‘এ মাসেই ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য সমঝোতা স্বাক্ষর’

প্রকাশিত

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক: ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য বৃদ্ধি এবং রপ্তানির প্রতিবন্ধকতা দূর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ।

তিনি বলেছেন, বাণিজ্য বৃদ্ধি এবং রপ্তানির প্রতিবন্ধকতা দূর করতে উভয় দেশের মধ্যে প্রিফারেনশিয়াল ট্রেড এগ্রিমেন্ট (পিটিএ) স্বাক্ষরের বিষয়ে জয়েন্ট মিনিস্ট্রিয়াল স্টেটমেন্ট এ মাসেই স্বাক্ষর করা হবে। এ মাসের শেষে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের বাংলাদেশ সফরের সময় উভয় দেশের বাণিজ্যমন্ত্রীর মধ্যে এ জয়েন্ট মিনিস্ট্রিয়াল স্টেটমেন্ট স্বাক্ষর হবে।

ঢাকায় নিযুক্ত ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রদূত মিসেস রিনা সোয়েমারনোর সঙ্গে সোমবার দুপুরে সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘ইন্দোনেশিয়ার উচ্চ শুল্ক হারের কারণে বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য তৈরি পোশাক রপ্তানিতে সমস্যা হচ্ছে। বাণিজ্য বৃদ্ধি করতে উভয় দেশের ব্যবসায়ীদের পারস্পরিক দেশ সফরের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। উভয় দেশের ব্যবসায়ীগণ সেক্টর চিহ্নিত করে বাণিজ্য বৃদ্ধি করবে।’

তিনি বলেন, ‘উভয় দেশের বাণিজ্য বৃদ্ধির নতুন সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। এ সুযোগকে কাজে লাগাতে হবে। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সিদ্ধান্ত মোতাবেক এলডিসিভুক্ত দেশ হিসেবে ইন্দোনেশিয়ায় পণ্য রপ্তানিতে ডিউটি ফ্রি ও কোটা ফ্রি বাণিজ্য সুবিধা পাওয়ার কথা বাংলাদেশের। কিন্তু বাংলাদেশকে এ বাণিজ্য সুবিধা প্রদান করা হচ্ছে না। পণ্য রপ্তানিতে ডিউটি ফ্রি ও কোটা ফ্রি বাণিজ্য সুবিধা প্রদানের জন্য ইন্দোনেশিয়ার প্রতি আহবান জানানো হয়েছে।’

ইন্দোনেশিয়া বাংলাদেশের বন্ধু রাষ্ট্র উল্লেখ করে তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘বিপুল সম্ভাবনা থাকার পরও উচ্চ শুল্ক হারসহ বিভিন্ন বাণিজ্যিক জটিলতার কারণে প্রত্যাশিত বাণিজ্য হচ্ছে না। গত ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরে বাংলাদেশ মাত্র ৪৬.৩৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য রপ্তানি করেছে। একই সময়ে আমদানি করেছে ১১০৭.১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য। প্রিফারেনশিয়াল ট্রেড এগ্রিমেন্ট সাক্ষর হলে শুল্ক হার কমানোসহ বাণিজ্য জটিলতা দূর করে ইন্দোনেশিয়ায় বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্য বৃদ্ধি করা সম্ভব হবে।’

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ নিম্ন আয়ের দেশ (এলডিসি) থেকে উন্নয়নশীল (ডেভলপিং) দেশের কাতারে প্রবেশ করতে যাচ্ছে। উন্নয়নশীল দেশের কাতারে প্রবেশ করার সকল শর্ত বাংলাদেশ ইতোমধ্যে পূরণ করেছে। ডেভলপিং কান্ট্রিতে পরিণত হতে যে তিনটি শর্ত পূরণ করতে হয়, তা বাংলাদেশ অর্জন করেছে।

প্রথমত, মাথাপিছু আয় ১২৪২ মার্কিন ডলার হতে হয়, বর্তমানে বাংলাদেশের মানুষের মাথাপিছু আয় ১৬১০ মার্কিন ডলার। দ্বিতীয়ত, মানব সম্পদের উন্নয়ন অর্থাৎ দেশের ৬৬ ভাগ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত হতে হয়, বর্তমানে বাংলাদেশের ৭২.৯ ভাগ মানুষের জীবনযাত্রার মানের উন্নতি হয়েছে। তৃতীয়ত, অর্থনৈতিক ভাবে ভঙ্গুর না হওয়ার মাত্রা ৩০ ভাগের নীচে হতে হয়, বাংলাদেশে এ মুহূর্তে তা ২৫ ভাগ।’

বাণিজ্য সচিব শুভাশীষ বসু, অতিরিক্ত সচিব (রপ্তানি-২) তপন কান্তি ঘোষ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।