উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র বন্ধ থাকায় সেবাবঞ্চিত ২০ হাজার মানুষ

প্রকাশিত
নীলফামারী প্রতিনিধিঃ নীলফামারীর ডোমার উপজেলার পাঙ্গা-মটুকপুর ইউনিয়নের উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি  ১ বছর ধরে বন্ধ রয়েছে। এ কারণে ওই ইউনিয়নের ১-৬ টি ওয়ার্ডের ২৫ গ্রামের ২০ হাজার মানুষ চিকিৎসাসেবা পাচ্ছে না।
মেডিক্যাল পাড়ার বাসিন্দারা জানান, গত বছর উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রটির এম,এল,এস,এস ছেয়ারউদ্দিন বুদু অবসরে যাওয়ার পর কিছুদিন ডাক্তার এসেছিল। এরপর থেকে আর ডাক্তার আসে না। এখন পর্যন্ত এটি বন্ধ রয়েছে।
হাজীপাড়ার রবিউল ইসলাম এবং মেলাপাঙ্গা গ্রামের মিজানুর ও মেডিক্যাল মোড়ের পান দোকানদার মমিনুর রহমান জানান, এ কেন্দ্রের আশেপাশের ২৫ টি গ্রামের অন্তত ২০ হাজার মানুষ চিকিৎসাসেবা পেয়ে আসছিলেন। এটি বন্ধ থাকায় ৮ কিঃমিঃ দুরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যেতে হচ্ছে। কিন্তু অর্থাভাবে অনেকের পক্ষে তা সম্ভব হচ্ছে না।
পাঙ্গা-মটুকপুর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন জানান, ইউনিয়নের অধিকাংশ মানুষ অসচেতন ও আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল। তাই বেশিরভাগ লোকজন রোগ-বালাই নিরাময়ে হাতুরে ডাক্তার ও কবিরাজের কাছে যান। উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র সংলগ্ন পাঙ্গা মহেশ চন্দ্র লালা উচ্চ বিদ্যালয় ও পাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় ৬৫০ শিক্ষার্থী রয়েছে।
পাঙ্গা মহেশ চন্দ্র লালা উচ্চ বিদ্যালয়ের  প্রধান শিক্ষক আবু জাফর সামসুদ্দিন বলেন, বিদ্যালয় ২টির বেশির ভাগ শিক্ষার্থী এই উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র থেকে ব্যবস্থাপত্র এবং প্রয়োজনীয় কিছু ঔষধ পেতেন।
তিনি বলেন, আমি গতবছর কয়েকবার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃপঃ কর্মকর্তার সাথে এ ব্যাপারে কথা বলেছি। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। তিনি এ কেন্দ্রটি দ্রুত চালু করার দাবি জানান।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মেহেফুজ আলী জানান, ৫০ শয্যা বিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে চিকিৎসকের পদ আছে ২২টি। বর্তমানে তিনি ছাড়া মাত্র ২ জন চিকিৎসক আছেন।চিকিৎিসক সংকটে কারণে উপজেলার ৮ উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে ৮ জন উপ-সহকারী চিকিৎসা কর্মকর্তা এনে পরিস্থিতি সামাল দিতে হচ্ছে। এ কারণে ওই ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি বন্ধ রয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অবহিত করা হয়েছে।