‘আশায় থাকি, হয়তো ফোন আসবে’

প্রকাশিত

ছেলের খোঁজে প্রায় চার মাস ধরে প্রতিদিনই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো না কোনো কর্মকর্তার কার্যালয়ে যান। গণমাধ্যমের কর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন, সাহায্য চান। গত বৃহস্পতিবার তিনি বলছিলেন, ‘এতগুলো নিখোঁজ লোক ফিরে এল, আমি প্রতিদিনই আশা করি হয়তো আমার ছেলেটা আজ ফিরবে। আশায় থাকি, হয়তো ফোন আসবে। কোথায় গেলে আমার ছেলেটার খোঁজ পাব শুধু সেটুকু যদি কেউ বলতে পারত।’

একুটু বলেই থেমে যান নিখোঁজ ইশরাক আহমেদের বাবা জামাল উদ্দিন। গত ২৬ আগস্ট রাজধানীর ধানমন্ডিতে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিতে গিয়ে নিখোঁজ হন ইশরাক। তিনি কানাডার ম্যাকগিল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। ছুটিতে দেশে এসে গুমের শিকার হন। এত দিনেও তাঁর কোনো খোঁজ নেই।

গত চার মাসে রাজধানী থেকে এ রকম ১৬ জন নিখোঁজ হন, যার মধ্যে সাতজনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে, পাঁচজন ফিরে এসেছেন। ইশরাকসহ চারজন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। এখনো নিখোঁজ বাকি তিনজনের মধ্যে বিএনপির নেতা সৈয়দ সাদাত আহমেদকে ২২ আগস্ট গাড়ি থামিয়ে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁর শিশুপুত্র ও গাড়িচালককে গাড়িসহ পূর্বাচল ৩০০ ফুট সড়কে ছেড়ে যাওয়া হয়। ৪ ডিসেম্বর গাড়ি চালিয়ে বিমানবন্দরে যাওয়ার পথে নিখোঁজ হন সাবেক রাষ্ট্রদূত মারুফ জামান। তাঁর গাড়িটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। সর্বশেষ ২৬ ডিসেম্বর নিখোঁজ হন ব্র্যাক ব্যাংকের শ্যামলী শাখার কর্মকর্তা নাইমুল ইসলাম।

নাইমুলের স্ত্রী তামান্না খান গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, এ বিষয়ে তিনি তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন। তাঁরা পুলিশকে আরও তথ্য দিতে চান।

তবে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, কোনো গুম হচ্ছে না। চলতি সপ্তাহে প্রথম আলোকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, ‘অনেক নিখোঁজের ঘটনাকে প্রথমে গুম বলা হয়। কিন্তু পরে দেখা যায়, নিখোঁজ ব্যক্তি নিজে থেকেই ফিরে এসেছেন। গুম, নিখোঁজ নাকি অপহরণ-এ বিষয়গুলো আলোচনার আগে ঘটনাগুলো আপনাকে খতিয়ে দেখতে হবে। গুমের সংখ্যা, নিখোঁজের সংখ্যা আগের থেকে অনেক কমে গেছে। কেউ নিখোঁজ হলে আমাদের গোয়েন্দারা সব সময় তাঁকে উদ্ধারের চেষ্টা করেন। যাঁরা ফিরে এসেছেন, আপনারা তাঁদের সঙ্গে কথা বলেন, যদি তাঁরা অপরাধীদের শনাক্ত করতে পারেন, আমরা অবশ্যই তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।’

এদিকে বিবিসি জানায়, মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্রের হিসাবে গত ১০ বছরে সাড়ে পাঁচ শ মানুষ নিখোঁজ বা গুম হয়েছেন। নিখোঁজ এসব মানুষের পরবর্তী পরিণতি সম্পর্কে তাঁদের যে ক্যাটাগরি সেখানে দেখা যায়, কাউকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে। কয়েকজনকে ডিবি অফিসে পাওয়া গেছে। হারিয়ে যাওয়া মানুষদের কারাগারে পাঠানোর তথ্য রয়েছে। নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরবর্তী সময়ে র্যাব হাজির করেছে। এ ছাড়া অপহরণ বা গুমের শিকার বেশ কয়েকজনকে পরে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। গুমের ঘটনায় প্রায় সব ক্ষেত্রেই কোনো না কোনো নিরাপত্তা বাহিনীর সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছে।

Be the first to write a comment.

Leave a Reply