এবারও অলিগলিতে পশু কোরবানি

প্রকাশিত

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে বুধবার (২১ জুলাই) ঈদের নামাজের পর থেকেই চলছে পশু কোরবানি। তবে প্রত্যেক বারের মতো এবারেও বিভিন্ন মোড় ও অলিগলির রাস্তায় পশু কোরবানি দেওয়া হচ্ছে। রাস্তার পরিবর্তে নিজ বাড়ির আঙ্গিনায় পশু কোরবানি দেওয়া জন্য নগরবসীকে অনুরোধ করা হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে তা মানা হয়নি। বিশেষ করে দক্ষিণ সিটি করপোরেশন আওতাভুক্ত এলাকার রাস্তায় পশু জবাই বেশি হয়েছে।

সকালে রাজধানীর দক্ষিণ বনশ্রী, খিলগাঁও, বাসাবো, গোরান, রামপুরা, মগবাজার, মালিবাগ এলাকা ঘুরে বিভিন্ন স্থানে গরু ও ছাগল কোরবানি করতে দেখা গেছে।

বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, গতবারের মতো এবারও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে পশু কোরবানির জন্য নির্ধারিত স্থান রাখা হয়নি। ফলে স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেদের উদ্যোগে অস্থায়ী শেড তৈরি করেছেন। এরপরেও পশু জবাই দেওয়া হয়েছে রাস্তায়। এতে ওই রাস্তাগুলোতে পথচারীদের চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। এ ছাড়া কোরবানি পশুর বর্জ্য নির্ধারিত স্থানে না ফেলে ড্রেনে ফেলতে দেখা গেছে।

বাসাবো টেম্পু স্ট্যান্ড এলাকার  বাসীন্দা হাজী আব্বাস উদ্দিন জানান, গতবারের মতো এবারও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে পশু জবাই দেওয়ার জন্য নির্ধারিত স্থান করে দেওয়া হয়নি। ফলে অনেকেই রাস্তায় পশু কোরবানি দিচ্ছেন। তবে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে বাড়ির আঙ্গিনায় পশু জবাই দেওয়ার জন্য গত কয়েক দিন ধরে মাইকিং করেছে। সিটি করপোরেশন যদি প্রতিটি এলাকায় পানি  ছিটানোর ব্যবস্থা করতো তাহলে ভালো হতো।

একইরকম ভাবে দক্ষিণ বনশ্রী প্রজেক্ট, গোড়ান, খিলগাঁও, রামপুরা এলাকার বিভিন্ন রাস্তায় কোরবানির পশু জবাই করতে দেখা গেছে। রক্ত অপসারণে স্থানীয়দের কোনও উদ্যোগ দেখা যায়নি। সিটি করপোরেশন জানিয়েছে দুপুর ২টার পর তাদের পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা রাস্তায় নামবেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে দক্ষিণ সিটির জনসংযোগ কর্মকর্তা আবু নাছের বলেন, ‘পশু জবাই করার জন্য নির্ধারিত স্থান গত কয়েক বছর করা হয়েছিল। তবে সেখানে মানুষ চান না। এতে অর্থের অপচয় হয়। ফলে সিটি করপোরেশনের পর্ষদ সভায় কাউন্সিলররা পশু জবাই করার জন্য নির্ধারিত স্থান নিয়ে আপত্তি জানান। তাদের আপত্তির পর থেকে গত দুই বছর ধরে ঈদে পশু জবাই দেওয়ার জন্য নির্ধারিত স্থান রাখা হয়নি। তবে নগরবাসীকে আমরা মাইকিং করে নিজ বাসার আঙ্গিনায় পশু জবাই দিতে অনুরোধ জানিয়েছি। আর দুপুরের পর আমাদের প্রায় ১০ হাজার পরিচ্ছন্নতাকর্মী মাঠে নামবেন। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সকল বর্জ্য অপসরণ করা হবে।’