মনোহরদী উপজেলা হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তার নামে ঘুষের অভিযোগ

প্রকাশিত

মনোহরদী (নরসিংদী) প্রতিনিধি-
নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলা হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা আব্দুর রহমান আজাদের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ ও ব্যাপক হয়রানীর অভিযোগ উঠেছে। পেনশনভোগী, সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারী, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরী কাম প্রহরীদের বকেয়া ও নিয়মিত বেতন উত্তোলনের সময় চাহিদা অনুযায়ী ঘুষ না দিলে ব্যাপক হয়রানী করে থাকেন বলে অভিযোগ করেছেন ভূক্তভোগীরা। আব্দুর রহমান আজাদ মনোহরদী উপজেলা হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা হিসেবে গত বছর ডিসেম্বর মাসে যোগদান করার পর থেকে তার কার্যালয়ে অনিয়মকে যেন নিয়মে পরিণত করেছেন। ঘুষ দিতে না চাওয়ায় সুবিধাভোগীদের সাথে দূর্ব্যবহার নিত্য দিনের ঘটনা। ঠুনকো অজুহাত দেখিয়ে ফাইলে সই না করে নানাভাবে হয়রানী করে থাকেন এই কর্মকর্তা। দূর্নীতিবাজ এই কর্মকর্তার অপসারণ ও বিচার দাবি করে গত সোমবার সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩৪ জন দপ্তরী কাম প্রহরী লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন মনোহরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে।
এসব দপ্তরী কাম প্রহরীদের অভিযোগ, তৃতীয় ধাপে নিয়োগ পাওয়া মনোহরদী উপজেলার ৩৪ জন দপ্তরী কাম প্রহরীদের ৩৬ মাসের বকেয়া বেতনের অর্থ ছাড় হয় গত জুলাই মাসে। এই অর্থ উত্তোলন করতে উপজেলা হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা আব্দুর রহমান আজাদ দপ্তরীদের কাছে দেড় লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন। এসময় তারা বকেয়া বেতন পেয়ে ঘুষের টাকা পরিশোধ করবে বলে জানায়। পরবর্তীতে তারা ওই কর্মকর্তার দাবিকৃত ঘুষের টাকা পরিশোধ করেনি। এতে মারাত্মকভাবে ক্ষিপ্ত হন কর্মকর্তা আব্দুর রহমান আজাদ। সম্প্রতি দপ্তরীরা তাদের আগষ্ট মাসের বেতনের অর্থ ছাড় করাতে আসলে ফাইল আটকে দেন হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা। বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে বেতন দেওয়া যাবে না বলে তাদেরকে জানানো হয়। বেতনের অর্থ ছাড় করাতে গত কয়েকদিন ধরে কর্মকর্তার কাছে অনুরোধ জানিয়ে আসছিল দপ্তরীরা। কিন্তু কিছুতেই রাজি হয়নি হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা। অবশেষে গতকাল সোমবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছে এসব ভূক্তভোগী দপ্তরীগণ।
মইশাকান্দী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরী কাম প্রহরী জামিল মিয়া জানায়, ‘উপজেলা হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা আব্দুর রহমান আজাদ স্যারের দাবীকৃত দেড় লাখ টাকা ঘুষ না দেয়ায় আমাদের বেতন আটকিয়ে দিয়েছেন। ইউএনও স্যারের মাধ্যমে আমরা দ্রুত এর সুরাহা চাই।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, ‘যাবতীয় কাগজপত্র সঠিক এবং উর্দ্ধতন কর্মকর্তার সুপারিশ থাকা সত্ত্বেও অজানা কারণে আমার ভাতা প্রাপ্তির ফাইল আটকে রেখেছেন হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা।’
অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা আব্দুর রহমান আজাদ বলেন, ‘দপ্তরীদের কাছে আমি কখনো ঘুষ দাবি করিনি। তাছাড়া কোন কারণ ছাড়া কারো ফাইল আটকিয়ে রাখার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।’
মনোহরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাফিয়া আক্তার শিমু বলেন, ‘দপ্তরীদের বেতন না দেওয়ার কোন কারণ আমি দেখি না। তাদের অভিযোগ পেয়ে ওই কর্মকর্তাকে ডেকে দ্রুত বেতনের অর্থ ছাড়ের নির্দেশ দিয়েছি। তাছাড়া অন্যান্য যেসব অভিযোগ রয়েছে সেগুলো খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’