উত্তরায় বিএনপি সন্ত্রাস, নৈরাজ্য ও জঙ্গিবাদী রাজনীতির প্রতিবাদে যুব সমাবেশে খালেদা জিয়ার দুর্নীতির রায় নিয়ে সরকারের করণীয় কিছু নেই ——–স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রী

প্রকাশিত

এস.এম.মনির হোসেন জীবন : আগামীকাল ৮ ফেব্রুয়ারি বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার একটি দুর্নীতি মামলার রায় নিয়ে সরকারের করনীয় কিছু নেই উল্লেখ করে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, আগামীকাল বৃহস্পতিবার আদালতে খালেদা জিয়ার বিরুদ্বে একটি দুর্নীতির রায় হতে পারে। সেটি যে কোন রায় হতে পারে। এটা সম্পূর্ণ আদালতের বিষয় । এতে আওয়ামী লীগের কিছু করার নেই।
স্বাস্থ্য মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, আগামীকালের এই রায়কে কেন্দ্র করে বিএনপি-জামাত জোট দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করার জন্য তারা চেষ্টা চালাচ্ছে। এটি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দেখবে। দেশের সর্বস্তরের জনগণ তা প্রতিরোধ করবে। জনগনকে সাথে নিয়ে সেটি মোকাবেলা করতে হবে। এখানে সরকারের কিছু করার নেই। খালেদা জিয়া দোষী হলে তার শাস্তি হবে। আর যদি নির্দোষ হয় তাহলে সে খালাস পাবে।
আজ বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীর উত্তরা ৩ নম্বর সেক্টরস্থ রাজলক্ষ্মী কমপ্লেক্স এর সামনে বিএনপি সন্ত্রাস, নৈরাজ্য ও জঙ্গিবাদী রাজনীতির প্রতিবাদে যুব সমাবেশ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগ এই যুব সমাবেশের আয়োজন করেন।
মোহাম্মদ নাসিম বলেন, আমরা গণতন্ত্রে বিশ্বাসী। দেশে একটি রায়কে কেন্দ্র করে বিএনপি-জামাত জোট উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে। জননিরাপত্তার স্বার্থে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী যা করা দরকার তাই করছে।
খালেদা জিয়াকে ইঙ্গি করে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন,উনি (খালেদা জিয়া) কিসের ন্যায় বিচার চান। আদালতের কাছে সে ন্যায় বিচার চাইতে পারেননা।
তিনি আরো বলেন, শেখ হাসিনার অধীনে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন দেশে অনুষ্ঠিত হবে। সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন হবে। আমরা শান্তি চাই ও উন্নয়ন চাই। জনগনের রায়কে মেনে নিতে হবে। শেখ হাসিনা সরকার বার বার দরকার। তাই আগামী নির্বাচন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে জোটবদ্ধভাবে করা হবে।
আওয়ামীলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন তার বক্তব্যে বলেন, আগামীকাল খালেদা জিয়ার একটি দুর্নীতি মামলার রায় হবে। কোর্ট কি রায় দেবেন সেটি আদালত বলতে পারবেন। দেশে কোন প্রকার নৈরাজ্য সৃষ্টি করতে পারবেননা।
তিনি আরো বলেন, বিএনপি’র রাজনীতি দেশের আপামর জনগন মেনে নিতে পারে না। এক্ষেত্রে সর্বস্তরের জনগনকে ঐক্যবদ্ব হয়ে সন্ত্রাস, নৈরাজ্য ও জঙ্গিবাদী রাজনীতির বিরুদ্বে একযুগে রূখে দাঁড়াতে হবে।
আওয়ামী যুবলীগের চেয়ারম্যান আলহাজ মোহাম্মদ ওমর ফারুক চৌধুরী বলেন, বিএনপি হলো ইবলিশ ও শয়তানের দল। মানুষকে বিভ্রান্ত করা হলো তাদের কাজ। যুবলীগ কাউকে তেল মারেনা।
তিনি আরো বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের জনগনের অধিকার চান। আমাদের কাজ হলো মাথা ঠান্ডা রাখা। বিএনপি’র উসকানিকে কোন ধরনের কান দেবেন না। যে কোন মূল্যে তাদেরকে প্রতিহত করতে যুবলীগের নেতাকর্মীদেরকে মাঠে থাকতে হবে।
হারুনুর রশীদ বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ যুবলীগ শান্তির রাজনীতি করে এবং তারা দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠিত করতে চায়। যারা দেশে অশান্তির সৃষ্টি করতে চায় তাদেরকে কঠোর হস্থে প্রতিহত করতে হবে। যেমন কুকুর তেমন মুগুর। এবিষয়ে আমাদের যুবলীগের নেতাকর্মীদেরকে সর্তক্য ও সজাগ থাকতে হবে।
বিজিএমই সাবেক সভাপতি আতিকুর ইসলাম বলেন, বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আন্দোলনের নামে রপ্তানীমুখি গাড়িতে বোমা মেরে ব্যবসায়ীদের অনেক ক্ষতি করেছেন। উন্নয়নের গণতন্ত্র শেখ হাসিনার মূলমন্ত্র।
তিনি বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাচেছ, এগিয়ে যাবে। তিনি যা বলেন তাই করেন।
রাজধানীর উত্তরায় রাজলক্ষèী কমপ্লেক্র এর সামনে বিএনপি সন্ত্রাস, নৈরাজ্য ও জঙ্গিবাদী রাজনীতির প্রতিবাদে যুব সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের সভাপতি আলহাজ মোহাম্মদ মাইনুল হোসেন খান নিখিল। এসময় যুব সমাবেশে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মো: ইসমাইল হোসেন, ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আলহাজ মো: মামুন সরকার, সহসভাপতি ডি.এম শামীম, মজিবুর রহমান বাবুল ও সহসম্পাদক এ্যাডভোকেট এ কে আজাদ প্রমুখ। এসময় বিপুল সংখ্যক দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্টানে মাননীয় প্রধান অতিথি স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম ও বিশেষ অতিথি এ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন (এমপি’র) হাতে যুব গবেষনা কেন্দ্র যুবজাগরণ প্রকাশনা বিক্রয় কেন্দ্র থেকে বই ও ক্যালেন্ডার যুবলীগের পক্ষ থেকে প্রদান করা হয়।