ইতালীতে বাংলাদেশ সমিতির নির্বাচন দিতে ব্যর্থ নির্বাচন কমিশন

প্রকাশিত

আসলামউজ্জামান,ইতালীঃ

আফতাব-জহির কে সভাপতি ,সম্পাদক করে কমিটি ঘোষনা।
বহুল প্রতিক্ষীত বাংলাদেশ সমিতি ইটালীর নির্বাচন দিতে ব্যর্থ হয়েছে লোকমান হোসেন কমিশন।ব্যর্থতার দায়ভার নিয়ে পদত্যাগ না করলেও রাতের আধারে সমিতির নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে সমঝোতার মধ্যে দিয়ে ১৩ জানুয়ারী শনিবার ভোর চার টায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম লোকমান হোসেন কমিটি ঘোষনা করেন।
ইতালীতে বাংলাদেশ সমিতি ,প্রবাসীদের অধিকার আদায়ের প্লাটফর্ম।২০০৩ সাল থেকে ঝিমিয়ে ছিল এই সংগঠনটি। প্রায় ১৩ বছর নির্বাচনের উদ্যোগ নিলেও এখন পদ পদভীর লোভে সমজোতার মাধ্যমে ঘোষনা করা হয়েছে নতুন কমিটি।
এর আগে ওপেন কর্নসার্টের মধ্যে দিয়ে নির্বাচন করে একটি কমিটি ঘোষনা করে দিদার -বাচ্চু কমিশন। যদিও পরাজিত সাধারন সম্পাদক প্রার্থী নুরুল আফসার বলেছিলেন সেখানে আবুল কালাম সায়মনকে জয়ী করতে ব্যপক কারচুপী হয়েছিল।
এ দিকে কে এম লোকমন হোসেন কমিশন সভাপতি পদে আফতাব বেপারী, সাধারন সম্পাদক পদ মোঃজহিরুল আলম, যুগ্ম সাধারন সম্পাদক পদে আব্দুল মজিদ বাবুল এবং সাংগঠনিক সম্পাদক পদে হেলাল রায়হান ,ইব্রাহীম খলিলের নাম ঘোষনা করে।
এ দিকে সিনিয়র সহ সভাপতি পদে সাধারন সম্পাদক প্রার্থী দ্বীন মোহাম্মদ দীনুর নাম ঘোষনা করলেও তিনি হাত উঠিয়ে কমিটি গঠন মানতে নারাজ।এদিকে কমিটি ঘোষনার সময় কে এম লোকমনা হোসেন, আলী আম্বর আশরাফ,নজরুল ইসলাম(কুমিল্লা) ছাড়া অন্য কেউ উপস্থিত ছিল না।
দীর্ঘ দিন রাজনীতি ,সমাজনীতির মাঠে না থাকলেও সে দিন সারা রাত সজাগ থেকে কমিটি ঘোষনার পক্ষে মত দেন
নির্বাচন কমিশনের উপদেষ্টা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মাহতাব হোসেন ।
এ সময় ইটালী বি এন পির সাবেক সভাপতি হাজী লকীয়ত উল্লাহ উপস্থিত ছিলেন।বাংলাদেশ সমিতির গঠনতন্ত্রে উপদেষ্টা বা সমন্বয় কারীর কোন পদ আছে কিনা সে ব্যপারে ধোয়াশা রয়েছে আগে থেকেই। যদিও এ ব্যপারে জী এম কিবরিয়া ভাল জানেন।উপদেষ্টা বৃন্দ বলেন, সমঝোতার মাধ্যমে এই কমিটি যথেষ্ঠ শক্তি শালী হয়ে বাঙালী কমিউনিটির জন্য কাজ করে যাবে।
এ দিকে বাংলাদেশ সমিতির সভাপতি জী এম কিবরিয়া বলেন কেএম লোকমন হোসেন নির্বাচন কমিশনের কাজ করতে গিয়ে চারটি গুরুতর ভুল করেছে। সেসব বিষয় সংবাদ সম্মেলনে বলব তার এই ঘোষনা অগঠনতন্ত্রীক
এবং অবৈধ।আমরা শ্রীঘই আলোচনের মাধ্যমে পরবর্তী পদক্ষেপ জানাব। এদিকে বিপুল সংখ্যক ভোটারের জন্য প্রয়োজনীয় হল বা ভোট কেন্দ্রের ব্যবস্থা করতে ব্যর্থ হন নির্বাচন কমিশন। দ্বিতীয় দফায় নির্বাচনের তারিখ ১৪ জানুয়ারী থেকে ২৮ জানুয়ারী তে পুনরায় নির্ধারন করা হলে প্রার্থীদের মধ্যে ভোট না হওয়ার শংকা থাকায়, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা সমঝোতার মধ্যে দিয়ে এই কমিটি গঠনে সম্মত হয়।
প্রায় ৬ মাস ধরে প্রধান নির্বাচন কমিশনার সহ অন্যান্য কমিশনার বৃন্দ সমগ্র রোম কে কয়েকটি অঞ্চলে ভাগ করে যেন নির্বাচনী প্রচারনা গুলো সুষ্ঠ ও সুন্দর হয়। সেই সঙ্গে চলতে থাকে ভোটার হওয়া ও ভোটার আই ডি কার্ড প্রদান। পাশাপাশি উৎসব মুখর পরিবেশে চলছিল প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচারনা। ভোটার কাজ সম্পন্ন হয়েছিল প্রায় আট হাজাঁর।
নব নির্বাচিত সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক বলেন” সংবিধানের জন্য জনগন নয় , জনগনের জন্য সংবিধান। সন্মিলিত ভাবে যদি জনগনের কাজ করা যায় তাহলে সেখানেই সার্থকতা।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম লোকমান হোসেন তার বক্তব্যে বলেন,নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বি প্রাথীর্রা সমঝোতায় আসায় নির্বাচনের পথে না গিয়ে তাদের সমঝোতার ফলাফলই ঘোষণা করা হলো। তিনি বলেন,আমরা আশা করি তারা আগামী দিনে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কল্যাণে দায়িত্ব পালন করবেন। কমিশনের ভারপ্রাপ্ত সচিব ও তথ্য সচিব আলী আম্বর আশরাফ এর আগে বলেছিলেন ১৪ জানুয়ারী নির্বাচন হতেই হবে পরবর্তীতে ২৮ জানুয়ারী হবে রোম কমিউনিটির সেরা নির্বাচন।তবে এখন আর তার কোন বক্তব্য নেই।এ দিকে দীনু তার মনোনয়নের অর্থ ফেরত পেতে নির্বাচন কমিশনকে চাপ দিচ্ছে। অন্য দিকে ঐ তিন নির্বাচন কমিশনার ছাড়া বাকি সবাই জরুরী সভায় বসবেন যে কোন সময়। আগামী ২৮ জানুয়ারী বাংলাদেশ কমিউনিটি তিন ভাগে বিভক্ত হবে এমনটাই মনে করছে সুশীল সমাজ।তবে এসব ঘটনায় সুবিধা জনক অবস্থায় রয়েছে বাচ্চু নিয়ন্ত্রিত হাসানুজ্জামান – সায়মন বাংলাদেশ সমিতি।