করোনাকালে ​সেক্সের আগে মাস্ক অবশ্যই !

প্রকাশিত

সিক্স, লাইফস্টাইল-

মানুষকে স্পর্শ করার নিয়মটাই যেন বদলে দিল সামান্য একটা ভাইরাস! তবে হাহুতাশ করে লাভ নেই! সতর্কতা জরুরি। এখনও পর্যন্ত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং সেন্টার ফর ডিসিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন-এর তরফে সেক্স সংক্রান্ত কোনও জরুরি বিধি নিয়ে আলোচনা করা হয়নি। তবে হার্ভাড বিশ্ববিদ্যালয়ের একজল গবেষক এই বিষয়ে উল্লেখযোগ্য কিছু তথ্য তুলে ধরেছেন। যার প্রথমটাই হচ্ছে, সেক্স করার আগে মাস্ক পরে নিতে হবে। কারণ, যৌন মিলনের সময়ে উত্তেজনা থাকে তুঙ্গে। সেই সময়ে সতর্কতার বিষয়গুলি মাথায় কাজ করে না। তাই আগে ভাগেই মাস্ক পরে নিলে অলেক বিপদই এড়ানো সম্ভব। ঠিক এমনই ধারণা হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই গবেষকদের।

​নিরাপদ সেক্স কি আদৌ সম্ভব –

করোনাভাইরাস ছড়াতে পারে, কোনও সংক্রামিত ব্যক্তির হাঁচি বা কাশির ড্রপলেট অন্য কোনও মানুষের শরীরে প্রবেশ করলে। তাই সেক্সে সেই ঝুঁকি থেকেই যায়। এখন যদি আপনার পার্টনার করোনা আক্রান্ত হয়ে থাকেন, বা উপসর্গ দেখা দিতে শুরু করে, তাহলে সেক্স তো বহু দূরের কথা। আপনি পাশে বসলেই সংক্রামিত হতে পারেন। তাই বিশেষজ্ঞরা সেক্স কেন, এমনিতেই সব সময়ই মাস্ক ব্যবহার করার পরামর্শ দিচ্ছেন।

​নিরাপদ সেক্স নিয়ে ঠিক কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা –

ei samay

হার্ভাড বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই গবেষকেরা যে রিসার্চটি করেছেন তার নাম ‘Sexual Health in the SARS-CoV-2 Era’। এই রিসার্চ তখনই করা হয়েছে, যখন ব্রিটেনে সেক্সের জন্য পার্টনারদের এক বাড়িতে থাকা বেআইনি করা হয়েছে। সেখানে যদিও এমন নিয়ম আনার ক্ষেত্রে ‘সেক্স’ শব্দটি উল্লেখ করা হয়নি। তবুও ‘স্পর্শ’ শব্দের উল্লেখ বিশেষ ভাবে করা হয়েছে। সেই রিসার্চ থেকে আরও যে উল্লেখযোগ্য বিষয়গুলি উঠে এসেছে, সেগুলি আরও ভয়ংকর।

কোভিডযুগে সেক্স এক্কেবারেই নিরাপদ নয় –

ei samay

গবেষকরা একপ্রকার বলেই দিচ্ছেন যে, এই করোনার সময়ে সেক্স এক্কেবারেই নিরাপদ নয়। কারণ কারও সঙ্গে এই মুহূর্তে যৌন মিলন করাটা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। তা সে পার্টনার হলেও খুবই রিস্ক দেখছেন হার্ভাড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা। শুধু তাই নয়। এই লকজাউনের সময়ে আমরা মানসিক ভাবেও বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছি। ওই গবেষকরা বলছেন, সেক্সের পর আমাদের মানসিক অবসাদ বাড়বে বই কমবে না! কারণ আবেগের বশে একবার সেক্স হয়ে গেলে আমাদের মাথায় ঘোরেফেরা করবে একটাই চিন্তা! আমি সংক্রামিত হয়ে পড়ব না তো?

