এক সন্তানের জননী আকলিমার পরকীয়ার শিকার ॥ প্রেমিক রাজ মিস্ত্রী তাঁরা মিয়াকে গনধোলাই দিয়ে হত্যা ॥ আটক-৩

প্রকাশিত

মৃণাল চৌধুরী সৈকত : গাজীপুর মহানগরের মাঝুখান এলাকায় এক সন্তানের জননী বিধবা আকলিমার পরকীয়ার বলি হলেন প্রেমিক রাজ মিস্ত্রী তাঁরা মিয়া। তাকে চোর আখ্যা দিয়ে আকলিমার আত্বীয়-স্বজন ও স্থানীয় লোকজন গনধোলাই দিয়ে হত্যা করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল রোববার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে ওই গ্রামের মৃত আলাউদ্দিনের বাড়িতে।
স্থানীয় লোকজন জানায়, রাজ মিস্ত্রি তাঁরা মিয়াকে মোবাইল ফোনে ডেকে নিয়ে যায় কথিত প্রেমিকা মৃত আলাউদ্দিনের স্ত্রী এক সন্তানের জননী বিধবা আকলিমা বেগম। পরে সে ও তার সহোদর দুই ভাই আরজান মিয়া, মাজেদ মিয়া, তার মা মনোয়ারা বেগম ও তারার বন্ধু সোহেল মিলে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। এতে রাজি না হওয়ায় তাঁরা মিয়াকে চোর আখ্যা দিয়ে আম গাছের সাথে রশি দিয়ে বেঁধে লাঠিপেটা করতে থাকে। স্থানীয়রা আরো জানান, রোববার ফজরের নামাজ শেষে মসজিদ থেকে বেব হয়ে বাড়ি ফেরার সময় আমরা আকলিমার বাড়িতে যুবকের ডাক-চিৎকারের শব্দ শুনতে পাই। পরে আমরা আকলিমার বড়িতে ঢুকে দেখতে পাই ওই যুবকে আম গাছের সাথে রশি দিয়ে বেঁধে এলোপাতাড়ি লাঠিপেটা করেছে। এভাবে মারধর করার কারন জানতে চাইলে, আকলিমা ও তার মা মনোয়ারাসহ তার দুই ভাই আমাদেরকে অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করে আর বলে আপনাদের এখানে কি দরকার ? আপনার আমাদের বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান।
আমরা পূবাইল ফাঁড়ির পুলিশকে বিষয়টি অবগত করি। এ দিকে পুলিশ আসার খবর পেয়ে অভিযুক্তরা পালিয়ে যাওয়ার সময় মাজেদুল, আকলিমা ও তার মা মনোয়ারা বেগমকে জনতা আটক করে পুলিশে সোর্পদ করলেও আরজান ও নিহতের বন্ধু সোহেল কৌশলে পালিয়ে যায়। এদিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেখতে পায় তাঁরা মিয়া মারা গেছে। পরে পুলিশ লাশ উদ্ধার পূর্বক মর্গে প্রেরণ করেন ।
আকলিমা পার্শ্ববর্তী বড় কয়ের গ্রামের কফিল উদ্দিনের মেয়ে। ৯ বছর পূর্বে মাঝুখান গ্রামের আলাউদ্দিনের সাথে তার পারিবারি ভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের দুই বছরের মাথায় একটি ছেলে সন্তান রেখে তার স্বামী মারা যায়। তার পর থেকেই আকলিমা বিভিন্ন পুরুষের সাথে অসামাজিক কাজে জড়িয়ে পড়ে বলে স্থানীয়রা ও তার স্বামীর বড় দুই বোন শামীমা ও মোসলেমা এ প্রতিনিধিকে জানান। নিহত তাঁরা মিয়া তার মা বাবাকে নিয়ে অভিযুক্ত আকলিমার বাড়িতে ভাড়া থকতেন। তাদের পরকীয়ার কথা জানাজানি হলে গত ২ মাস আগে পার্শ্ববতী ফারুকের বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করে আসছিল। নিহত তাঁরা মিয়া টাঙ্গাইল জেলার ধনবাড়ি উপজেলার দড়িচন গ্রামের আব্দুল গফুরের ছেলে।
নিহতের মা সুরাইয়া বেগম জানান, ভোরে আকলিমা মোবাইল ফোনে আমার ছেলেকে ডেকে নিয়ে পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে তার মা ও তার সহোদর দুই ভাইসহ তাদের সহযোগীরা মিলে নির্মম ভাবে পিটিয়ে হত্যা করে।
এদিকে ঘটনার খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গাজীপুর সদর সার্কেল) মো. তোফাজ্জল হোসেন ঘটনাস্থল পরিদশর্ন করেন এবং নিহতের পরিবারকে সুষ্ঠ্য বিচারের আশ্বাস দেন। পুলিশ নিহতের লাশ ময়না তদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেন।
তাঁরা মিয়ার সাথে অভিযুক্ত আকলিমার অবৈধ সর্ম্পকের কথা অস্বীকার করে আকলিমা বলেন, ভোর ৫টার দিকে ডাকাতির উদ্যেশে আমাদের বাড়িতে প্রবেশ করলে আমরা কয়েকজন মিলে তাকে উঠানে গাছের সাথে বেধেঁ ফেলি। কি ভাবে তার মৃত্যু হয়েছে তা আমার জানা নেই।
এ বিষয়ে পুবাইল ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মো.শফিকুল ইসলাম জানান, পরকিয়া প্রেমের কারণে আকলিমার পরিবারের সদস্যরা তাকে পিটিয়ে হত্যা করেছে। এঘটনায় আকলিমা, তার ভাই মাজেদুল ও মা মনোয়ারাকে আটক করা হয়েছে। মামলার প্রস্তুতি চলছে।
##