ইনষ্টিটিউট অব ফ্রন্টিয়ার টেকনোলজি এন্ড হাইটেক পার্কঃ শিবচরের নির্ধারিত স্থানে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে সভা করে ৭ দিনের সময় বেধে দিল প্রশাসন

প্রকাশিত

 

মাদারীপুর প্রতিনিধি-

শিবচরে শেখ হাসিনা ইনষ্টিটিউট অব ফ্রন্টিয়ার টেকনোলজি এন্ড হাইটেক পার্ক নির্মানের
নির্ধারিত স্থানে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে সভা করে ৭ দিনের সময় বেধে দিয়েছে প্রশাসন। সোমবার শিবচরের কুতুবপুরের কেশবপুরে সভা করে প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এ আহŸান জানালে ক্ষতিগ্রস্থরা তাতে সম্মত হন। স্থানীয় সংসদ সদস্য জাতীয় সংসদের চীফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরীর নির্দেশক্রমে এ সভা অনুষ্ঠিত হয় বলে সুত্রে জানা যায়। এরআগে গত বছর চীফ হুইপের কঠোর হস্তক্ষেপে মেগা প্রকল্প শেখ হাসিনা তাত পল্লী থেকে শত শত অবৈধ স্থাপনা প্রশাসনউচ্ছেদ করে সরকারের কোটি কোটি টাকা সাশ্রয় করে।
সরেজমিনে জানা যায়, পদ্মা সেতুর এক্সপ্রেস হাইওয়ের পাশে উপজেলার কুতুবপুরের কেশবপুরে আইসিটি মন্ত্রনালয় শেখ হাসিনা ইনষ্টিটিউট অব ফ্রন্টিয়ার টেকনোলজি এন্ড হাইটেক পার্ক নির্মানে ৭০.৩৪ একর জায়গা নির্ধারন করে। এরপর থেকেই নির্ধারিত এই স্থানে সরকারের কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিতে ক্ষতিগ্রস্থদের সহায়তায় দালালচক্র ওই এলাকায় অবৈধ ঘর বাড়ি বাগান খামার স্থাপন শুরু করে। সম্প্রতি আইসিটি মন্ত্রনালয় থেকে মাদারীপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জমি হুকুম দখলের প্রস্তাব করে। খবরটি ছড়িয়ে পড়লে ওই এলাকায় অবৈধ ঘর বাড়ি বাগান খামার স্থাপন আরো বেড়ে যায়। এ পরিস্থিতিতে সোমবার ওই এলাকায় সম্ভাব্য ক্ষতিগ্রস্থদের নিয়ে সভার আয়োজন করে জেলা প্রশাসন। সভায় কর্মকর্তা ও নেতৃবৃন্দ ক্ষতিগ্রস্থদের কাছ থেকে তাদের বিভিন্ন সমস্যার কথা শুনেন। ক্ষতিগ্রস্থরা জমির ন্যায্য ক্ষতিপূরন, বিল উত্তোলনে ভোগান্তি লাঘব ও দালাল চক্রের হাত থেকে রক্ষার আবেদন করেন। ৭দিনের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্থরা অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নিতে সম্মত হয়। সভা চলাকালে চীফ হুইপকে মোবাইলে দফায় দফায় তদারকি করতে দেখা যায়। সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক ড.রহিমা খাতুন, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মুনির চৌধুরী, উপজেলা চেয়ারম্যান আঃ লতিফ মোল্লা, পৌর মেয়র আওলাদ হোসেন খান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আসাদুজ্জামান, উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি মোঃ শাজাহান মোল্লা, ভূমি হুকুম দখল কর্মকর্তা প্রমথ রঞ্জন ঘটক, সহকারী কমিশনার (ভূমি)এম রাকিবুল হাসান প্রমুখ।
জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মুনির চৌধুরী বলেন, এ প্রকল্পকে ঘিরে দালাল চক্র অপতৎপরতা শুরু করেছিল। সে ব্যাপারে আমরা ক্ষতিগ্রস্থদের নিয়ে সভা করলাম। এক সপ্তাহের মধ্যে সকল অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নিতে সম্মত হয়েছে স্থানীয়রা। এরআগে চীফ হুইপের কঠোর হস্তক্ষেপে তাত পল্লীর নির্ধারিত এলাকা থেকে শত শত অবৈধ স্থাপনা প্রশাসন উচ্ছেদ করায় সরকারের শত শত কোটি টাকা সাশ্রয় হয়েছিল।
জেলা প্রশাসক ড.রহিমা খাতুন বলেন, এটি এ অঞ্চলের নতুন প্রজন্মের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ন প্রকল্প। প্রকল্পটি নির্ধারনের সময়কার আগের ভিডিও ও ছবি রয়েছে আমাদের হাতে। এরপর অনেকে বহু অবৈধ স্থাপনা বাগান খামার করেছে। সেগুলো অপসারনে এ সভা হয়েছে। এক সপ্তাহের মধ্যে অবৈধ স্থাপনা অপসারন না হলে অন্যত্র প্রকল্প সরিয়ে নেয়া হতে পারে। দালাল চক্রের বিরুদ্ধেও অভিযান শুরু হবে।
চীফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী মুঠোফোনে কঠোর মনোভাব ব্যক্ত করে বলেন, অবৈধ স্থাপনা অপসারিত নাহলে প্রকল্প অন্যত্র স্থানান্তরিত করা হবে।