ইয়াবার বিকল্প ট্যাবলেট “ট্যাপেন্টাডল” অবাধে বিক্রি হচ্ছে ফার্মেসীতে

প্রকাশিত

তুহিন সারোয়ার-

দেখতে কিছুটা ইয়াবার মতো। কিন্তু ইয়াবা ট্যাবলেট নয়, ব্যথানাশক ওষুধ। এই ট্যাবলেটই এখন ব্যবহৃত হচ্ছে ইয়াবার বিকল্প হিসেবে।

নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ট্যাপেন্টাডল ও মিথাইল হাইড্রোক্লোরাইড জেনেরিক নামের বিভিন্ন কোম্পানির ওষুধগুলো দেদারছে বিক্রি হচ্ছে গাজীপুরের ওষুধের দোকানে।  এসক্যাফে, ইনসেপ্টা, এসিআই, স্কয়ার, হেলথকেয়ারের মতো ওষুধ কোম্পানির এই ব্যথানাশক ট্যাবলেট এক শ্রেনির মাদকাসক্ত ব্যবহার করছে ইয়াবার বিকল্প হিসেবে।

এক মাদকসেবী বলেন, এক পিস ইয়াবার দাম যেখানে ২৫০-৩০০ টাকা, সেখানে একটি ব্যথানাশক ট্যাবলেট ৫০-৬০ টাকা। আমি যখন প্রথমদিন এটা কিনি, তখন দাম নেয় ৫০ টাকা। এখন ৬০ টাকা করে নেয়। ফার্মেসিতে গেলেই এটি পাওয়া যায়। কোনো ধরনের জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পড়তে হয় না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গাজীপুর চান্দনা চৌরাস্তা এলাকার এক

ফার্মেসি মালিক  জানান, ভ্যানচালক-রিকশাচালকরাই এসে এ ধরনের ট্যাবলেট বেশি চায়। অন্যান্য ওষুধের তুলনায় এ ট্যাবলেট বিক্রিতে লাভ বেশি। তাই এটা বিক্রিতে আমরা বেশি উৎসাহ দেখাই। নগরীরর কলেজগেইট এলাকার অপর এক ফার্মেসি মালিক জানান, মিটফোর্ট এলাকায় পাইকারি হারে এসব ট্যাবলেট পাওয়া যায়। সেখান থেকে ব্রোকার বা হকাররা গাজীপুরের বিভিন্ন ফার্মেসিতে সরবরাহ করে।

ইয়াবা বা হেরোইন যেভাবে সেবন করা হয়, একই পদ্ধতিকে সেবন করা হয় এ ট্যাবলেট। এটি বাজারে সহজলভ্য। দামও কম। এ সুযোগে নতুন এ নেশায় আসক্ত হয়ে পড়ছে কিশোর-তরুণসহ যুবকদের একাংশ। তারা জড়িয়ে পড়ছে ছিনতাই-চুরিসহ নানা অপকর্মে। তাই মাদক হিসেবে ব্যবহৃত এসব ট্যাবলেট বাজার থেকে প্রত্যাহার করে নিতে দুই মাস আগে নির্দেশ দিয়েছে ঔষধ প্রশাসন। এরপরও পাইকারি দোকান ও বিভিন্ন ফার্মেসিতে এসব সরবরাহ করছে কিছু কোম্পানি।

এক ইয়াবাসেবী বলেন, এক পিস ইয়াবার দাম যেখানে ২৫০-৩০০ টাকা, সেখানে একটি ব্যথানাশক (ট্যাপেন্টাডল ও মিথাইল হাইড্রোক্লোরাইড জেনেরিক ) ট্যাবলেট ৫০-৬০ টাকা। আমি যখন প্রথমদিন এটা কিনি, তখন দাম নেয় ৫০ টাকা। এখন ৬০ টাকা করে নেয়। ফার্মেসিতে গেলেই এটি পাওয়া যায়। কোনো ধরনের জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পড়তে হয় না।

গোয়েন্দা পুলিশের উপকমিশনার (ডিসি) মশিউর রহমান চ্যানেল সিক্সকে বলেন, কেবল বেশি লাভের জন্যই ফার্মেসির লোকজন বা হাতুড়ে ডাক্তাররা ব্যথানাশন নামধারী এসব মাদক মানুষের কাছে বিক্রি করছেন। যাদের হাতে কোনো প্রেসক্রিপশন নেই, তাদের হাতে এ প্রাণঘাতী ট্যাবলেট তুলে দিচ্ছেন।  তিনি আরও বলেন, যেসব ফার্মেসিতে এখনও এসব ট্যাবলেট বিক্রি হচ্ছে, সেসব ফার্মেসিতে শিগগিরই বড় ধরনের অভিযান চালানো হবে।

নিষিদ্ধ হওয়ার পরও যেসব ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ইয়াবার বিকল্প ট্যাবলেট সরবরাহ করছে, সেসব প্রতিষ্ঠনের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হবে কি না- ডিবির অতিরিক্ত উপকমিশনার বদরুজ্জামন জিল্লু চ্যানেল সিক্সকে বলেন,  তদন্ত শুরু করেছি। এরই মধ্যে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট তথ্য পেয়েছি। তদন্ত শেষে এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ঔষধ প্রশাসন অধিদফতরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মাহবুবুর রহমান  বলেন, গত ৩ ডিসেম্বর স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দেয়া এক চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত করে দুই ধরনের ট্যাবলেটে আমরা ইয়াবার উপাদান পাই। এর মধ্যে একটি ট্যাবলেট সব পাইকারি ও খুচরা ফার্মেসি থেকে প্রত্যাহার করে নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়। অপর ট্যাবলেটটি বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন ছাড়া কোনোভাবেই বিক্রি না করার নির্দেশ দেয়া হয়। উৎপাদনকারী সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের উৎপাদন ও বিতরণ সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রতিমাসে ঔষধ প্রশাসন অধিদফতরে জমা দিতে বলা হয়েছে। এছাড়া আরও বেশকিছু নির্দেশনা দেয়া হয়। যারা অধিদফতরের নির্দেশনা অমান্য করছেন, তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।