অদম্য মেধাবী শিক্ষার্থী নুসরাত কি অর্থের কাছে হেরে যাবেন ?

প্রকাশিত

সুজন সারোয়ার, জাহাঙ্গির আকন্দ,টঙ্গী (গাজীপুর)- 

গাজীপুর টঙ্গীর কো-অপারিটিভ ব্যাংক মাঠ বস্তিতে ছোট একটি ঘরে ২০০২ সালে জন্ম গ্রহন করে নুসরাত। তার বাবা মা দু”জন দিন মুজুর কোন ভাবে খেয়ে না খেয়ে বড় হতে থাকে নুসরাত। বাবা মার স্বপ্ন নুসরাত কে লেখা পড়া শেখাবে সে সামর্থ তাদের ছিলনা তার । পরেও টঙ্গী রেলওয়ে শিশু নিকেতন স্কুলে ভর্তি করান বাবা মা। নুসরাতের লেখা পড়া করার স্বপ্ন শুরু হয়। বাবা মা খুশি মেয়েকে স্কুলে ভর্তি করে। প্রথম শ্রেনী পরিক্ষা দেওয়ার পর ক্লাস রোল ছয় হয়। ২য়,৩য়, ৪র্থ, ৫ম শ্রেনীতে ক্লাস রোল ০৪ নিয়ে পিএসসি পরিক্ষায় জিপিএ ০৫ পেয়ে নোয়াগাও এম এ মজিদ মিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে ৬ষ্ঠ শ্রেনীতে ভর্তি হয় ৭ম শ্রেনী হতে ১০ম শ্রেনী পর্যন্ত ক্লাস রোল ০১ নিয়ে জে এস সি পরিক্ষায় জিপিএ ০৫ পেয়েছিলো।
এবার স্বপ্ন এস এস সি ২০১৯ পরিক্ষার, ৬ষ্ঠ শেণী হতে যখন প্রাইভেট মাষ্টার দিয়ে পরানোর কথা সে সময় স্কুলের বেতন পরিশোধ করে প্রাইভেট মাষ্টারের বেতন দেওয়া সামর্থ ছিলনা বাবা মায়ের। ঠিক সে সময় নোয়াগাও এম এ মজিদ মিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা রুকসানা ম্যাডাম ও সহকারী শিক্ষক মোঃ সোহেল স্যার বিনা টাকায় প্রাইভেট পড়ানোর দ্বায়ীত্ব নেন এবং চেঞ্জ দ্যা লাইফস্ বাংলাদেশ এর কর্মকর্তা মোঃ জাহিদ হোসেন সুমন কিছু দিন আর্থিক সহোযাগীতা করেন। সেন্টাল কো-অপারেটিভ ব্যাংকের ম্যানেজার হাজী মোঃ কামাল উদ্দিন ভিবিন্ন পরিক্ষার সময় আর্থিক সহযোগীতা করে।
গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন ৫৬নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মোঃ আবুল হোসেন বিভিন্ন ভাবে সহযোগীতা করে। এ ভাবেই নুসরাতের লেখা পড়া এগিয়ে যেতে থাকে গাজীপুর জেলার ৪০টি স্কুল নিয়ে মফিজুল ইসলাম শিক্ষা বৃত্তি ২০১৯সন স্কুল পর্যায়ে প্রথম হয়।
আজ নুসরাতের স্বপ্ন সফল হতে যাচ্ছে, এখন তার ইচ্ছে মাননীয় শিক্ষা মন্ত্রীর সাথে সাক্ষাত করার সে আরো অনেক দুর এগিয়ে যেতে চায় বাবা মায়ের কষ্ট দুর্দশা দুর করে নিজে লেখাপড়া করে সমাজে প্রতিষ্ঠিত হতে চায়,গরীবের ঘরে জন্ম নিয়েও ভালো কিছু করা তার স্বপ্ন এ স্বপ্ন যেন নুসরাত পুরন করতে পারে এ জন্য মাননীয় শিক্ষা মন্ত্রীর সহযোগীতা আশা করেন নুসরাত।
নুসরাত শিক্ষক হতে চান কারন যানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি যে ভাবে কষ্ট করে খেয়ে না খেয়ে অনাহারে লেখা পড়া করে যাচ্ছি । অনেকেই তা পারেনা। আপনাদের সহযোগীতায় যদি লেখা পড়া শেষ করতে পারি, তাহলে আমার সামনে কোন গরীব শিশুকে টাকার জন্য লেখাপড়া বন্ধ করতে দিবনা। আমাকে যে ভাবে মানুষ সহযোগীতা করেছে। তাদের কথা মনে রেখে আমি সমাজের জন্য কাজ করবো, গরীব মানুষের সেবা করবো।