একটি হত্যাকে ধামাচাপা দেওয়ার মানে আরেকটি হত্যা করার সুযোগ দেওয়া

প্রকাশিত

মো. রফিকুল ইসলাম – যখন কোন অপরাধী, চুরি, ছিনতাই বা ডাতাতি করে তখন তাকে কোন কারণে ক্ষমা করা হলেও যখন হত্যার মতো জঘন্য অপরাধ করে তখন সেই অপরাধীকে ছাড় দেওয়ার মানে হচ্ছে আরেকটি অপরাধ করার সুযোগ করে দেওয়া। এখন প্রশ্ন হচ্ছে দ্বিতীয়বার করা অপরাধের দায়টা কী শুধু ওই অপরাধীর নাকি যারা প্রথম অপরাধের পর তাকে দ্বিতীয় অপরাধটি করার সুযোগ দিয়েছে তাদেরও ? যে নরপশু (অভিযুক্ত তুষার) ৩ বছরের শিশু সন্তান থাকতে স্ত্রীকে হত্যা করতে পারে তাকে ধনাট্য পিতা মোঃ আমীন (সিরামিক ব্যবসায়ী) টাকার জোড়ে বাচিঁয়ে কী পিতার সঠিক দায়িত্ব পালন করলেন নাকি এমন একজন অপরাধীকে পুর্নরায় আবারও অপরাধ করার সুযেযাগ দিলেন ? যে আইন তৈরি হয়েছে আমাদেও সমাজ ব্যবস্থা সুন্দও ও সুশৃংঙ্খল রাখতে সেই আইনের রক্ষক যদি টাকা কাছে বিক্রি হয়ে হয়ে এমন নরপশুকে বাচঁতে সহায়তা করেন তাহলে বিচারের বাণী নিরবেই কাঁদবে।
গংবাদ বিশ্লেষণ  গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের টঙ্গী পূর্ব থানার দত্তপাড়া এলাকায় গত ১৬ এপ্রিল দুপুরবেলা এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। ঐ এলাকার লুৎফর-শহীদের যৌথ মালিকানাধিন ফ্ল্যাট বাড়ির ২য় ও ৩য় তলার ভাড়াটিয়া, সিরামিক ব্যবসায়ী মো. আমিনের বাসায় এ ঘটনা ঘটে।