​আপনার নিরাপদ সেক্স পার্টনার একমাত্র আপনিই –

ei samay

হ্যা! কথা হচ্ছে হস্তমৈথুনেরই। করোনাভাইরাস সংক্রামিত হওয়ার শুরু দিকেই নিউইয়র্কে পরিষ্কার জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল যে, হস্তমৈথুন বা স্বমেহন থেকে কোনও প্রকারে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ সম্ভব নয়। তবে অতি অবশ্যই হস্তমৈথুন বা স্বমেহনের আগে এবং পরে খুব ভালো করে হাত ধুতে হবে। চাইলে সেক্স টয়ের ব্যবহারও করা যেতে পারে। তবে সে ক্ষেত্রেও কমপক্ষে ২০ সেকেন্ড ধরে হাত ধোয়া বাধ্যতামূলক।

​একই ছাদের তলায় যুগলে অনেক দিন থাকলে চলতে পারে সেক্স –

ei samay

ধরুন আপনার স্বামী আর আপনি এই লকডাউনের সময়ে এক সঙ্গেই বাড়িতে আছেন। কাউকে কোথাও বেরোতে হয়নি। আর এতসবের পরেও যদি দুজনেরই করোনাভাইরাসের রিপোর্ট নেগেটিভ আসে, তাহলে অবশ্যই সেক্স করতে পারেন। তাতেও যে এক্কেবারে ঝুঁকি নেই, সে কথা কখনই বলছেন না হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই গবেষকেরা। তবে তাঁদের কথায় স্পষ্ট, বিষয়টি কম ঝুঁকিপূর্ণ। তবে আপনার পার্টনার একবার বাড়ি থেকে বেরিয়ে জরুরি জিনিসপত্র কিনতে গেলেই চাপ হয়ে দাঁড়াতে পারে। তখন অতি সুখদায়ক সেক্সই মাথা ব্যথার অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

​একসঙ্গে থাকেন না এমন কারও সঙ্গে সেক্সের ক্ষেত্রে যে বিষয়গুলি মাথায় রাখতে হবে –

ei samay
  • প্রেমিকের সঙ্গে সেক্স করতেই পারেন। কিন্তু প্রেমিক যে থাকে, তাঁর বাড়িতে। আর আপনি পড়ে রয়েছেন আপন গৃহে। সেক্ষেত্রে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই গবেষকেরা বেশ কিছু সতর্কতা অবলম্বন করতে বলছেন। যেমন –
  • সেক্স করার আগে এবং পরে অতি অবশ্যই স্নান করে নিন।
  • একাধিক পার্টনারের সঙ্গে যৌনমিলনে প্রভূত ঝুঁকি। তাই একগামী হওয়ার রাস্তায় হাঁটুন।
  • চুমু কোনও মতেই না। কারণ চুম্বন থেকেই করোনাভাইরাসের সংক্রমণের সবথেকে বেশি আশঙ্কা।
  • সেক্স করার আগে মাস্ক পরুন।
  • ফেস টু ফেস কন্ট্যাক্ট এড়াতে নানাবিধ ক্রিয়েটিভ পোজ সেক্সে নিয়ে আসুন। তাতে মানসিক অবসাদও কমবে। আর ঝুঁকিও এড়ানো যাবে।
  • যে জায়গায় সেক্স করলেন, সেই জায়গা ভালো করে ডিসইনফেক্ট করে নিন। হয় সাবান জলে ধুয়ে ফেলুন না হলে স্যানিটাইজার দিয়ে ভালো করে পরিষ্কার করে নিন। যাতে সংক্রমণের সমস্ত ঝুঁকি এড়ানো যায়।
  • আরও নিরাপদ হওয়ার জন্য সেক্সের পূর্বে চাইলে কন্ডোম ব্যবহার করুন এবং ডেন্টাল ড্যামও ব্যবহার করুন।