আ.লীগ ও বিএনপির অনেক প্রার্থী

প্রকাশিত

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে (ডিএসসিসি) নতুন যুক্ত হওয়া ৫৯ নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে সমর্থন চান ১৪ জন। এতে বিএনপি থেকে সমর্থনের দৌড়ে আছেন ৫ জন। তবে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি থেকে এখনো কাউকেই সমর্থন দেওয়া হয়নি।

ইতিমধ্যে এখানে কাউন্সিলর পদে নির্বাচনের জন্য জাতীয় পার্টির সমর্থন পেয়ে গেছেন দলটির কদমতলী থানা ইউনিটের যুগ্ম সম্পাদক মো. হোসেন। তিনি ইতিমধ্যে ভোটারদের সঙ্গে কুশল বিনিময় ও অঘোষিত প্রচারণা শুরু করেছেন।

এই তিন দলের বাইরে আরও কয়েকজন স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।

গত জুলাইয়ে শ্যামপুর ইউনিয়ন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অন্তর্ভুক্ত হলে এলাকাটি ৫৮, ৫৯ ও ৬০ নম্বর ওয়ার্ডে বিভক্ত করা হয়। এর মধ্যে চাকদাহ, ঢাকা ম্যাচ, রাজউক দ্বিতীয় পর্ব, ওয়াসা কলোনি, মুন্সিখোলা তেলকল, পূর্ব কদমতলী, মোহাম্মদবাগ, মেরাজনগর এলাকা নিয়ে গঠন করা হয় ৫৯ নম্বর ওয়ার্ড। ওয়ার্ডে ভোটারসংখ্যা প্রায় ২৬ হাজার।

আওয়ামী লীগ

আওয়ামী লীগের স্থানীয় সূত্র জানায়, এখানে কাউন্সিলর পদে দলের সমর্থন চাওয়া ১৪ জনের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। কয়েকজন চাইছেন সমঝোতার মাধ্যমে একক প্রার্থী নির্ধারণ করতে। কিন্তু অধিকাংশ প্রার্থীই একসঙ্গে বসতে রাজি নন। তাঁরা দলের সমর্থন পেতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। কে শেষ পর্যন্ত দলের সবুজসংকেত পাবেন, সংগঠনে কার অবস্থান ভালো, কার বিরুদ্ধে কী অভিযোগ—এসব বিষয় নিয়ে পাড়া-মহল্লার চায়ের দোকানে দলের কর্মী ও ভোটারদের মধ্যে চলছে জল্পনা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে আছেন কদমতলী থানা আওয়ামী লীগের প্রস্তাবিত কমিটির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি শফিকুল ইসলাম খান, মহিলা সম্পাদিকা রোকসেনা বেগম, শ্যামপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি কাজী মো. সহিদ উল্যাহসাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম মোল্লা, শ্যামপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক খোরশেদ আলম, শ্যামপুর ইউনিয়ন যুবলীগের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ইসমাইল আখন্দ, শ্যামপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুক ও শ্যামপুর থানা ছাত্রলীগের সাবেক জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি আবদুল মালেক।

গতকাল মঙ্গলবার উল্লেখিত ব্যক্তিদের অনেককেই এলাকায় পাওয়া যায়নি। দলের সমর্থন, নির্বাচন কমিশনের মনোনয়নপত্র কেনা ও জমা দেওয়ার কাজে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন তাঁরা। শফিকুল ইসলাম খান তাঁর ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক জীবনবৃত্তান্ত গতকাল বিকেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দপ্তরে জমা দিয়েছেন।

শফিকুল ইসলাম খান প্রথম আলোকে বলেন, ‘এই ওয়ার্ডে যে কয়েকজন দলের সমর্থন চাচ্ছেন, আমি তাঁদের সবার চেয়ে যোগ্যতায় এগিয়ে আছি। আমি শ্যামপুর ও কদমতলী থানা আওয়ামী লীগের আগের পৃথক কমিটিতে সহসভাপতি ছিলাম। এর আগে শ্যামপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও মোহাম্মদবাগ ইউনিট আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলাম। পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক, ধর্মীয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জড়িত আছি। তাই দল আমাকেই সমর্থন দেবে বলে আশা করি।’

অন্যদিকে শ্যামপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি কাজী মো. সহিদ উল্যাহ,সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম মোল্লা ও কদমতলী থানা আওয়ামী লীগের মহিলা সম্পাদিকা রোকসেনা বেগম বলেন, দলের মাঠপর্যায়ের কর্মীদের সমর্থন নিয়েই তাঁরা নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এখন দলীয় সমর্থনের অপেক্ষায় আছেন। দল যাঁকে সমর্থন দেবে, সেটা তাঁরা মেনে নেবেন।

বিএনপি

বিএনপির স্থানীয় সূত্র জানায়, ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে এখানে বিএনপির প্রার্থী ৩ জন। তাঁরা হলেন শ্যামপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য খোরশেদ আলম, শ্যামপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবুর রহমান ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য হারুনুর রশিদ, বিএনপির স্থানীয় নেতা আসলাম মোল্লা ও লুৎফর রহমান। তবে গতকাল এই ওয়ার্ডে গিয়ে তাঁদের পাওয়া যায়নি।

জাতীয় পার্টি

জাতীয় পার্টির স্থানীয় সূত্র জানায়, ডিএসসিসির ৫৯ নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে নির্বাচনের জন্য দল থেকে ৩ জন অনানুষ্ঠানিকভাবে সমর্থন চেয়েছিলেন। এর মধ্যে সংগঠনে পদ ও সাংগঠনিক দিক থেকে কদমতলী থানা জাতীয় পার্টির যুগ্ম সম্পাদক মো. হোসেনের অবস্থান ভালো ছিল। তাই জাতীয় পার্টি-সমর্থিত স্থানীয় সাংসদ সৈয়দ আবু হোসেনের সহযোগিতায় তিনি দল থেকে সমর্থন পেয়েছেন।

জানতে চাইলে মো. হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার নির্বাচনী এলাকায় দলমত-নির্বিশেষে সবাই আমাকে ভালোবাসে। তাদের সমর্থন নিয়েই আমি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছি। আমি নির্বাচিত হলে তাদের ভালোবাসার প্রতিদান দেব।