এরশাদের সঙ্গে বিরোধী আসনে বসছেন মেনন-ইনু-মঞ্জুও!

প্রকাশিত
ডেস্ক নিউজ: দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করেছে জাতীয় পার্টি। কিন্তু তখন বিরোধী দলের পাশাপাশি সরকারের  মন্ত্রীসভায় তিনজন মন্ত্রী থাকায় দেশের বিদেশে জাপা ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছিল। তাছাড়া বিরোধী দলীয় নেতা হিসেবে বেগম রওশন এরশাদের ভূমিকাও তেমন কার্যকর ছিল না। কিন্তু এবার মন্ত্রী পরিষদে যোগ দেয়নি  জাতীয় পার্টি। সরাসরি প্রধান বিরোধী দলের  ভূমিকায় থাকছে এরশাদের জাপা।
সেই সঙ্গে বিরোধী দলীয় নেতার চেয়াররে বসছেন জাপা চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। ১৪ দলীয় জোটের অন্যতম নেতা  বাংলাদেশের ওর্কার্কাস পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু ও জাতীয় পার্টি-জেপির সভাপতি আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর মত সিনিয়র নেতারা মন্ত্রীসভা থেকে বাদ পড়ায় তারা এরশাদের সঙ্গে সংসদে বিরোধী দলের জন নির্ধারিত চেয়ারে বসতে যাচ্ছেন।
এ প্রসঙ্গে ১৪ দলের সমন্বয়ক ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলী সদস্য মোহাম্মদ নাসিম বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছা সরকার ও বিরোধী দলে থাকুক মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ শক্তি। তাই সরকারে না  থেকে সংসদের  ভেতরে ও বাইরে ভূমিকা রাখতে পারে শরিকেরা। আওয়ামী লীগের ওপর নির্ভররা কমিয়ে তাদের সাংগঠনিক শক্তিও বাড়াতে পারে। জানা গেছে, সরকারের মন্ত্রী পরিষদে না রাখলেও জাতীয় পার্টি থেকে অন্ত পাঁচ জন ও  ওর্য়ার্কাস পার্টি, জাসদ ও জেপির সভাপতিকে স্থায়ী কমিটির সভাপতি মনোননিত করতে পারেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
খোঁজ খবর নিয়ে জানা গেছে, এক সঙ্গে আন্দোলন এক সঙ্গে সরকার গঠন এই নীতি সামনে রেখেই আওয়ামী লীগের সঙ্গে  আদর্শিক জোট ১৪ দল গঠন করেছিলেন ওর্য়ার্কাস পার্টি, জাসদ, সাম্যবাদী দল, ন্যাপ সহ আরো ছোট ছোট কয়েকটি বাম প্রগতিশীল রাজনৈতিক দল। এর মধ্যে যুক্ত হয় জাতীয় পার্টি জেপি ও ধর্মভিত্তিক রাজনৈদিক দল তরিকত ফেডারেশন। ১৪ দলের পাশাপাশি এরশাদের জাতীয় পার্টিকে নিয়ে বিগত ২০১৮ সালের নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগ গঠন করে নির্বাচনি মহাজোট। নির্বাচনে মহাজোট বিজয়ের পর সরকার গঠন করলে সে সরকারের শরীক হয় জাতীয় পার্টি, সাম্যবাদী দল, ও জাসদ।  একই ভাবে ২০১৪ সালে বিএনপি বিহীন নির্বাচনেও মহাজোটের সরকার গঠন করেন আওয়াম লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেই সরকারের জাতীয় পার্টির তিন জনের পাশাপাশি মন্ত্রিসভায় স্থান পায় জাসদ সভাপতি হাসানুল ইক ইনু, ওর্য়ার্কাস পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন ও জেপির সভাপতি আনোয়ার হোসেন মঞ্জু।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১৪ দলের পাশাপাশি জাতীয় পার্টিকে নিয়ে মহাজোট করে নির্বাচন করে আওয়ামী লীগ। নির্বাচনে মহাজোটের মহাবিজয়ের পর  সরকারও গঠন করেন আওয়াম লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা। কিন্তু এবার সেই সরকারের নেই মহাজোটের অন্যতম প্রধান শরীক জাতীয় পার্টি। জাতীয় পার্টির এবার বসছেন প্রধান বিরোধী দলের চেয়ারে। ইতিমধ্যে জাপা চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে বিরোধী দলীয় নেতা ও জি এম কাদেরকে বিরোধী দলীয় উপনেতা মনোনিত করা হয়েছে।
জাতীয় পার্টির ২২ জন সংসদ সদস্যেরে পাশাপাশি জাসদ ওর্য়ার্কাস পার্টি, জেপি ও তরিকত ফেডারেশন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা। সেই হিসেবে এবার ওর্য়ার্কর্কাস পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, জাসদ সভাপতি হাসানুল ইক ইনু, ও জেপির সভাপতি আনোয়ার হোসেন মঞ্জুও বসবেন সংসদের বিরোধী দলের জন্য নির্ধারিত আসনে।
ইতিমধ্যে আওয়াম লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ও জাতীয় পার্টির মহাসচিব মশিউর রহমান রাঙ্গাঁও ১৪ দলের শরীকদের বিরোধী দলের  থাকার ব্যপারের ইতিবাচক মন্তব্য করেছেন।
এই ব্যাপারে  আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, গণতন্ত্রের স্বার্থে শক্তিশালী বিরোধী দল প্রয়োজন, জাতীয় পার্টি যেহেতু সংসদ প্রধান বিরোধী দলের দায়িত্ব পালন করবে, তাই আমি মনে করি আমাদের আদর্শিক জোট ১৪ দলের শরীকরাও সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করলে দেশের জন্য মঙ্গলজনক হবে।
জাতীয় পার্টির মহাসচিব মশিউর রহমান রাঙ্গাঁও ১৪ দলের শরীকদের বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করার আহবান জানিয়ে বলেছেন, আমাদের সঙ্গে ১৪ দলের শরীকরাও যদি সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকায় থাকে তাহলে তা সংসদকে কার্যকর করতে ভূমিকা রাখবে।