আগামী মাসে শেখ হাসিনা বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের উদ্বোধন

প্রকাশিত
বিশেষ প্রতিনিধিঃ আগুনে পোড়া রোগীদের উন্নত চিকিৎসাসেবা দিতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল চত্বরে গড়ে তোলা হচ্ছে ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট শেখ হাসিনা বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট। অক্টোবরে প্রধানমন্ত্রী ইনস্টিটিউটটি উদ্বোধন করবেন। এরপর ছয় মাসের মধ্যেই প্রতিষ্ঠানটি চিকিৎসাসেবা দেওয়া শুরু করবে।

সরেজমিন দেখা গেছে, ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট শেখ হাসিনা বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি  ইনস্টিটিউটের কাজ পুরোদমে এগিয়ে চলেছে। এ ইনস্টিটিউটের নির্মাণসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, মডিউলার (অত্যাধুনিক) অস্ত্রোপচার কক্ষ (ওটি) থাকবে ১০টি। ছাদের পূর্ব পাশে থাকছে হেলিপ্যাডও। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পুড়ে যাওয়া রোগীদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে ইনস্টিটিউটে এনে চিকিৎসা করানোর জন্য এ হেলিপ্যাডের ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে।
ছয় লাখ ৬২ হাজার স্কয়্যার ফুটের ইনস্টিটিউটটি ‘বার্ন এবং প্লাস্টিক সার্জারি’ এ দুই পর্বে বিভক্ত। এখানে ৫০০ শয্যার পাশাপাশি রোগীদের জন্য থাকছে ২৪টি ডাবল বেড ও ২৮টি সিঙ্গেল বেডের কেবিন। এছাড়া ১৭তলা ভবনটিতে রয়েছে ১৬টি লিফট ও পাঁচটি সিঁড়ি।
ইনস্টিটিউটের সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন বলেন, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে মাত্র পাঁচটি শয্যা দিয়ে আমি চাকরি জীবন শুরু করেছিলাম। এখন সেই বার্ন ইউনিট একটি পূর্ণাঙ্গ ইনস্টিটিউট হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে।
শেখ হাসিনা বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের বাইরের অংশ অক্টোবরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইনস্টিটিউটের উদ্বোধনের পর চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম শুরু করতে আরও ছয় মাস সময় লাগবে বলে জানান তিনি।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের পরিচালক অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ বলেন, এখানে চিকিৎসাসেবা ও শিক্ষা কার্যক্রম একসঙ্গে চলবে। এখানকার গ্রন্থাগারটি হবে অত্যন্ত সমৃদ্ধ। ইতোমধ্যে আমরা গ্রন্থাগারের জন্য ছয় কোটি টাকার বই কিনেছি।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে নির্মাণাধীন ইনস্টিটিউটটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয় ২০১৬ সালের এপ্রিলে। এরপর ২৯ জুন থেকে নির্মাণকাজ শুরু হয়।
এ প্রসঙ্গে লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. শাকিল আহমেদ বলেন, আমরা এখানে ১০টি মডিউলার অস্ত্রোপচার কক্ষ (ওটি) তৈরি করছি। এ প্রকল্পের বাজেট ৯১২ কোটি টাকা। কনস্ট্রাকশন সাইটে এ পর্যন্ত খরচ হয়েছে ৩৭০ কোটি টাকার মতো। মেডিকেল যন্ত্রপাতি কিনতে ৩১৪ কোটি টাকার মতো বাজেট ধরা হয়েছে। এখন পর্যন্ত এখানকার সব যন্ত্রপাতি ইউরোপের দেশগুলো থেকে কেনা হচ্ছে। সামান্য কিছু জিনিস যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা থেকে আনা হচ্ছে। ছয়টি অ্যাম্বুলেন্স, একটি জিপ, একটি কার ও বাসসহ মোট ১২টি গাড়ি কেনা হবে।
