ইয়াহিয়া বঙ্গবন্ধুর নির্দেশেই গরম খাবার পেয়েছিলেন : প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত

বিশেষ প্রতিনিধিঃ আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশে যখন অসহযোগ আন্দোলন চলছিল তখন ইয়াহিয়া ঢাকায় আসেন বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে আলোচনা করতে। রাষ্ট্রপতি ভবনে বাঙ্গালি বাবুর্চিরা সিদ্ধান্ত নেয় তারা রান্না করবে না। পরে বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে তারা রান্না করে এবং ইয়াহিয়া গরম খাবার পান।

ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উপলক্ষে আজ বুধবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অয়োজিত সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

অসহযোগ আন্দোলনের সময় বাংলাদেশের মুক্তিকামী জনগণ আওয়ামী লীগের প্রত্যেকটি নির্দেশনা অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছেন উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘অসহযোগ আন্দোলনে দেশে সামরিক ফরমান জারি হতো। কিন্তু দেশের মানুষ সেই ফরমান মানতেন না। তারা তা প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। কিন্তু ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর বাসভবন থেকে আওয়ামী লীগের যে নির্দেশনা যেত বাংলাদেশের মানুষ তা অক্ষরে অক্ষরে পালন করতেন। তারা ওই ইয়াহিয়া ও তার সামরিক শাসন মানতেন না।’

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, “ইয়াহিয়া ঢাকায় আসলো বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে আলোচনা করতে। তিনি রাষ্ট্রপতি ভবনে উঠেছিলেন। সেখানে বাঙালি বাবুর্চি ছিল, কিন্তু তারা রান্না করবে না। একদিন সে গরম খাবার পায়নি। তখন রাষ্ট্রপতি ভবন থেকে ৩২ নম্বরে ফোন গেল, ইয়াহিয়া বঙ্গবন্ধুকে বলেছিলেন, ‘আপনি অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন তাই কেউ কোনো কাজ করে না। সবাই হাতে হাত ধরে বসে আছে, নির্দেশ না পেলে কাজ করবে না। তারা বলে একমাত্র ৩২ নম্বর থেকে নির্দেশ এলে তারা কাজ করবে, চুলা জ্বলবে; নয়তো না।’ তখন স্বাভাবিকভাবে ৩২ নম্বর থেকে বলা হলো যে তোমরা কাজ করতে পারো। তারপর বাবুর্চি রান্না করার পর ইয়াহিয়া গরম খাবার খেতে পেয়েছিলেন। সেদিনই বোঝা গিয়েছিল যে এই দেশে তাদের কোনো স্থান নাই।”

‘আমাদের সংগ্রাম ছিল বাংলাদেশকে পাকিস্তানি শাসন থেকে মুক্ত করা। একাত্তরের পর এই সংগ্রাম বাস্তবে রুপ নিতে লাগলো। জাতির পিতা দেশের উন্নয়নে ব্যস্ত হয়ে পড়লেন। তিনি যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে আইন প্রনয়ণ করেছিলেন’- বলেন আওয়ামী সরকার প্রধান।

আওয়ামী লীগ সভাপতি আরও বলেন, ‘৭১ ও পঁচাত্তরের পরও সেই সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় ২১ বছর পর আমরা সরকার গঠন করেছি। আমরা সরকারে এসে দেশে স্বাক্ষরতার হার বাড়িয়েছি। জাতির পিতার পদাঙ্ক অনুসরণ করে তার শুরু করা কাজগুলো পুনরায় শুরু করেছি। ’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ গ্যাস। আমরা গ্যাসের উন্নয়ন করেছি। কিন্তু এই দেশে আমাদের উন্নয়নের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। জনগণের স্বার্থ দেখেছিলাম বলেই ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছিল।’

পঁচাত্তরের পর জিয়াউর রহমান যুদ্ধাপরাধীদের ক্ষমতায় বসিয়েছিল জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতির পিতাকে নির্মমভাবে হত্যা করার পর ওই হত্যাকারীদের মুক্তি দিয়েছিল জিয়া। তাদের হাতে জনগণের রক্তে অর্জিত পতাকা তুলে দিয়েছিল। খুনীদের মুক্তি দেয় বিচার থেকে বের করে মন্ত্রী বানিয়েছিল।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘জাতির পিতাকে হত্যার মাধ্যমে দেশে একটি লজ্জার অধ্যায় উপহার দিয়েছিল জিয়া। বঙ্গবন্ধু হত্যার খুনী রশিদ ও মুজাহিদকে পার্লামেন্টে বসিয়েছিল। এগুলো লজ্জার।’

বিরোধী দলের আন্দোলন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২০১৩ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত তারা (বিএনপি) আন্দোলনের নামে তিন হাজার লোককে আগুনে পুড়িয়ে মেরেছে। বাস, ট্রাক, সিএনজি আগুনে পুড়িয়েছে। দেশের জনগণ এগুলো ভুলে যায়নি। তারা প্রতিবাদ গড়ে তুলেছিল। দুবছর কেয়ারটেকার সরকার শাষণ করেছিল। আওয়ামী লীগ বহু সংগ্রামের পর সরকার গঠন করে।’

জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা চাই দেশের সকল মসজিদের ইমাম ও অন্যান্য ধর্ম গুরুদের দেশে বর্মমান পরিস্থিতি সম্পর্কে সচেতন হতে হবে। বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল ও সুন্দর করে গড়ে তুলতে তাদের কাজ করে যেতে হবে।’

শেখ হাসিনা আরও বলেন, ‘আমরা বঙ্গবন্ধৃ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করতে যাচ্ছি। বৃহত্তর খাদ্য উৎপাদন করছি। দেশে বিভিন্ন বিভাগ মিলিয়ে ২৬ হাজার কিলোমিটার রাস্তা করেছি। নিজেদের টাকায় পদ্মা সেতু নির্মাণ করছি। জাতির পিতার লক্ষ্য অনুসরণ করে দেশকে মধ্যম আয়ের দেশে রূপান্তর করেছি। আমরা কারো কাছে মাথা নত করে চলবো না।’