আমরা ব্যবসা করবোই : ভেজাল আচার ব্যবসায়ীদের চ্যালেঞ্জ

প্রকাশিত

চোরেরে কয় চুরি করো, গৃহস্থরে কয় ধরো ধরো’ এই প্রবাদ বাক্যটাই সত্যি পরিণত হয়েছে কক্সবাজারে ভেজাল আচার ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রে। বার্মিজ লুঙ্গির প্যাকেটে ভরে স্থানীয় কিছু নকল পণ্য প্রস্তুতকারীর অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি নিম্নমানের আচার মানবদেহের জন্য ক্ষতিকারক বিধায় এই বিষয়ে সতর্ক করতে কয়েকবার প্রতিবেদন প্রকাশ করার পরও কমেনি তাদের অবৈধ ব্যবসা। স্থানীয় কিছু মহল নিয়মিত মাসোহারার বিনিময়ে তাদেরকে এই ব্যবসায় সহযোগিতা করে যাচ্ছে বলে গোপন সূত্রে জানা গেছে। অদৃশ্য কারো মদদে ভেজাল আচার প্রস্তুতকারীরা প্রকাশ্যে বলে বেড়াচ্ছে-আমরা ব্যবসা করবোই। দেখি কে কি করে।

কক্সবাজার সদর থানার ওসি রনজিত কুমার বড়ৃয়াকে বারবার এই বিষয়ে অবহিত করা হলেও ভেজাল আচার প্রস্তুতকারী সিন্ডিকেট বীরদর্পে তাদের ব্যবসা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। এখন পর্যটন মৌসুম। কক্সবাজারে ভিড় করতে শুরু করেছে দেশ-বিদেশের পর্যটক। আর এইসব পর্যটকদের টার্গেট করে তৈরি হচ্ছে কোটি টাকার ভেজাল পণ্য।

জানা গেছে, সৈকতের লাবণী পয়েন্টের ছাতা ও ঝিনুক মার্কেটে, সুগন্ধা পয়েন্ট, কলাতলি পয়েন্ট, শহরের বিভিন্ন মার্কেটে, হোটেল মোটেল জোনসহ পর্যটক সমাগম এলাকায় বিক্রি হচ্ছে ভেজাল আচার। এসব আচারের স্থায়িত্ব রক্ষার নামে ব্যবহৃত হচ্ছে রং, ক্যামিকেল ও ক্ষতিকর ফরমালিন।

এই সিন্ডিকেটের মধ্যে রয়েছে- আমিন (বাহারছড়া), বউ করিম (বিজিবি ক্যাম্প ঝিলংজা), মোঃ ইউনুচ (লারপাড়া কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল সংলগ্ন নোঙ্গর মাদকাসক্ত কেন্দ্রের উত্তর পাশে), পুতু (দক্ষিণ ডিককুল ঝিলংজা), বাটপার জসিম উদ্দিন (বন্দনপাড়া, সমিতিপাড়া), নেজাম উদ্দিন (লারপাড়া বাসটার্মিনালের দক্ষিণপাশে), মোঃ রহিম (লারপাড়া কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল সংলগ্ন নোঙ্গর মাদকাসক্ত কেন্দ্রের উত্তর পাশে, মোঃ ফরহাদ (লারপাড়া), নুরুল আজিম (পূর্ব লারপাড়া ), নুরুল আলম (কলাতলি, গৈয়ামতলি ), মোঃ হাফেজ (খুরুস্কুল ও সৈকতপাড়া)।

নুরুল আজিমের রয়েছে কক্সবাজারের শহরতলি ও বান্দরবানে ভেজাল আচার তৈরির কারখানা। মোঃ রহিমের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল সংলগ্ন নোঙ্গর মাদকাসক্ত কেন্দ্রের উত্তর পাশে ও মহেশখালীতে, বাটপার জসিম উদ্দিনের বন্দনপাড়া (সমিতিপাড়া) ও বান্দরবানে এবং নেজাম উদ্দিনের বাসটার্মিনালের দক্ষিণপাশে এবং চকরিয়া ও পেকুয়ায় রয়েছে ভেজাল আচার তৈরির কারখানা।

এই সিন্ডিকেটের কয়েকজনের সঙ্গে আবারও যোগাযোগ করা হলে তারা অনেকটা চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বলেন, আমরা ব্যবসা করবোই। দেখি কে কি করে। আমরা টাকা দিয়ে ব্যবসা করছি। আমাদের টাকা উঠাতে হবে।

ভেজাল ব্যবসায়ীদের এমন দাপটের সঙ্গে কথা বলার ধরণ দেখে তাদের মদদদাতা কারা তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় জানান, তাদের সাহস অনেক বেশি। তারা নিশ্চয়ই প্রশাসনকে হাত করে রেখেছে।

ফরহাদ নামের ভেজাল আচার প্রস্তুতকারী অনেকটা ব্যঙ্গ করে বলেন, আপনাদের নিউজ প্রকাশের পর ম্যাজিস্ট্রেট আসছিলো অভিযানে। কিছু না পেয়ে বলে সাংবাদিকরা কি ছাই নিউজ করে, এখানে তো কিছু নাই।

উল্লেখ্য, দৈনিক প্রতিদিনের সংবাদে গত ১০ ডিসেম্বর প্রকাশিত ‘কমেনি ভেজালের দৌরাত্ম্য পুলিশের ভুমিকা প্রশ্নবিদ্ধ’ শিরোনামে খবর প্রকাশের পর এই সিন্ডিকেট কয়েকদিন গা ঢাকা দিয়ে ছিলো।

গোপন সূত্রে জানা গেছে, একটা মহল এই সিন্ডিকেট থেকে নিয়মিত মাসোহারা পায় তাই অভিযানের আগে তাদের সতর্ক করে দেয়। তখন আচার কারখানায় ভেজাল আচার প্রস্তুতের কোন চিহৃ থাকে না।

ভেজাল আচার নির্মুলে প্রশাসনের পাশাপাশি র‌্যাবেরও সহযোগীতা চেয়েছে স্থানীয় জনগন। তাদের দাবি, অচিরে এইসব ভেজাল ব্যবসা বন্ধ করা না হলে শুধু কক্সবাজার নয় তাদের এইসব ভেজাল পণ্য গোটা দেশে ছড়িয়ে পড়বে।

Be the first to write a comment.

Leave a Reply