাইরে গোয়াল ঘরের একটি কক্ষে ঠাঁই হয় সাদেকুলের।

সাদেকুলের বড় ভাই শেরেকুল ইসলাম জানান, অনেক টাকা খরচ করে চিকিৎসা করানোর পরও সাদেকুলের রোগ নিরাময় করা যায়নি। অভাবের সংসারে আর কোনো খরচ করতে না পেরে বাধ্য হয়ে ঘরে আটকে রাখা হয়েছে।