প্রত্যক্ষদর্শী ও এলাকাবাসীর ভাষ্যা মতে, আমিনের পুত্র মোঃ তুষার দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের নেশায় আসক্ত। তাকে নেশামুক্ত এশাধিকবার মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রেও রেখেছেন। এক পর্যায় পিতা-মাতা সিদান্ত নেয় বিয়ে দিয়ে বৌ ঘওে আনলে হয়তো ছেলেকে নেশামুক্ত করতে পারবে। তাই তাদের স্থায়ী নিবাস নোয়াখালীর লক্ষীপুর এলাকার দিনমজুর মৃত আবুর কালামের মেয়ে সাথীর সঙ্গে তুষারের বিবাহ দেন। বিবাহের প্রথম থেকেই নেশা কওে গভীর রাতে ঘওে ফেরা নিয়ে স্ত্রী সাথী কোন প্রশ্ন করলে শুরু হতো অমানবিক পাষবিক নির্যাতন। পিতা মাতার অসয়াত্বেও কথা চিন্তা করে দুঃখ-কষ্ট সহ্য করেই সংসার করছিল সাথী। ওই অবস্থাতেই তাদের সংসারে একটি পুত্র সন্তানের জন্ম হয়, তাই সাথী ভেবেছিল হয়তো এবার ভালো হয়ে যাবে স্বামী তুষার। কিন্তু শেষ পরিণাম সাথীকে তাকে বরণ করতে হলো মৃত্যু।
তুষারের পিতা আমিনের ভাড়া বাসায় একসাথে বসবাস করতো দুই পুত্র ও পুত্রবধূ এবং আমিন ও তার স্ত্রী। কিন্তু বিয়ের পরও নেশাগ্রস্থ স্বামী তুষার নেশার জগৎ না ছাড়ায় তাকে মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রে চিকিৎসা দেয়া হয়। কিন্তু ছয় মাস চিকিৎসা শেষে ফিরে এসে আবারো জড়িয়ে পড়ে নেশার জগতে। সেইসঙ্গে স্ত্রী নির্যাতনের মাত্রা বেড়ে যায় বহুগুণে।
সবশেষ গত ১৬ এপ্রিল দুপুরবেলা নির্যাতনের এক পর্যায়ে প্রান হারান অবলা, চিরদুঃখী সাথী। পরে কৌশল করে এ মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দিতে দ্রæত উদ্যোগ গ্রহণ করে আমিনের পরিবার-পরিজন।
সরেজমিনে জানা গেছে মৃত সাথীর ঘটনা কোন ভাবেই আত্মহত্যা প্রমাণ দিতে পারেনি তুষারের পরিবার। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জানা যায়, সাথী লাশ যে কক্ষে ছিল তার দরজা খোলা ছিলো। আত্মহত্যা করলে কেউ দরজা খোলা রেখে কওে না এটাই স্বাভাবিক। যখন তারা সাথীর মৃত লাশ দেখেছে তারা থানা পুলিশকে সংবাদ না দিয়ে লাশটি স্থানান্তর করেছে। আত্মহত্যার কোন লাশ পুলিশকে সংবাদ না দিয়ে কিভাবে পরিবারের লোকজন স্থানান্তর করেন ? সর্বপোরি কথা হচ্ছেÑ একটি ২৩ বছরের সুস্থ্য স্বাভাবিক নারী যার রয়েছে ৩ বছরের একটি সন্তান ওই নারী কোন র্দুঘটনা ছাড়া নিজের ঘরে লাশ হয়ে পড়ে রইলো সেই লাশ ময়নাতদন্ত ছাড়া কি করে দাফন করা হলো।
অন্যদিকে এমন একটি অস্বাভিক মৃত্যু কোন প্রকার তদন্তছাড়া লাশের ময়নাতদন্ত ছাড়া থানায় কি করে অপমৃত্যু মামলা হিসেবে রজু হয়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিশস্ত একাধিক সূত্র জানিয়েছে তুষারের পিতা সিরামিক ব্যবসায়ি মোঃ আমীন’র টাকার কাছে বিক্রি হয়ে গেছে টঙ্গী থানার পুলিশের অধিকারিরা।
এদিকে পিতৃহারা সাথী বৃদ্ধ মাকে বুঝানো হয়েছে ছেলের বাপের অনেক টাকা আছে আপনি মামলা কওে কিছুই করতে পারবেন না। তাছাড়া আপনি নোয়াখালী থেকে এসে কিভাবে মামলার খোঁজ-খবর নিবেন ? আর মামলা হলেও তো আপনার মেয়ে ফিরে আসবে না ইত্যাদী ইত্যাদী। সন্তানহারা বৃদ্ধ মা বুক ভরা ব্যাথা নিয়ে শূণ্য হাতে ফিরে গেলেন না পেলেন বিচার না থাকলো সন্তান।
পরিশেষে দেশের আইন শৃংখলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, রাজনীতিবিদ, সুশীলসমাজ সহ সচেতন মহলের কাছে প্রশ্ন টাকার কাছে এমন আর কত সাথীর জীবনের বলি চড়তে হবে ? আর কত বৃদ্ধ মা বুকভরা হাহাকার নিয়ে জীবনের বাকী দিন পার করতে হবে? আর কত তুষারের জন্ম হবে? আর কত আমীন সাহেব টাকার জোরে সন্তানের জঘন্য অপরাধ ধামা চাপাদেবে ? নাকি ৩০ লাখ শহীদের রক্তে অর্জিত এই বাংলাদেশে এভাবেই বিচারের বাণী নিবরে কাঁদতে থাকবে
লেখক-মো. রফিকুল ইসলাম,সংবাকর্মী।