অর্থপাচারের ৩২ মামলা বিচারাধীন

প্রকাশিত

নিজস্ব প্রতিবেদক :বিদেশে অর্থপাচারের অভিযোগে এ পর্যন্ত ৩২টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। যা বর্তমানে বিচারাধীন আছে। এর মধ্যে একটি মামলার (আরাফাত রহমান কোকোর বিরুদ্ধে করা) রায় হওয়ার পাশাপাশি পাচারকৃত অর্থও দেশে ফেরত আনা হয়েছে।

রোববার বিকেলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও বাংলাদেশ ব্যাংকের ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর আবু হেনা মোহাম্মদ রাজী হাসান এসব তথ্য জানান।

এনবিআরের প্রধান কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এনবিআরের সদস্য এম আশফাক হুসেন এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষে নির্বাহী পরিচালক মো. মিজানুর রহমান জোদ্দার সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন। এ সময় অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব  ও এনবিআরে চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া ও বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষে ডেপুটি গভর্নর ও বিএফআইইউর প্রধান আবু হেনা মোহাম্মদ রাজী হাসান উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় এনবিআর চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া বলেন, এ ধরনের অতি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্বাক্ষর মান্ডিলন্ডারিং রোধ ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধে মাইলফলক হয়ে থাকবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে পরিচালিত বর্তমান  সরকার দেশে মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধের মাধ্যমে দেশের উন্নয়ন অব্যাহত রাখতে এবং বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি সমুন্নত রাখতে বদ্ধপরিকর।

গ্লোবাল ফিন্যান্সিয়াল ইন্টিগ্রেটির (জিএফআই) প্রতিবেদনের বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন,  প্রতিবেদন অনুযায়ী আমরা দেখতে পাই যে, ২০০৫-২০১৪ মেয়াদে বাংলাদেশ থেকে ৬১.৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পাচার করা হয়েছে, যা বাংলাদেশের ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরের জিডিপির প্রায় ২৫ শতাংশ। মানিলন্ডারিং, সন্ত্রাসী কাজ এবং সন্ত্রাসী কাজে অর্থায়নের ফলে দেশের অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধ ও এ বিষয়ে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা দেশে বিদ্যমান ‘মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২’ ও ‘সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯’ অনুসারে এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থার নিজ নিজ দায়িত্ব। এ প্রেক্ষাপটে সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থার একযোগে কাজ করা এবং তথ্য বিনিময়ের বিষয়টি অতি জরুরি। এ লক্ষ্যকে সামনে রেখেই বিএফআইইউ এবং এনবিআরের মধ্যে স্বাক্ষরিত হচ্ছে এ সমঝোতা স্মারক।

সমঝোতা স্মারকের প্রধান উদ্দেশ্যসমূহ তুলে ধরে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসী কাজে অর্থায়ন অপরাধ দমনে তথ্য বিনিময় এবং আন্তঃসংস্থা সহযোগিতা বৃদ্ধি করা, মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন রোধে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অভিজ্ঞ মতামত প্রদান, প্রশিক্ষণ, অবকাঠামোগত উন্নয়নে সহযোগিতা এবং লজিস্টিক সহায়তা করা এ সমঝোতা স্মারকের উদ্দেশ্য।

সমঝোতা স্মারকের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে এক পক্ষ অপর পক্ষের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য সভা, সেমিনার, কর্মশালা ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচি আয়োজন করবে।  কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ে অভিজ্ঞ মতামত গ্রহণ বা প্রদান করবে এবং অভিজ্ঞ কর্মকর্তা বিনিময় করবে।

সমঝোতা স্মারকের যথাযথ প্রয়োগের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে তিনি বলেন, সমঝোতা স্মারকের আওতায় কার্যকর যোগাযোগ রক্ষার জন্য উভয় পক্ষে একজন করে ফোকাল পয়েন্ট এবং প্রয়োজনীয় সংখ্যক প্রাথমিক যোগাযোগ কর্মকর্তা থাকবেন।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের পক্ষে সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেলের (সিআইসি) মহাপরিচালক এবং বিএফআইইউর পক্ষে এর মহাব্যবস্থাপক ও অপারেশনাল প্রধান ফোকাল পয়েন্ট কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

অনুষ্ঠানে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সদস্যবর্গ, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক, বিএফআইইউর কর্মকর্তাবৃন্দ, এনবিআরের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল (সিআইসি), শুল্ক নিরীক্ষা ও গোয়েন্দা অধিদপ্তর, মূসক নিরীক্ষা, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালকবৃন্দসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।