এশিয়া কাপে টাইগারদের গর্জন দিয়ে শুরু

প্রকাশিত

খেলাধুলা ডেস্কঃ গর্জন দিয়ে এশিয়া কাপ শুরু করেছে টাইগাররা। এশিয়া কাপের ১৪তম আসরে উদ্বোধনী ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ১৩৭ রানে বিশাল জয় পেয়েছে স্টিভ রোডসের শিষ্যরা। এশিয়ার ক্রিকেটের অন্যতম পরাশক্তি শ্রীলঙ্কা। তাদের এভাবেও হারানো যায়? টাইগাররা পারে বলেই দেখিয়েছে। মরুর বুকে যেন খুশির বান। ১৯৯৫ সালে প্রথমবার সংযুক্ত আরব আমিরাতে খেলেছিল বাংলাদেশ। প্রায় দুই যুগ পর খেলতে নেমেই বাজিমাত।

মাশরাফি বিন মুর্তজার নেতৃত্বে একের পর আঘাত লঙ্কান শিবিরে। উইকেট যেন মুড়ি-মুটকি। কিন্তু শুরুটা ছিল বিবর্ণ।
বাংলাদেশ অধিনায়ক ইনিংসের প্রথম ওভারে দিলেন ১৩ রান। পরের ওভারেও মুস্তাফিজুর রহমানের ওভারেও চড়াও হন উপল থারাঙ্গা। মারলেন টানা দুই চার। এমন একটা পরিস্থিতি মুস্তাফিজ সামাল দিলেন মাথা ঠাণ্ডা রেখে। টানা দুই চার দেয়ার ঠিক এক বল পরেই লেগ বিফোরের ফাঁদে লঙ্কান ওপেনার কুশল মেন্ডিস। ফিরে গেলেন ব্যক্তিগত শূন্য রানে।

খরুচে প্রথম ওভারের পর মাশরাফি নিজের দ্বিতীয় ওভার করতে এসে থারাঙ্গাকে ফেরালেন বোল্ড আউট করে। নিজের তৃতীয় ওভারে এসে আবারও দলপতি আঘাত হানলেন। এই ওভারের চতুর্থ বলে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেললেন ধনঞ্জয়া ডি সিলভাকে। ধনঞ্জয়া ফিরলেন শূন্য রানে।

মরুর বুকে মিরাজও যেন উইকেটের বৃষ্টি নামালেন। নিজের প্রথম ওভারেই ফেরালেন তিন নম্বরে ব্যাট করতে আসা কুশল পেরেরাকে। লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়ে বাম-হাতি এই ব্যাটসম্যান বিদায় হলো ১১ রানে। ৩৮ রানে যখন ৪ উইকেট নেই ততক্ষণে আর ব্যাটিং লাইন আপের মেরুদণ্ড সোজা থাকার কথা নয়। তবু চেষ্টা চালিয়ে যান লঙ্কানরা। দাসুন সানাকাকে নিয়ে অধিনায়ক অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজ ২২ রানের জুটি গড়েন।

দলীয় ৬০ রানের মাথায় রান আউটের কবলে পড়েন শানাকা। বল হাতে নিজের প্রথম ওভারেই উইকেট তুলে নেন রুবেল হোসেন। ১৬ রান করা ম্যাথুজকে এলবিডব্লিউ ফাঁদে ফেলে ফেরান তিনি। পরের ওভারে মিরাজ তুলে নেন থিসারা পেরারার উইকেটটি।

নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পড়তে থাকা লঙ্কানদের খাদের কিনারা থেকে টেনে তোলার চেষ্টা লোয়ার অর্ডারে ব্যাট করতে আসা দিলরুয়ান পেরেরা আর সুরাঙ্গা লাকমলের ২৭ রানের জুটি খানিকটা ভোগায়। তবে মুস্তাফিজ স্বস্তি দেন। ২৫ বলে ২০ রান করা লাকমলকে বিদায় করেন কাটার মাস্টার।

