এমপিরাই বাধা অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে

প্রকাশিত

ডেস্ক নিউজঃ অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার পথে স্থানীয় সংসদ সদস্যরা সবচেয়ে বড় বাধা বলে সংসদীয় কমিটিকে জানিয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়। এছাড়া চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত মোট ৯৭ হাজার ৯৩৫টি অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে বলে বৈঠকে জানান হয়।

রবিবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি শহীদুজ্জামান সরকারের সভাপতিত্বে বৈঠকে অন্যদের মধ্যে অংশ নেন কমিটি সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ, আলী আজগার, নূরুল ইসলাম তালুকদার, আছলাম হোসেন সওদাগর, মোছা. খালেদা খানম ও বেগম নার্গিস রহমান।

বৈঠক শেষে কমিটির সভাপতি শহীদুজ্জামান সরকার বলেন, মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এ ধরনের একটি অভিযোগ করা হয়েছিল। কিন্তু আমরা বলেছি, সমস্যা কী আছে, সেটি আমাদের দেখার বিষয় নয়। আপনাদের কাজ অবৈধ সংযোগ বন্ধ করা। সেটি করতে হবে। এমপির পক্ষ থেকেই হোক বা অন্য কোনও রাজনৈতিক চাপ হোক, অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্নের কাজ অব্যাহত রাখতে হবে।

আলোচনার একপর্যায়ে ঢাকার আশপাশে গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ ও নরসিংদী এলাকায় অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্নের ক্ষেত্রে স্থানীয় এমপিদের বিরোধিতা ও অসহযোগিতার কথা জানান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু।

বৈঠকের কার্যপত্রে জানা গেছে, সরকারি মালিকানাধীন ছয়টি গ্যাস কোম্পানির মধ্যে চারটি কোম্পানি এই বছরের আগস্ট পর্যন্ত মোট ৯৭ হাজার ৯৩৫টি অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে। এ সময় ৩০৭ কিলোমিটার গ্যাস লাইন বিচ্ছিন্ন করা হয়। গ্যাস লাইনের পুরোটাই ছিল আবাসিক খাতের। বিচ্ছিন্ন করা সংযোগেরও প্রায় সিংহভাগ আবাসিক খাতের। এ সময় আবাসিকের ৯৭ হাজার ৮৩টি চুলাবিচ্ছিন্ন করা হয়। বাকিগুলোর মধ্যে বাণিজ্যিক খাতের ২০২টি, শিল্প খাতের ৮৭টি, সিএনজি ২২টি এবং ক্যাপটিভ সংযোগ ৪১টি।

গ্যাসের সিস্টেম লসের বিষয়ে শহীদুজ্জামান সরকার বলেন, মন্ত্রণালয় থেকে জানান হয়েছে, গ্যাস সরবরাহে সিস্টেম লস পাঁচ ভাগের একটু বেশি। কিন্তু এই সিস্টেম লসের পুরোটাই আবাসিক সংযোগসহ বেসরকারি ৪০ ভাগ গ্রাহকদের। সার কারখানা ও বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ সরকারি প্রতিষ্ঠান যে ৬০ শতাংশ গ্যাসের গ্রাহক, সেখানে কোনও সিস্টেম লস নেই। এসব বিষয় মাথায় রেখে সিস্টেম লসের প্রকৃত হার নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৈঠকে ২০২০ সালের মধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদন ২৩ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীতকরণ এবং ৯৬ ভাগ জনগোষ্ঠীকে বিদ্যুৎ সুবিধা দিতে মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। এছাড়া সিস্টেম লস সামগ্রিকভাবে না দেখিয়ে আলাদাভাবে দেখানোর জন্য মন্ত্রণালয়কে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।