আত্মীয়-স্বজনকে দান করবেন যে কারণে

প্রকাশিত

ধর্ম ডেস্ক :সাদকা বা দান আল্লাহর নৈকট্য লাভের অন্যতম মাধ্যম। সাদকা সম্পর্কে হাদিসের বর্ণনা হলো মিসকিনকে সাদকাহ করলে নেকি হবে আর আত্মীয়কে

ধর্ম ডেস্ক :সাদকা বা দান আল্লাহর নৈকট্য লাভের অন্যতম মাধ্যম। সাদকা সম্পর্কে হাদিসের বর্ণনা হলো মিসকিনকে সাদকাহ করলে নেকি হবে আর আত্মীয়কে সাদকা করলে তা হবে দুটি সাদকা বা নেকি করার সাওয়াব। আর তাহলো সাদকা ও আত্মীয়তা রক্ষা। (আত-তারগীব)

সাদকা করলে তা হবে দুটি সাদকা বা নেকি করার সাওয়াব। আর তাহলো সাদকা ও আত্মীয়তা রক্ষা। (আত-তারগীব)

দানের ব্যাপারে কুরআন ও হাদিসে অসংখ্য নির্দেশনা ও উপদেশ রয়েছে। তবে সে দান যদি আত্মীয়-স্বজন বা অধিনস্ত আপনজনদের জন্য হয় তাতে সাওয়াব হবে দ্বিগুণ বলে ঘোষণা দিয়েছেন প্রিয়নবি। এ ব্যাপারে দীর্ঘ একটি হাদিস বুখারি ও মুসলিমে এসেছে-

হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহুর স্ত্রী হজরত যাইনাব রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, আমি একবার মসজিদে নববিতে ছিলাম। তখন নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে দেখলাম যে, তিনি (মহিলাদেরকে লক্ষ্য করে) বললেন, ‘তোমরা তোমাদের গহনা থেকে হলেও দান কর।

আর যাইনাব তার স্বামী (আবদুল্লাহ) এবং যে সব ইয়াতিম তার প্রতিপালনে ছিল তাদের জন্য খরচ করতেন। একদিন হজরত যাইনাব (তার স্বামী) আবদুল্লাহকে বললেন, আপনি রাসুলুল্লাহকে জিজ্ঞাসা করুন, আমি যে আপনার এবং যে ইয়াতিম আমার পোষ্য আছে; তাদের জন্য খরচ করছি তা কি দান হিসেবে আমার পক্ষে যথেষ্ট হবে?

তিনি (আবদুল্লাহ) বলেন, তুমি গিয়েই রাসুলুল্লাহকে জিজ্ঞাসা কর। তখন আমি রাসুলুল্লাহ’র কাছে উপস্থিত হলাম এবং (বিশ্বনবির) দরজার কাছে এক আনসারি মহিলাকে দেখতে পেলাম। তার প্রয়োজনটাও ছিল আমার প্রয়োজনের মতো। তখন (হজরত) বিল্লাল রাদিয়াল্লাহু আনহু আমাদের কাছ দিয়ে যাচ্ছিলেন। আমরা উভয়ে তাঁকে বললাম। আপনি রাসুলুল্লাহকে জিজ্ঞাসা করুন, আমি আমার স্বামী এবং যে ইয়াতিম আমার তত্ত্বাবধানে আছে; তাদের জন্য খরচ করছি, তা কি দান হিসেবে আমার পক্ষে যথেষ্ট হবে?

আমরা (তাঁকে) আরও বললাম (প্রিয়নবির কাছে) আমাদের নাম বলবেন না। (হজরত) বিল্লাল নবির কাছে উপস্থিত হলেন এবং তাঁকে প্রশ্ন করলেন। তিনি বললেন, ওই নারী দু’জন কে? বিল্লাল রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, যাইনাব। তিনি আবার জিজ্ঞাসা করলেন, কোন যাইনাব? বিল্লাল রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, আবদুল্লাহর স্ত্রী।

নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, ‘হ্যাঁ’, তার দ্বিগুণ সাওয়াব হবে। সাদকার সাওয়াব এবং আত্মীয়তা রক্ষা করার সাওয়াব।’ (বুখারি ও মুসলিম)

অন্য হাদিসে হজরত সালমান ইবনে আমের প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন তিনি বলেছেন, ‘সাধারণ দরিদ্র ব্যক্তিকে সাদকা বা দান করেল কেবল সাদকার সাওয়াব পাওয়া যায়। কিন্তু রক্তসর্ম্পীয় আত্মীয়কে সাদকা বা দান করলে সাদকাও হবে, আত্মীয়তাও রক্ষা হবে। (তিরমিজি, ইবনে হাব্বান, ইবনে খুজাইমা, মুসতাদরেকে হাকেম )

সুতরাং আত্মীয়তার সম্পর্ক বিনষ্ট নয় বরং আত্মীয়দের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা উত্তম। আপনজনদের সাহায্য-সহযোগিতা করা সুন্নাতে নববির একান্ত দাবি। এতে আত্মীয়দের সম্পর্ক জোরদার হয়।

তাছাড়া আল্লাহ তাআলা কুরআনে পাকেও আত্মীয়তা রক্ষার ব্যাপারে নির্দেশ দিয়েছেন। আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারী ব্যক্তির প্রতি অভিসম্পাত করেন। আল্লাহ তাআলা বলেন, `ক্ষমতা লাভ করলে সম্ভবত তোমরা পৃথিবীতে অনর্থ সৃষ্টি করবে এবং আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করবে। এদের প্রতি আল্লাহতায়ালা অভিসম্পাত করেন, অতঃপর তাদের বধির ও দৃষ্টি শক্তিহীন করেন। (সূরা মুহাম্মদ : আয়াত ২২-২৩)

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে আত্মীয়দের সঙ্গে সুম্পর্ক রাখার তাওফিক দান করুন। গরিব ও অসহায়দের সঙ্গে সঙ্গে নিজের আপনজনদেরকেও সাহায্য-সহযোগিতা করার তাওফিক দান করুন। আত্মীয়-স্বজনকে সহযোগিতা বা দান করার মাধ্যমে দ্বিগুণ সাওয়াব লাভের তাওফিক দান করুন। আমিন।