অর্থনীতি নবম ও দশম শ্রেণি

প্রকাশিত

নবম অধ্যায়: অনুধাবনমূলক প্রশ্ন- ১। মৌসুমি বেকারত্ব কাকে বলে? উত্তর: প্রাকৃতিক কারণে বছরের কোনো বিশেষ বিশেষ সময়ে এ ধরনের বেকারত্ব হয়। যেমন ফসল বপন ও কর্তনের সময় ছাড়া অন্যান্য সময়ে গ্রামীণ শ্রমিকের কোনো কাজ থাকে না। অর্থাৎ বছরের যে সময় কৃষি শ্রমিক বা গ্রামীণ শ্রমিক কাজের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়, সে সময়ের জন্য ওই শ্রমিককে মৌসুমি বেকার বলে। ২। ছদ্মবেশী বেকারত্ব কাকে বলে? উত্তর: প্রান্তিক উৎপাদনশীলতা শূন্য বিশিষ্ট লোককে প্রচ্ছন্ন বেকার বা ছদ্মবেশী বেকার বলে। যেমন ধরা যাক, একজন কৃষকের দুই বিঘা জমি আছে। সে একাই ওই জমিতে চাষ করে এবং নির্দিষ্ট পরিমাণ ফসল উৎপাদন করে। এখন যদি তার দুই ছেলে বাবার সাথে ওই জমিতে চাষের কাজে নিযুক্ত হয়, তাহলে আপাতদৃষ্টিতে মনে হবে তিনজন লোক কাজে নিযুক্ত রয়েছে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে দেখা যাবে ওই কৃষক একা যা উৎপাদন করত দুই ছেলেসহ উৎপাদনের পরিমাণ একই হয়। অতএব দেখা যাচ্ছে, অতিরিক্ত দুজন লোকের প্রান্তিক উৎপাদনশীলতা শূন্য। এর কারণ হলো তিনজন লোক একজনের কাজকে ভাগ করে নিচ্ছে। সুতরাং এই দুজন শ্রমিককে প্রচ্ছন্ন বেকার বলে অভিহিত করা হয়। তাহলে প্রচ্ছন্ন বেকারত্ব হলো সেই অবস্থা, যেখানে শ্রমিক আপাতদৃষ্টিতে কাজ করছে বলে মনে হয়, কিন্তু তার প্রান্তিক উৎপাদনশীলতা শূন্য। ৩। স্থায়ী বেকারত্ব কী? উত্তর: যে শ্রমিক বছরে কোনো সময় কাজ পায় না, তাকে স্থায়ী বেকার বলে। এ ধরনের বেকারত্ব বাংলাদেশে নেই বললেই চলে। গ্রামীণ জনসাধারণের কর্মক্ষম ব্যক্তিদের মধ্যে কোনো ব্যক্তি সারা বছর বেকার থাকে না। কর্মক্ষম লোক বছরের কোনো না কোনো সময় কমবেশি কাজ করেই থাকে। বাংলাদেশের গবেষক ড. বরকত-ই-খুদার গবেষণা থেকে দেখা যায়, ব্যস্ত মৌসুমে পুরুষদের মাত্র ১৩ শতাংশ এবং মহিলাদের মধ্যে মাত্র ১৮.৮ শতাংশ মানুষ বেকার থাকে। তবে এসব মানুষ বছরের অন্য সময় কমবেশি কাজ করে। ৪। মানবসম্পদ কাকে বলে? উত্তর: কোনো দেশের ভূমি ও মূলধনকে বস্তুগত সম্পদ এবং শিক্ষায় দক্ষ ও কর্মক্ষম শ্রমশক্তিকে মানবসম্পদ বলে। দেশের প্রাকৃতিক সম্পদগুলোকে কাজে লাগিয়ে অর্থনৈতিক উন্নয়নের গতি ত্বরান্বিত করতে দক্ষ মানবশক্তির জোগান থাকা প্রয়োজন। অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য বস্তুগত সম্পদ ও মানবসম্পদÑ এ দুটিই জরুরি। দক্ষ মানবসম্পদ অর্থনৈতিক উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। ৫। শিক্ষার মাধ্যমে কিভাবে মানবসম্পদ উন্নয়ন করা যায়? উত্তর: শিক্ষা ব্যক্তিজীবন ও জাতীয় উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য। সুতরাং দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন করে সবার জন্য কর্মমুখী শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে। একজন মানুষ নিরক্ষর থাকতে পারে; কিন্তু অজ্ঞ নয়। তাকে কর্মমুখী শিক্ষাদান করলে মানবশক্তির উন্নয়ন হয়। একজন নিরক্ষর মানুষ ভালো ও দক্ষ চাষি হয়ে উৎপাদন কয়েক গুণ বৃদ্ধি করতে পারে। বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে পেশাগত শিক্ষা বা কারিগরি শিক্ষা ব্যবস্থার প্রসার ঘটিয়ে মানবসম্পদ উন্নয়ন করা যায়।

Be the first to write a comment.

Leave a Reply