যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে দুর্ভোগ হয়রানি আর কত?

প্রকাশিত

রনি ইসলাম: যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাসেবার জন্য আসা মানুষের দুর্ভোগ ও হয়রানির শেষ নেই। হাসপাতালে প্রবেশ করা থেকে বের হওয়ার আগ পর্যন্ত এ পরিস্থিতির মধ্যেই তাদের চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করতে হয়। পূর্ণাঙ্গভাবে চিকিৎসাসেবা পেতে অনেকের সময় লেগে যায় তিনদিন। রোগীদের ভাষ্যমতে, টিকিট কাউন্টারে দুর্ভোগ, চিকিৎসকের কক্ষে প্রবেশ করতে দুর্ভোগ, ক্যাশ কাউন্টারে দুর্ভোগ, প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে গিয়ে দুর্ভোগ, পরীক্ষার রিপোর্ট পাওয়ার সময়ও পেতে হচ্ছে দুর্ভোগ। আবার সঠিক সময়ে রিপোর্ট না পাওয়ার কারণে অনেকে চিকিৎসক না দেখিয়ে বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক আবুল কালাম আজাদ লিটু জানান, শয্যার বিপরীতে দ্বিগুণেরও বেশি রোগী ভর্তি থাকেন। আবার বহির্বিভাগে হাজার হাজার রোগী চিকিৎসার জন্য আসেন। রোগীর তুলনায় জনবল ও জায়গা সংকটের কারণে দুর্ভোগ বেড়েছে। রোগীরা জানান, বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের দীর্ঘ লাইন পড়ে টিকিট কাউন্টারে। অথচ মাত্র দুটি কাউন্টার থেকে টিকিট বিতরণ করা হয়। যে কারণে টিকিট পেতে রোগীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে অপক্ষো করতে হয়। টিকিট নিয়ে চিকিৎসকের কক্ষের সামনে গিয়ে আবার দুর্ভোগের মুখে পড়েন রোগীরা। শ’শ’ রোগী সিরিয়ালে থাকলেও দেখা যাচ্ছে চেম্বারে চিকিৎসক নেই। নাস্তার জন্য বের হয়ে আধা ঘণ্টায়ও চেম্বারে ফেরেন না তারা। আবার চেম্বারে থাকলেও রোগীর চিকিৎসা প্রদানে রয়েছে গাফিলতি। যে কারণে দীর্ঘ সময় লাইনে থেকে রোগীদের দুর্ভোগের কবলে পড়তে হচ্ছে। আবার চিকিৎসক যদি ব্যবস্থাপত্রে পরীক্ষা-নিরীক্ষার নির্দেশনা দেন তাহলে ক্যাশ কাউন্টারে টাকা জমা দিতে গিয়ে রোগীদের লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে। এখানে দুটি কাউন্টারে টাকা জমা নেয়ার কারণেও রোগীদের দুর্ভোগ। আবার বেলা ১২টার পর ক্যাশ কাউন্টারে টাকা জমা নেয়া হয় না। যে কারণে অনেকেই পরীক্ষা নিরীক্ষার টাকা দিতে ব্যর্থ হন। এজন্য রোগীদের অপেক্ষা করতে হয় পরের দিন পর্যন্ত। এ প্রসঙ্গে বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী মুন্না, পারভিনা খাতুন, মুকুল হোসেন, শিরিন আক্তারসহ আরো অনেকেই জানান, এখানে ক্যাশ কাউন্টার দুটি তারপরেও আবার টাকা জমার নির্ধারিত সময় করে দেয়ায় অনেকেই পরীক্ষা নিরীক্ষা করতে পারছেন না। এজন্য তাদের আবার পরের দিন আসতে হয় হাসপাতালে। টাকা জমা দিয়ে নির্ধারিত স্থানে গিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা করতে গিয়ে আবার তাদের দুর্ভোগ ও হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। রোগীর তুলনায় পর্যাপ্ত জনবল না থাকায় সেখানেও জমে যায় রোগীদের দীর্ঘ লাইন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অনেক সময় প্যাথলজি বিভাগ থেকে পরীক্ষার রিপোর্ট দেয়া হয় পরের দিন। ফলে চিকিৎসাসেবার জন্য আবারও তাদের আসতে হয় হাসপাতালে। এমন দুর্ভোগের শিকার রোগী আতিকুর রহমান, জয়নাল আবেদিন জানান, পরের দিন এসে পরীক্ষার রিপোর্ট হাতে পেতেও তাদের দুর্ভোগের সম্মুখীন হতে হয়। তথ্য কেন্দ্রে মাত্র একজন কর্মচারীর পক্ষে সব বিভাগের রিপোর্ট প্রদান করার কারণে সেখানেও দীর্ঘ সময় অপেক্ষায় থাকতে হয় তাদের। তাদের ভাষ্যমতে, হাসপাতালে এসে পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসাসেবা পেতে তাদের সময় লেগেছে মোট তিনদিন।
এদিকে, আন্তঃবিভাগে রোগীদেরও চিকিৎসাসেবায় রয়েছে নানা দুর্ভোগ ও হয়রানি। চিকিৎসক পরীক্ষা নিরীক্ষার জন্য নির্দেশনা দিয়ে গেলেও সংশ্লিষ্টরা রক্ত ও প্রসাব সংগ্রহ করতে আসেন দুপুরের পর। অনেক সময় স্বজনরা তাগিদ দিলে বলা হয় রোগীকে এখানে আনেন। রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, ইচ্ছেমতো দায়িত্ব পালন করার কারণে তারা রিপোর্ট হাতে পান পরের দিন বেলা ১টার পর। রোগীদের দাবি অনুযায়ী টিকিট কাউন্টার, ক্যাশ কাউন্টার ও প্যাথলজি বিভাগে জনবল বাড়ানো ও চিকিৎসকদের সঠিকভাবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেয়া হলে রোগীদের দুর্ভোগ ও হয়রানি কিছুই লাঘব হবে। তত্ত্বাবধায়ক লিটু জানান, মোট চিকিৎসকের পদ রয়েছে ৫৪টি। কর্মরত আছেন ৪৪ জন। আবার কর্মকর্তা কর্মচারীদের সংখ্যাও অনেক কম। অথচ ২৫০ শয্যার হাসপাতালে প্রতিদিন ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৫০০ ছাড়িয়ে যায়। বহির্বিভাগে রোগীর সংখ্যা ২ হাজারেরও বেশি। যা বর্তমান জনবল দিয়ে চিকিৎসাসেবা প্রদান করতে কষ্টকর হয়ে পড়ছে। সেই সাথে মারাত্মক জায়গা সংকট রয়েছে। এমন পরিবেশে রোগীদের দৃশ্যে নিজেও কষ্ট পাচ্ছি। কিন্তু অসহায়ত্ব প্রকাশ করা ছাড়া কিছুই করার নেই। জায়গার অভাবে কাউন্টার বাড়ানোরও উপায় নেই।