আখাউড়ায় সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সীমাহীন দুর্নীতির অভিযোগ

প্রকাশিত

আখাউড়ায় সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সীমাহীন দুর্নীতির

সাদ্দাম হোসাইন,আখাউড়া প্রতিনিধি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা লুৎফুর রহমানের
বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি, দুর্ব্যবহার, শিক্ষক হয়রানিসহ বেপরোয়া ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা শিক্ষক সমিতির নেতৃবৃন্দ তার
বিরুদ্ধে এই মর্মে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার (ডিপিইও) কাছে অভিযোগ দায়ের করেছেন। রহস্যজনক কারণে দীর্ঘ ৩ মাস অতিক্রান্ত হলেও ডিপিইও ওই অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কোন আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন না। এতে আখাউড়া উপজেলা শিক্ষকদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এই শিক্ষা কর্মকর্তার লাগামহীন অনিয়মের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠছেন
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। সহকারী শিক্ষা অফিসারের প্রত্যাহারের দাবিতে আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষক নেতারা।
শিক্ষকদের অভিযোগ Ñনানা প্রতিকূলতা, অব্যবস্থাপনা আর দুর্নীতির কারণে প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছতে পারছে না। ফলে একদিকে প্রতারিত হচ্ছে সাধারণ শিক্ষকরা অন্যদিকে কোমলমতি শিশুরা বঞ্চিত হচ্ছে মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা থেকে। অবশ্য সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (এটিও) লুৎফুর রহমান তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, শিক্ষকদের কোনো দূর্বলতার কারণে যদি
শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে তারা সেচ্ছায় ধরা দেয়। সেক্ষেত্রে জোর করে আমি কোন কিছু আদায় করি না। অভিযোগের বিষয়গুলো নিয়ে আলাপকালে উপজেলা শিক্ষা অফিসার (টিও) নূরজাহান বেগম বলেন, আমি সম্প্রতি আখাউড়ায় যোগদান করেছি মাত্র। তিনি এ প্রতিবেদককে জানান, সহকারী শিক্ষা অফিসারের বিরুদ্ধে তিনি শিক্ষক নেতৃবৃন্দের মাধ্যমে অভিযোগ পেয়েছেন।
এসব বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে ইতিমধ্যে অবিহিতও করেছেন। তবে প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থাকে বেগবান করতে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সঙ্গে আলাপ করে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, আখাউড়া উপজেলায় বর্তমানে ৫৪টি
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে ৩৬টি পুরাতন সরকারি ও ১৮টি নতুন জাতীয়করণকৃত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এসব বিদ্যালয়গুলোতে প্রথম শ্রেণী থেকে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত প্রায় ১৫হাজার শিক্ষার্থী পড়ালেখা করছে। এ বিদ্যালয়গুলো দেখভালের জন্য রয়েছেন ১জন উপজেলা শিক্ষা অফিসার ও ১জন সহকারী শিক্ষা অফিসার। সহকারী শিক্ষা অফিসার লুৎফুর রহমান আখাউড়া
পৌরশহরের খরমপুর গ্রামের বাসিন্দা সমবায় কর্মকর্তা (বর্তমানে আশুগঞ্জ উপজেলায় কর্মরত) রুবিনা আক্তারকে বিয়ে করেন। তিনি শ^শুর বাড়ি এলাকা আখাউড়ায় পোস্টিং নিয়ে জামাই পরিচয় দিয়ে উপজেলার বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষকদের কাছ থেকে দেদারসে চাঁদাবাজি চালিয়ে যাচ্ছেন। অভিযোগ উঠেছে, তিনি প্রতি বিদ্যালয়ের ¯ি¬প ও সিএফএস বরাদ্দ থেকে ভ্যাট বাদ
দিয়ে বিল করলেও পুনরায় সব প্রধান শিক্ষকের নিকট থেকে অন্তত ৫থেকে ৬হাজার টাকা হারে আড়াই বছরে সে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। ওই কর্মকর্তা বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বদলি ও ডেপুটেশনের সুপারিশ প্রস্তাব করার সময়

৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। এছাড়া ওই লুৎফুর রহমানক্লাস্টার ট্রেনিংয়ের (প্রশিক্ষণ) টাকা খরচ না করে যে বিদ্যালয়ে ট্রেনিং
আ য়োজন করেন সেই বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের নিকট থেকে খাবারের ব্যবস্থা করে কোনোভাবে ট্রের্নিং করিয়ে বরাদ্দকৃত টাকার সিংহভাগ তিনি আতœসাৎ করেন। এখানেই তার দুর্নীতি শেষ নয়। পরীক্ষার ফি, প্রশ্নপত্র বিতরণ ও তাদের
গাড়ির তেল ও বিভিন্ন ভ্রমণের ভুয়া বিল করে হাজার হাজার টাকা আতœসাৎ করছেন। তাছাড়াও স্কুলের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, খেলাধুলার সামগ্রী
না দিয়ে সে সব টাকা আতœসাৎ করার অভিযোগও রয়েছে এই দূর্নীতিবাজ
কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। তার এহেন অপরাধ কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে কোনো শিক্ষক
প্রতিবাদ করলে তাকে বদলিসহ নানা হয়রানি করেন ওই প্রভাবশালী সহকারী শিক্ষা
কর্মকর্তা। ভুক্তভোগী শিক্ষকদের অভিযোগ, সহকারী শিক্ষা অফিসার লুৎফুর
রহমানের অমার্জিত আচরণ, শিক্ষক হয়রানি এবং বিভিন্ন অজুহাতে শিক্ষকদের
নিকট থেকে অবাধে ঘুষ বাণিজ্যের কারণে আখাউড়া উপজেলার ক্লাস্টারের
শিক্ষক-শিক্ষিকারা অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন। কোন শিক্ষক ছুটি নিতে আসলেই
লুৎফুর রহমানকে টাকা (ঘুষ) দিতে হয়। টাকা ছাড়া তিনি শিক্ষকদের কোন
কাগজে স্বাক্ষর করেন না।
চলতি বছরের ৩০জুন আখাউড়া পৌরশহরের পীরশাহ্ধসঢ়; সুলতান সরকারী প্রাথমিক
বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষিকসহ অন্য বিদ্যালয়ের দুইজন শিক্ষক ১০দিনের
ছুটি নেন। উক্ত ছুটি উপজেলা শিক্ষা অফিসার অনুমোদন করলেও সহকারী শিক্ষা
অফিসার লুৎফুরকে জনপ্রতি দুই হাজার টাকা করে দিয়ে সুপারিশ মঞ্জুর করতে
হয়েছে। শুধু তাই নয়, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষক এ
প্রতিবেদককে জানিয়েছেন, সহকারী শিক্ষা অফিসার লুৎফর রহমান কয়েকজন
দালাল প্রকৃতির শিক্ষককে নিয়ে সবসময় অফিসে আড্ডা দেন। তিনি যেখানে
যায় ঐ সমস্ত দুর্নীতিবাজ শিক্ষকদের ব্যবহৃত মোটর সাইকেলে করে যাওয়া-আসা
করেন। আর তাদের মাধ্যমেই লুৎফুর রহমান সাধারণ শিক্ষকদের নিকট থেকে ঘুষের
টাকা তোলে গ্রহণ করেন। শিক্ষকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ৩মাস পূর্বে
অভিযোগ দায়ের করার পরও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্র্ধাসঢ়;থমিক শিক্ষা কর্মকর্তা
(ডিপিইও) সুব্রত কুমার বণিক তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন না।
রহস্যজনক কারণে তিনি ওই শিক্ষা অফিসারের দুর্নীতি ধামাচাপা দেয়ার
অপচেষ্টা চালাচ্ছেন। শিক্ষকদের দাবি, যদি সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা লুৎফুর
রগমানকে প্রত্যাহার না করা হয় তাহলে শিক্ষক হয়রানিসহ তার দূর্নীতি আর
অনিয়মের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। অবশ্য সুব্রত কুমার বণিক
মুঠোফোনে সাংবাদিকদের বলেন, ওই সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার অনিয়ম
দূর্নীতির বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত চলছে, দ্রুত সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা গ্রহণ
করা হবে।