আপনাকে গালি খেতে হবে: নতুন বিমানমন্ত্রীকে মেনন

প্রকাশিত

বেসরকারি বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের নতুন মন্ত্রী এ কে এম শাহজাহান কামালকে গালি খাওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকার পরামর্শ দিযেছেন এই মন্ত্রণালয়ের বিদায়ী মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন।দায়িত্ব বণ্টনের পর দিন বৃহস্পতিবার ( ০৪ জানুয়ারি) মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে নতুন মন্ত্রীর কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করেন মেনন। এসময় তিনি এই পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, ‘আপনাকে বিমান নিয়ে সবচেয়ে বেশি গালি খেতে হবে।’

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি থেকে বিমান ও পর্যটন মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন আওয়ামী লীগের শরিক দল ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি মেনন। তাকে এই মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে সমাজকল্যাণে যাওয়ার আদেশ হয়েছে বুধবার। আর মঙ্গলবার মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেয়া লক্ষ্মীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম শাহজাহান কামালকে দেয়া হয়েছে মেননের আগের মন্ত্রণালয়। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি হওয়া এই আদেশের প্রতিক্রিয়ায় বুধবার মেনন একে ‘আকাশ থেকে মাটিতে নামা’ হিসেবে বর্ণনা করেন।

বিমানমন্ত্রী হওয়ার পর গণমাধ্যমকে দেয়া সাক্ষাৎকারে শাহজাহান কামাল বলেন, ২০১৬ সালের নভেম্বরে প্রধানমন্ত্রীর বিমান কারিগরি ত্রুটির জন্য জরুরি অবতরণের ঘটনায় জড়িতদের শান্তি নিশ্চিত করবেন তিনি।

এই বক্তব্য উল্লেখ করে শাহজাহান কামালকে মেনন বলেন, ‘আপনার একটা বক্তব্য টেলিভিশনে খুব জোরেশোরে প্রচার হচ্ছে। এটা ঠিক যে বিমান নিয়ে অনেক সংকট আছে। এটা নিয়ে সবচেয়ে বেশি গালি খাবেন। বিমানের এমডি সাহেবের সামনেই বলছি, আমাদের যত অর্জন সব বিমানেই শেষ হয়ে যায়।’

‘পরশু আমরা একনেকে আলাপ করছি সিভিল অ্যাভিয়েশন নিয়ে, চলে আসল বিমান। দুই পক্ষ থেকে বেশ কথাবার্তা বলল, আমি চুপ করে শুনলাম। তোফায়েল সাহেব এত বেশি সমালোচনা করলেন যে, উনি (প্রধানমন্ত্রী) বললেন যে আপনি দায়িত্ব নেন, তখন তিনি (তোফায়েল) মাফ চেয়ে বলেছেন আমি দায়িত্ব নেব না। এই ধরনের ঘটনাও হয়ে গেছে।’

নতুন মন্ত্রীকে মেনন বলেন, ‘আপনি বিমান নিয়ে সংকটে থাকবেন কিছুটা এই সেন্সে যে, লাগেজ দেরি হয়ে গেছে তিন ঘণ্টা। তবে আপনাকে এটা বলি এই বোর্ড আসার পর প্রথম লাগেজ ২০ মিনিটে এবং শেষ লাগেজ ৮৫ মিনিটে দেয়ার ব্যবস্থা হয়েছে।’

বিমানের যাত্রীদেরকে সমালোচনা করেন মেনন। তিনি বলেন, ‘অন্যদেশে আধ ঘণ্টা হেঁটে ইমিগ্রেশন করতে হয়, আমাদের এখানে প্লেন থেকে নেমেই ইমিগ্রেশন ও প্লেন থেকে নেমেই লাগেজ। অন্য দেশে যে আধ ঘণ্টা হাঁটে সেটা মনে থাকে না। এসেই বলে আমার লাগেজ কই?’।

‘আপনার জন্য (শাহজাহান) আরেকটু অসুবিধা হবে সেটা হচ্ছে, বিমানকে এসেনশিয়াল সার্ভিস ঘোষণা করা হয়েছে, এতে সিবিএ-টিবিএ আছে তারা একটু অসন্তুষ্ট। এটা আপনাকে বলে রাখলাম, যদিও আমার সঙ্গে সিবিএর অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক ছিল। বেতন-ভাতা থেকে সবকিছুই আমরা সমাধান করেছি।’ এরপর গত চার বছরে বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে নেয়া বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের ফিরিস্তি তুলে ধরেন মেনন।

তিনি বলেন, ‘যখন প্রধানমন্ত্রী আমাকে এই (বিমান ও পর্যটন) মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দিলেন তখন অনেকে আমাকে তাচ্ছিল্য করে বলেছিলেন, একটা ডুবন্ত জাহাজ তোমাকে তুলতে দেয়া হয়েছে। আমি আজ তৃপ্ত মনে বিদায় নিচ্ছি এজন্য যে, অন্তত চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলা করতে সক্ষম হয়েছি।’

অনুষ্ঠানে বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে কর্মকর্তা এবং অধীন সংস্থা প্রধানরা রাশেদ খান মেননদের নেতৃত্বের প্রশংসা ও নতুন মন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়ে বক্তব্য দেন