কুমিল্লায় বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ভুয়া নার্সের ছড়াছড়ি!

প্রকাশিত

এস.এম.মনির, জেলা প্রতিনিধি, কুমিল্লা –
স্বাস্থ্য সেবার মানোন্নয়ন করতে বর্তমান সরকার নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহন করে স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করছে। সরকারী হাসপাতালের পাশাপাশি সারাদেশে অসংখ্য প্রাইভেট হাসপাতাল স্বাস্থ্য সেবা দিয়ে যাচ্ছে। স্বাস্থ্য সেবা নিয়ে বিভিন্ন সময় বির্তকও সৃষ্টি হয়েছে। সেবা গ্রহীতারা হাসপতাল গুলোর বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে প্রতিবাদ ও করছে প্রায়ই। হাসপাতালের নানা রকম সমস্যার পাশাপাশি অভিযোগ রয়েছে হাসপাতাল গুলোতে নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে নিয়ম বর্হিভূত ভাবে অদক্ষ নার্স নিয়োগ করে রোগীদের সেবা প্রদানে রোগীরা প্রকৃত সেবা থেকে বঞ্চিত হওয়ার। সারাদেশের একটি স্বনামধন্য জেলা হিসেবে বেশ পরিচিত কুমিল্লা।
কুমিল্লায় প্রাইভেট হাসপাতাল গুলোতে “ভুয়া নার্সের” ছড়াছড়ি। স্বাস্থ্য সেবাকে ব্যবসায় পরিনত করে অধিক মুনাফার লোভে জেলায় প্রায়ই গড়ে উঠছে প্রাইভেট হাসপাতাল। বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকেই বিষয় ভিত্তিক জ্ঞান ও উপযুক্ত প্রশিক্ষণবিহীন নার্স রয়েছে। তাদের নেই নার্সিং কাউন্সিলের নিবন্ধন। ডিপ্লোমা ও বিএসসি নিবন্ধিত নার্সরা তাদের নাম দিয়েছেন ‘ভুয়া নার্স’। সংশ্লিষ্টদের মতে, এসব প্রশিক্ষণ ও নিবন্ধনবিহীন অর্ধশিক্ষিত ব্যক্তি নার্স হিসেবে নিয়োগের ফলে প্রকৃত নিবন্ধিত ও প্রশিক্ষিত নার্সরা চাকরি পাচ্ছেন না।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কুমিল্লা জেলার বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে কর্মরত আছেন প্রায় হাজারের অধিক নার্স। মহানগরীর নামিদামি হাসপাতালেও উল্লেখ যোগ্যসংখ্যক ‘ভুয়া নার্স’ কাজ করছেন। সিভিল সার্জনের পক্ষ থেকে এসব হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করা হলেও নেয়া হয়নি কার্যকরী কোনো উদ্যোগ। কিন্তু সেদিকে কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই বেসরকারি হাসপাতালগুলোর কর্তৃপক্ষের।

বাংলাদেশ নার্সিং কাউন্সিল অর্ডিনেন্স ১৯৮৩ অনুযায়ী বাংলাদেশ নার্সিং কাউন্সিলের রেজিস্ট্রেশন/লাইসেন্স (পেশাগত সনদ) ব্যতীত কোনো নার্সকে কোনো হাসপাতাল, ক্লিনিক, স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান বা কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ প্রদান সম্পূর্ণ অবৈধ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ। কিন্তু কুমিল্লার প্রাইভেট হাসপাতাল গুলোতে আইনের কোন তোয়াক্কা না করেই নার্স নিয়োগ দেয়ার হিড়িক পড়েছে।

কুমিল্লা জেলায় স্বাস্থ্য অধিদফতরের লাইসেন্সপ্রাপ্ত বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক, ডেন্টাল ক্লিনিক, ব্লাডব্যাংক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সংখ্যা রয়েছে ২৭৫টি। যার মধ্যে শুধুমাত্র কুমিল্লা নগরীতেই রয়েছে ১০৩টি। এছাড়া জেলার চৌদ্দগ্রামে ১০টি, বরুড়ায় ৮টি, নাঙ্গলকোটে ৪টি, চান্দিনায় ১২টি, সদর দক্ষিণে ৬টি, লাকসামে ১৭টি, মনোহরগঞ্জে একটি, হোমনায় ১০টি, মেঘনায় একটি, বুড়িচংয়ে ৭টি, ব্রাহ্মণপাড়ায় ৬টি, তিতাসে ১১টি, দেবিদ্বারে ১৩টি, মুরাদনগরে ২৩টি ও দাউদকান্দিতে ৩৯টি ক্লিনিক, হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে। হাসপাতাল গুলোর বেশির ভাগই পরিচালিত হচ্ছে অদক্ষ নিয়ম বহির্র্ভূত নার্স নিয়োগ করে।

এ ব্যাপারে কুমিল্লার কয়েকটি হাসপাতালের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করলে তারা জানান, যাদের নার্সিং কাউন্সিলের রেজিষ্ট্রেশন নাই তাদেরকে এইড নার্স বা সেবিকা সহযোগী হিসেবে নিয়োগ প্রদান করা হয়। তাদেরকে দিয়েই রোগীদের সেবা দেয়া হয়।

এ ব্যাপারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কুমিল্লার দুটি স্বনামধন্য প্রাইভেট হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, শুধু কুমিল্লাতেই নয়, সারা দেশেই এসব ভুয়া নার্স রয়েছে। স্বাস্থ্য সেবার মান নিশ্চিত করতে প্রতি দশজন রোগীর জন্য একজন নার্স প্রয়োজন। কিন্তু প্রাইভেট হাসপাতাল গুলোতে এরকম কোন চিত্রই চোখে পড়েনা। অনিবন্ধিত নার্স নিয়োগ দেয়া আইনত দ-নীয় অপরাধ হওয়া সত্ত্বেও কেউ আইন মানছে না। আইনী জটিলতার কারনে আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার ক্ষমতা নার্সিং কাউন্সিলের না থাকায় এ সমস্যার সমাধান হচ্ছে না। তিনি রোগীদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে নার্সিং কাউন্সিলের ক্ষমতা বাড়াতে সরকারে দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
কুমিল্লার সিভিল সার্জন ডাঃ মোঃ মুজিবুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ নার্সিং কাউন্সিল অর্ডিনেন্স ১৯৮৩ অনুযায়ী বাংলাদেশ নার্সিং কাউন্সিলের রেজিষ্ট্রেশন/ লাইসেন্স (পেশাগত সনদ) ব্যতিত কোন নার্সকে কোন হাসপাতাল, ক্লিনিক, স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ প্রদান সম্পূর্ণ অবৈধ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ। সুনিদিষ্ট তথ্য প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।