শেষ দিকে দিলরুয়ান পেরারা আর আমিলা আপোনসো ২৪ রানের জুটি গড়ে। ৪৪ বলে ২৯ রান করে দিলরুয়ান মোসাদ্দেক হোসেনের বলে স্টাম্পিংয়ের শিকার হন। অন্যদিকে সাকিব আল হাসানের বলে ৩১ বলে ৪ রান করা আপোনসো ধরা পড়েন বদলি ফিল্ডার নাজমুল অপুর হাতে। ৩৬.২ ওভারে ১২৪ রানে অল আউট হয় চণ্ডিকা হাথুরুসিংহের শিষ্যরা। এতে ১৩৭ রানের বিশাল জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে মাশরাফির দল।

এর আগে ব্যাট করতে নেমে ৫০ ওভারে সব উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ সংগ্রহ করে ২৬১ রান। ওয়ানডে ক্রিকেটে ২৬২ রান খুব বড় সংগ্রহ নয়। দুবাইয়ের ব্যাটিং সহায়ক উইকেটে তো সেটি আরও নয়। শনিবার টুর্নামেন্ট শুরুর ম্যাচে নাগালের মধ্যে থাকা লক্ষ্যটাকেই পাহাড়সম উচ্চতায় নিয়ে যান বাংলাদেশের বোলাররা।

মরুর বুকে বাংলাদেশের শুরুটাও ভালো ছিল না। শুরুতেই লিটন দাস ও সাকিব আউট হয়ে সাজঘরে ফেরেন রানের খাতা না খুলেই। তামিম ইকবাল আঙুলে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়লে বিপদ আরও বাড়ে। বিধ্বস্ত অবস্থা থেকে মুশফিকুর রহিম ও মোহাম্মদ মিঠুনের ব্যাটে প্রতিরোধ গড়ে বাংলাদেশ। তাতে মেলে লড়াকু সংগ্রহের ভিত।

২২৯ রানে ৯ উইকেট হারানো বাংলাদেশের হয়ে তামিম শেষ জুটিতে না নামলে ওখানেই থামত ইনিংস। ঝুঁকি নিয়ে এ ওপেনার শেষে নামায় যোগ হয় আরও ৩২ রান। তাতেই বাংলাদেশ পায় ২৬১ রানের লড়াকু পুঁজি।

১৪৪ রানের ক্যারিয়ারসেরা ইনিংস খেলে মুশফিক দশম ব্যাটসম্যান হিসেবে যখন আউট হন তখন বাকি ইনিংসের ৩ বল। ৪৯.৩ ওভারে থামে বাংলাদেশ। মোহাম্মদ মিঠুনের (৬৩) সঙ্গে মুশফিকের তৃতীয় উইকেটে ১৩২ রানের জুটি, আর শেষটায় মুশফিকের মারমুখী ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ পায় লড়াকু সংগ্রহ। জিতে নিয়েছেন ম্যাচ সেরার পুরস্কারও

১৯৮৬ সালে প্রথম এশিয়া কাপে অংশ নেয় বাংলাদেশ। ২০১০ সাল পর্যন্ত ৯ বার এশিয়া কাপ খেলেছে টাইগাররা। কাঙ্খিত সাফল্যের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টাও করেছে। কিন্তু কোনবারই ফাইনালে উঠতে পারেনি বাংলাদেশ। অবশেষে ২০১২ সালে বাংলাদেশের মনের আশা পূরণ হয়। ফাইনালে খেলে তারা। কিন্তু রানার্স-আপ হয়েই শান্ত থাকতে হয় টাইগারদের। পরের আসরে আবারো ব্যর্থতার ষোলোকলা পূর্ণ করে বাংলাদেশ। তবে ব্যর্থতার ষোলোকলা পরের আসরেই মুছে ফেলে টাইগাররা। মাশরাফির নেতৃত্বে আবারো এশিয়া কাপের ফাইনালে ওঠে বাংলাদেশ। কিন্তু এবারও ভাগ্য সহায় হয়নি বাংলাদেশের। এবার ভারতের কাছে হার মেনে দ্বিতীয়বারের মত রানার্স-আপ হয় টাইগাররা।

তবে এবার পুরনো দুঃখ ভুলে যেতে চায় বাংলাদেশ। অতীতের ভালো পারফরমেন্স বাংলাদেশকে অনুপ্রেরণা দিবে বলে মনে করেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা।