কুমিল্লা সদরে প্রতিবন্ধী স্কুল দখলের চেষ্টা।প্রশাসন হস্তক্ষেপ চেয়ে সাংবাদিক সম্মেলন।

প্রকাশিত
কুমিল্লা প্রতিনিধি –

কুমিল্লা সদর আড়াইওরা এলাকায় ‘পরশ প্রতিবন্ধি স্কুল’ নামে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রভাব খাটিয়ে জবর দখলের চেষ্টা করছেন একটি প্রভাবশালী মহল। এ ঘটনার স্কুলটি রক্ষায় সংবাদ সম্মোলনে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

সোমবার (২১ অক্টোবর) বেলা ১১ টায় সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে পাঠ করেন পরশ প্রতিবন্ধি স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. জহির হোসেন।

লিখিত বক্তব্যে মো: জহির হোসেন জানান, পরশ সমাজকল্যান সংস্থা কর্তৃক মীর্জা ফাতেমা আহমেদ পরশ প্রতিবন্ধী স্কুলটি আড়াইওরা এলাকায় নিজস্ব ভূমিতে ২০০৮সালে প্রতিষ্ঠা করেন। সমাজকল্যাণ অধিদপ্তর কর্তৃক যার রেজিঃ নম্বর-(১৮০৭/০৮)। গত ১১বছর যাবৎ অত্যন্ত সুনাম ও সুষ্ঠুভাবে প্রতিবন্ধী ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি পরিচালিত হয়ে আসছে। স্কুলটির প্রসার ও ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষার অগ্রগতিতে সস্তÍষ্ট হয়ে কুমিল্লা জেলা পরিষদ অনুদানের মাধ্যমে একটি দ্বিতল ভবন নির্মাণ করে দেন। নির্মিত ভবনটিতে স্কুলটির কার্যক্রম সাবলীলভাবে চলছে। এরই মধ্যে স্কুলটির সুষ্ঠু এবং নিষ্ঠার সাথে পরিচালিত হওয়ার কারনে তিনবার জাতীয় এবং সমাজকল্যাণ অধিদপ্তর থেকে সফল সমাজকর্মী হিসাবে সভাপতি ব্যক্তিগত এবং প্রতিষ্ঠানগতভাবে পুরস্কার লাভ করেছেন। বর্তমানে স্কুলটিতে মোট ৯৫জন ছাত্র-ছাত্রী ও চারজন শ্রেণি শিক্ষক, একজন স্বাস্থ্যগত শিক্ষক এবং সেবাকর্মী রয়েছেন। সমাজের স্বনামধন্য ব্যক্তি ও বেসরকারি সংস্থার আর্থিক সহযোগিতায় স্কুলটি কাজ গতিশীল আছে। স্কুলটি সামনে রয়েছে ওই এলাকার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন দানশীল ব্যক্তির মৌলিকদান করা একচিলতে মাঠ। যা স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীরা শারিরীক প্রশিক্ষণ ও খেলাধূলার জন্য ব্যবহার করে থাকে।

লিখিত বক্তব্যে মো: জহির হোসেন অভিযোগ করেন, গত ৭ই সেপ্টেম্বর একটি কুচক্রী মহল স্কুলের সামনের খোলা মাঠটি দখল করার নির্মিত্তে স্থানীয় জামাল হোসেন নামে এক ব্যক্তি তার দলবল নিয়ে ছবি ও স্ব্ক্ষার সম্বলিত ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ ফারুক হোসেন প্রতিবন্ধী স্কুল’ নাম করে একটি মনগড়া চিঠির ফটোকপি এলাকাবাসীর মধ্যে বিতরণপূর্বক খোলা মাঠটি তথা স্কুলটি জবরদখল করার শুরু করেন। তারা স্কুলের সাইনবোর্ডটিও খুলে ফেলেন। ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ওই কথিত বীর মুক্তিযোদ্ধা ১৯১৪ সালে প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠা করেছেন। কিন্তু ১৯১৪ ছিলো বৃটিশশাসনামল। সেই সময় অত্র এলাকা ছিলো জলাভূমি ও ফসলী জমি। এমনকি কুমিল্লা-বুড়িচং সড়কের কোনো অস্থিত্বও তখন ছিলো না। বর্তমানে ফারুক হোসেন প্রতিবন্ধী স্কুলের খোলা মাঠটি স্থানীয় জামাল হোসেনকে দিয়ে জবরদখলের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এই অবস্থায় স্কুলটি রক্ষায় প্রশাসনসহ সকলের সহযোগীতা কামনা করেছেন মো: জহির হোসেন।

অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে অভিযুক্ত ফারুক হোসেনের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও তার মুঠোফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। তবে এ ঘটনায় অপর অভিযুক্ত মো: জামাল হোসেন তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। তিনি বলেন, আমি ওই স্কুলের সম্পত্তি দখল করতে যাইনি।