তিনি আরও জানান, এ বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানটি ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্মাণ করা হয়েছে। এতে যেমন সোলার প্যানেল থাকছে, তেমনি থাকছে অত্যাধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্লান্ট ও বৃষ্টির পানি ধরে রাখার রিজার্ভার। এছাড়া এখানকার কার পার্কিংয়ে একসঙ্গে ১৮০টি গাড়ি পার্ক করা যাবে।
বার্ন ইনস্টিটিউট ভবনে যা থাকছে: মূল নকশার ভিত্তিতে বার্ন ইনস্টিটিউট ভবনের বেজমেন্ট ১-এ থাকছে গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা। এছাড়া থাকবে অত্যাধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্লান্ট। বেজমেন্ট ২-এ থাকছে গাড়ি পার্কিং ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্লান্ট, মর্গ ও লাশ গোসলের ব্যবস্থা এবং পাম্প রুম। বেজমেন্ট ৩-এও থাকছে গাড়ি পার্কিংয়ের সুবিধা। এছাড়া থাকছে স্টোর, পাম্প রুম এবং আন্ডার গ্রাউন্ড ওয়াটার রিজার্ভার। ইনস্টিটিউটের প্রথম তলায় থাকছে রিসেপশন, জরুরি বিভাগ, কন্ট্রোল রুম, লবি, ক্যাফে ও ব্যাংক।
এছাড়া থাকছে তথ্যকেন্দ্র, লবি, লন্ড্রি, মেডিকেল এয়ার এবং সাবস্টেশন। দ্বিতীয় তলায় থাকছে সিটি স্ক্যান, এমআরআই ও ওয়েটিং রুম। আরও থাকছে অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ও কালেকশন রুম, জিমনেসিয়াম এবং বহির্বিভাগ। তৃতীয় তলায় থাকছে অধ্যাপকদের রুম ও লাউঞ্জ। রয়েছে শ্রেণিকক্ষ, সভা কক্ষ, লবি, অফিস স্টাফ, অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ও ডিরেক্টর রুম। চতুর্থ তলায় থাকবে ২০ শয্যার ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (আইসিইউ), ডায়ালায়সিস ও এআরেস ডিপার্টমেন্ট, প্রশাসনিক কক্ষ, পরীক্ষা কক্ষ, গ্যালারি ও লাইব্রেরি রুম। পঞ্চম তলায় রয়েছে অস্ত্রোপচার কক্ষ, স্কিন ব্যাংক, দুটি পোস্ট অপারেটিভ কক্ষ (১৬ ও ১৪ শয্যা) এবং অ্যাডমিনিস্ট্রেশন রুম। ষষ্ঠ তলায় থাকছে পুরুষদের ২২ শয্যার হাই ডিপেন্ডেন্সি ইউনিট (এইচডিইউ), ডায়ালায়সিস সেন্টার, বায়োমেড ইঞ্জিনিয়ার্স রুম, মেডিসিন স্টোর, সিএসএসডি ও অ্যাডমিনিস্ট্রেশন রুম। সপ্তম তলায় রয়েছে ২২ শয্যার নারী হাই ডিপেন্ডেন্সি ইউনিট (এইচডিইউ), ডায়ালায়সিস সেন্টার, রেকর্ড রুম, ল্যাব, শ্রেণিকক্ষ, ৩১ শয্যার ওয়ার্ড ও অ্যাডমিনিস্ট্রেশন রুম। অষ্টম তলায় থাকছে ৩১ শয্যার দুটি ওয়ার্ড ও বার্ন ট্যাংক, আইটি সার্ভার কক্ষ, ব্লাড ব্যাংক, শ্রেণিকক্ষ, ইনস্টিটিউশন ও অ্যাডমিনিস্ট্রেশন রুম। নবম তলার পূর্ব পাশে থাকবে ৩১ শয্যার দুটি ওয়ার্ড ও বার্ন ট্যাংক, হাইপারবেরিক, শ্রেণিকক্ষ, অ্যাডমিনিস্ট্রেশন রুম ও ইনস্টিটিউশন রুম।
দশম তলায় থাকছে ৩১ শয্যার দুটি ওয়ার্ড, বার্ন ট্যাংক, শ্রেণিকক্ষ, অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ও ইনস্টিটিউশন রুম। একাদশ তলায়ও রয়েছে ৩১ শয্যার দুটি ওয়ার্ড। এছাড়া রয়েছে বার্ন ট্যাংক, বেসিক সার্জিক্যাল স্কিল ল্যাব, মাইক্রো সার্জিক্যাল স্কিল ল্যাব, ক্যাডাভার, শ্রেণিকক্ষ ও অ্যাডমিনিস্ট্রেশন রুম। দ্বাদশ তলায়ও রয়েছে ৩১ শয্যার দুটি ওয়ার্ড, বার্ন ট্যাংক, ফিজিওথেরাপি লেকচার রুম, শ্রেণিকক্ষ, শিশুদের খেলার জায়গা, ইনস্টিটিউশন ও অ্যাডমিনিস্ট্রেশন রুম।  ত্রয়োদশ এবং চতুর্দশ তলায় রয়েছে কেবিন, বার্ন ট্যাংক, নারী ও পুরষের পৃথক ফিজিওথেরাপি সেন্টার, ড্রাই স্পেস, ভিআইপি ও ভিভিআইপি কেবিন এবং অ্যাডমিনিস্ট্রেশন রুম। পঞ্চদশ তলায় রয়েছে ডক্টরস ক্যাফে, লাউঞ্জ, কিচেন, জিম, প্রেয়ার রুম, কমন লাউঞ্জ, স্টাফ লাউঞ্জ, জেনারেল ক্যাফে ও কিচেন।
এছাড়া ছাদের পূর্ব পাশে থাকছে হেলিপ্যাড ও পানির ট্যাংক। মধ্যভাগে থাকবে ছাদ বাগান এবং পশ্চিম পাশে থাকছে কুলিং টাওয়ার, চিলার ও সোলার প্যানেল।